
মো: ইমরান হোসেন:- ২০১৯ সালের ১৮ মার্চ পার্বত্য রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সংঘটিত হয় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিতে নিহত হন ৮ জন এবং আহত হন অন্তত ৩২ জন।
ঘটনার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়নি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ বুধবার বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত-নিহত পরিবার পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

দিনের শুরুতে নিহতদের স্মরণে স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে আহত-নিহত পরিবারের সদস্য, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সাত বছরেও তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। মামলার কার্যক্রম দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা হতাশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পার হলেও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়নি। অজানা কারণে বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতির এবং মামলার অগ্রগতি রহস্যজনকভাবে স্থবির হয়ে আছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আলোচনা সভায় আহতদের মধ্য থেকে কয়েকজন তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ঘটনার শারীরিক ও মানসিক ক্ষত এখনো তারা বয়ে বেড়াচ্ছেন। অনেকেই এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। তবে তাদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা, পুনর্বাসন কিংবা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে জানান তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু বিচার নয়—স্থায়ী পুনর্বাসন, পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি।

মানববন্ধন শেষে একটি স্মারকলিপি উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাঘাইছড়ি উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি মুক্তার হোসেন সোহেল এবং সাধারণ সম্পাদক আবসার উদ্দীন।
তারা বলেন, “বাঘাইছড়ির সেই রক্তাক্ত ১৮ মার্চ আজও ভুক্তভোগীদের জীবনে এক অমোচনীয় ক্ষত হয়ে রয়েছে। দ্রুত বিচার এবং সম্মানজনক পুনর্বাসনের মাধ্যমেই এই ক্ষত কিছুটা লাঘব করা সম্ভব।”
স্থানীয়দের আশা, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দীর্ঘদিনের এই ন্যায়বিচারের দাবি বাস্তবে রূপ পাবে।