শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যের কিছু স্মৃতি ও বর্তমান ইরান যুদ্ধ পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্ত সড়ক: অপার সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত রাঙ্গামাটির বনরুপা উত্তর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির স্নেহাশীষ চাকমা আশীষ ও সাধারণ সম্পাদক জিকেসন চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আইনি সমীকরণ: ব্যারিস্টার মীর হেলালের নিয়োগ কেন সাংবিধানিক ও সময়োপযোগী চয়ন পার্বত্য অঞ্চলে ৭ পয়েন্ট দিয়ে সশস্ত্রগোষ্ঠীর কাছে ঢুকছে অস্ত্র; হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ অস্ত্রের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক সরবরাহ ও খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ধাক্কা শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুতে ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে না, দাবি বিশ্লেষকদের মার্কিন হামলায় লারিজানি-সলেমানি নিহতের খবর নিশ্চিত করলো ইরান ইরানের হামলায় নিহত ২০০ মার্কিন সেনা, আহত ৩০০০: প্রেস টিভি রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আইনি সমীকরণ: ব্যারিস্টার মীর হেলালের নিয়োগ কেন সাংবিধানিক ও সময়োপযোগী চয়ন

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৭ দেখা হয়েছে

রাঙ্গামাটি ডেস্ক:- পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি ও ভূ-প্রকৃতি যেমন রহস্যময়, এর প্রশাসনিক সমীকরণগুলোও ঠিক ততটাই জটিল। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর পাহাড়ের ৩৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক যে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন, তা গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিচায়ক হলেও এর আইনি ও কৌশলগত ভিত্তি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণের অবকাশ রয়েছে। একজন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক হিসেবে আমি মনে করি, এই প্রতিবাদটি মূলত ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির একটি আক্ষরিক ও সংকীর্ণ ব্যাখ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা বৃহত্তর জাতীয় সংহতি এবং বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পাহাড়ের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। আমাদের বুঝতে হবে, ১৯৯৭ সালের চুক্তির (ঘ) খণ্ডের ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে একজন মন্ত্রী নিযুক্ত হবেন যিনি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন। এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমান সরকার রাঙামাটির সংসদ সদস্য জনাব দীপেন দেওয়ানকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সেই চুক্তির প্রধান আইনি শর্তটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। ফলে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে একজন দক্ষ আইনজ্ঞ ও সমতলের জনপ্রতিনিধিকে নিয়োগ দেওয়া কোনোভাবেই চুক্তির লঙ্ঘন নয়, বরং এটি প্রশাসনিক গতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ গঠন এবং সদস্যদের দফতর বণ্টন সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৯ ধারার মূল চেতনা হলো নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পাহাড়ের মানুষের কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করা। যখন একজন পাহাড়ী নেতা পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ক্যাবিনেটে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তখন মন্ত্রণালয়ের আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য ব্যারিস্টার মীর হেলালের মতো একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। পাহাড়ের প্রধানতম সংকট হলো ভূমি বিরোধ। দশকের পর দশক ধরে ভূমি কমিশন কার্যকর না হওয়ার পেছনে আইনি জটিলতাই ছিল প্রধান বাধা। ব্যারিস্টার মীর হেলাল, যিনি উচ্চ আদালতে একজন লব্ধপ্রতিষ্ঠ আইনজীবী এবং যার আইনি ব্যুৎপত্তি সর্বজনস্বীকৃত, তিনি এই জটিল জট খুলতে যে ভূমিকা রাখতে পারবেন, তা কেবল নৃ-তাত্ত্বিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে মেধা ও দক্ষতার যে সমন্বয় প্রয়োজন, বর্তমান সরকার ঠিক সেই জায়গাটিতেই কুশলী চাল চেলেছে।

অর্থনৈতিকভাবে বিচার করলে দেখা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ। এই বিশাল অঞ্চলের জিডিপিতে অবদান বর্তমানে ৩.৫ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করলেও এর সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি। পাহাড়ের এই সুপ্ত অর্থনৈতিক শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে প্রয়োজন সমতলের বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে এক শক্তিশালী সেতুবন্ধন। ব্যারিস্টার মীর হেলাল চট্টগ্রামের হাটহাজারী (চট্টগ্রাম-৫) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। ভৌগোলিকভাবে হাটহাজারী হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার। পাহাড়ের অর্গানিক কৃষিপণ্য, পর্যটন এবং ক্ষুদ্র শিল্প যখন বন্দরের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে চাইবে, তখন হাটহাজারী ও চট্টগ্রামের সংযোগ অপরিহার্য। মীর হেলালের নিয়োগ পাহাড় ও সমতলের মধ্যকার সেই বাণিজ্যিক দেয়ালটি ভেঙে দেবে। এটি কোনো একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দেশনায়ক তারেক রহমানের সেই কালজয়ী ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতি দর্শনের এক বাস্তব প্রয়োগ। রেইনবো নেশন মানে কেবল নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর আলাদা অবস্থান নয়, বরং সবার রঙে একাকার হয়ে একটি শক্তিশালী জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলা। যেখানে পাহাড়ী-বাঙালি বিভেদ থাকবে না, বরং সবাই হবে উন্নয়নের সমান অংশীদার।

মীর হেলালের নিয়োগ নিয়ে যারা ‘অ-পাহাড়ী’ তকমা দিচ্ছেন, তারা সম্ভবত পাহাড়ের বর্তমান জনতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এড়িয়ে যাচ্ছেন। পাহাড়ে বসবাসরত প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা আজ বাঙালি। তারা এই মাটিরই সন্তান, দেশের মূল স্রোতধারার নাগরিক। রেইনবো নেশন দর্শনের আলোকে তারেক রহমান এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন যেখানে রাষ্ট্র কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘প্রান্তিক’ হিসেবে দেখবে না। যদি একটি মন্ত্রণালয়ের সকল স্তর কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত থাকে, তবে তা অন্য বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে বঞ্চনার সৃষ্টি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে পাহাড়ের শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। দীপেন দেওয়ান ও মীর হেলালের এই সমন্বয় আসলে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ বা ক্ষমতার ভারসাম্য। একজন পাহাড়ের আবেগ ও ঐতিহ্য রক্ষা করবেন, অন্যজন পাহাড়ের প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিকায়ন ও আইনি ভিত্তি প্রদান করবেন। এটি একটি টিম-ওয়ার্ক, যা পাহাড়ের মানুষকে দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে মুক্তি দেবে।

এখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সভাপতি ও বাংলাদেশের আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার অগ্রপথিক জনাব তারেক রহমানের দূরদর্শিতার কথা না বললেই নয়। তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং তিনি একজন আধুনিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তাঁর ঘোষিত ‘৩১ দফার রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক টার্নিং পয়েন্ট। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, ১৯৯৭ সালের চুক্তির পরও পাহাড়ে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তার কারণ ছিল সুশাসনের অভাব এবং বিনিয়োগের প্রতি অনীহা। তারেক রহমানের এই সাহসী সিদ্ধান্ত—একপাশে পাহাড়ের অভিজ্ঞ নেতাকে পূর্ণমন্ত্রী করা এবং অন্যপাশে তরুণ, মেধাবী ও আইনি শিক্ষায় শিক্ষিত মীর হেলালকে প্রতিমন্ত্রী করা—প্রমাণ করে যে তিনি পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান। মীর হেলাল ছাত্রজীবন থেকেই একজন প্রখর মেধাবী ও পরিশ্রমী নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর নেতৃত্বের এই গুণাবলী পাহাড়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। জনাব তারেক রহমান মীর হেলালের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার পেছনে রয়েছে এই নেতার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ এবং মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম দায়বদ্ধতা।

বিবৃতিদাতা ৩৫ জন নাগরিকের উদ্বেগকে সম্মান জানিয়ে বলতে হয়, রেইনবো নেশন ধারণাটি একটি সম্প্রীতিমূলক রাষ্ট্রকাঠামো নিশ্চিত করে। এখানে ‘পাহাড়ী’ বনাম ‘অ-পাহাড়ী’ দ্বৈরথ তৈরির চেষ্টা করা মানে হলো সেই সম্প্রীতির মূলে আঘাত করা। দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা যখন রেইনবো নেশন গঠন করেছিলেন, তখন তিনি শ্বেতাঙ্গদের ওপর প্রতিশোধ নেননি বা তাদের প্রশাসনিক কাঠামো থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দেননি। বরং তিনি এক মিশ্র শাসনব্যবস্থা চালু করেছিলেন যা আজ দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদাপূর্ণ স্থানে বসিয়েছে। তারেক রহমানের দর্শনও ঠিক তাই। তিনি পাহাড়কে বাংলাদেশের একটি অবিচ্ছেদ্য এবং প্রাণবন্ত অংশ হিসেবে দেখেন। ব্যারিস্টার মীর হেলালের নিয়োগ সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিরই অংশ। মীর হেলাল একজন প্রথিতযশা আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে জানেন কীভাবে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করা যায়। তাঁর অধীনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি আধুনিক এবং স্মার্ট মন্ত্রণালয়ে রূপান্তরিত হবে, যেখানে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে প্রান্তিক জুমচাষীরাও তাদের অধিকার ফিরে পাবে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন খাতের প্রবৃদ্ধি বছরে প্রায় ১২ শতাংশ। কিন্তু এই পর্যটন যদি কেবল কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর পকেটে যায়, তবে তা পাহাড়ের সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসবে না। মীর হেলাল তাঁর নির্বাচনী এলাকার অভিজ্ঞতায় জানেন কীভাবে কমিউনিটি-বেজড ট্যুরিজম বা ‘সবুজ পর্যটন’ গড়ে তুলতে হয়। তাঁর নেতৃত্বে পাহাড়ে গড়ে উঠবে এমন পর্যটন শিল্প যা পরিবেশের ক্ষতি করবে না, বরং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ প্রকাশিত পাহাড়ের হৃদস্পন্দন: তারেক রহমানের রেইনবো নেশন ও আগামীর পার্বত্য চট্টগ্রাম’ বইটিতে যেভাবে একটি সংঘাতমুক্ত ও সমৃদ্ধ পাহাড়ের চিত্রকল্প আঁকা হয়েছে, মীর হেলালের নিয়োগ সেই লক্ষ্যের দিকেই একটি বড় পদক্ষেপ। তিনি কেবল একটি নির্দিষ্ট দলের বা গোষ্ঠীর মন্ত্রী নন, তিনি পাহাড়ের প্রতিটি বাসিন্দার প্রতিনিধি। তাঁরুণ্য ও অভিজ্ঞতার এই মিশ্রণ পাহাড়ের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

যারা এই নিয়োগকে চুক্তির পরিপন্থী বলছেন, তাদের উচিত চুক্তির ১৯ ধারার পাশাপাশি চুক্তির মূল চেতনা তথা ‘জাতীয় সংহতি’র দিকেও নজর দেওয়া। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। পাহাড়ের কোনো প্রশাসনিক পদে কেবল নৃ-তাত্ত্বিক পরিচয়ের কারণে কাউকে অযোগ্য ঘোষণা করা প্রকারান্তরে সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী হতে পারে। সরকার এখানে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়নি। দীপেন দেওয়ানের মতো ব্যক্তিত্বকে পূর্ণমন্ত্রী করার মাধ্যমে চুক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে, আবার মীর হেলালকে প্রতিমন্ত্রী করার মাধ্যমে প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রীর একটি দূরদর্শী ‘উইন-উইন’ স্ট্র্যাটেজি। মীর হেলাল চট্টগ্রামের রাজনীতির এক পরিচ্ছন্ন মুখ। তাঁর হাত ধরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাহাড়ে যাওয়ার যে সড়ক যোগাযোগ বা কানেক্টিভিটি, তার আমূল পরিবর্তন আসবে। তিনি পাহাড়ের মানুষকে আধুনিক শিক্ষার সাথে যুক্ত করার এবং সেখানে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা নিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত হলে আগামী দশ বছরে পাহাড়ের দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নেমে আসবে।

দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এক নতুন ভোরের অপেক্ষায়। ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের মতো একজন মেধাবী, দেশপ্রেমিক ও চৌকস আইনজীবীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া পাহাড়ের মানুষের প্রতি অবহেলা নয়, বরং পরম মমতা ও গুরুত্বের বহিঃপ্রকাশ। যারা আজ প্রতিবাদ করছেন, কাল তারাই মীর হেলালের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখে তাঁকে সাধুবাদ জানাবেন—এটাই আমার বিশ্বাস। পাহাড়ের মেঘ আর সমতলের মাটি মিলেমিশে তৈরি হবে এক অপূর্ব রেইনবো নেশন, যেখানে কোনো ক্ষোভ থাকবে না, থাকবে কেবল উন্নতির পথে একসাথে পথচলার অঙ্গীকার। মীর হেলাল সেই যাত্রার এক যোগ্য সারথি। তাঁর নিয়োগ কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং এটি আগামীর সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ পার্বত্য চট্টগ্রামের এক অসাধারণ উদ্যোগ।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions