
রিন্টু চাকমা, জুরাছড়ি:- রাঙ্গামাটির দুর্গম জুরাছড়ি উপজেলায় তিনদিনব্যাপী বৌদ্ধ ধর্মীয় দান ও পূণ্য উৎসব ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। গত ২১, ২২ ও ২৩ তারিখ জুরাছড়ি থেকে ফকিরাছড়ি, বামে মৈদং মন্দিরাছড়া ও ভুয়াতুলিছড়া এলাকায় স্ব-ধর্ম দায়ক-দায়িকাদের উদ্যোগে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধেয় বুদ্ধ শ্রী মহাস্থবির ভান্তে ও তাঁর সংঘশিষ্যদের উদ্দেশ্যে বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পিণ্ডদান, হাজার বাতি দান, ফানুস বাতি দানসহ নানা ধর্মীয় দান সম্পন্ন করা হয়। ভক্তরা ত্রিশরণ ও পঞ্চশীল গ্রহণ করেন এবং বুদ্ধ বন্দনা, ধর্মদেশনা, সূত্রপাঠ ও পারিত্রাণ পাঠের আয়োজন করা হয়। ভান্তে উপস্থিত দায়ক-দায়িকাদের উদ্দেশ্যে ধর্মদেশনা প্রদান করে দান, শীল ও ভাবনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার আগে ধর্মীয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে শত শত নারী-পুরুষ ভক্ত ভান্তেকে সভাস্থলে নিয়ে আসেন। বৌদ্ধ পতাকা, ফুল ও প্রদীপ হাতে নিয়ে তারা শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। নৌকা, ভেলা ও দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে ভান্তেকে অনুষ্ঠানে আনা হয়, যা উপস্থিত সবার মধ্যে গভীর ভক্তি ও আবেগের সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে জীবের কল্যাণ, মৃত আত্মীয়দের প্রতি পুণ্য হস্তান্তর (পট্টিদান) এবং বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। হাজার প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে প্রজ্ঞার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতীকী বার্তা দেওয়া হয়। ফানুস বাতি উড়িয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৩নং মৈদং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাধনানন্দ চাকমা, হেডম্যান সুজন চাকমা, সুবলং শাখা বনবিহারের পরিচালনা কমিটির সাধকরন সম্পাদক দয়াল বিহারী চাকমাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন সমাজে নৈতিকতা, করুণা, মৈত্রী ও সম্প্রীতির চর্চা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে।