শিরোনাম
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে ইউরোপ আপসের পথে যাবে না: ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙে আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ স্পেনে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ২১ জন নিহত ২৭ আসনে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা, কোথায় কে প্রার্থী হচ্ছেন তারেক রহমানের সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ খাগড়াছড়িতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সংবাদ সম্মেলন ; ৯ দফা দাবি উত্থাপন চট্টগ্রামে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের কনফিডেন্স পাচ্ছি না: এনসিপি বান্দরবান সীমান্তে সোয়া কোটি টাকার বার্মিজ গরু জব্দ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ দেখা হয়েছে

মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (বীর-উত্তম) আজ ৯০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় নিভৃত পল্লি বাগবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ১৯ দফা কর্মসূচি সামনে রেখে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

জিয়াউর রহমানের ডাকনাম কমল। তার বাবা মনসুর রহমান পেশায় ছিলেন রসায়নবিদ। বগুড়া ও কলকাতায় শৈশব-কৈশোর অতিবাহিত করার পর জিয়াউর রহমান বাবার কর্মস্থল করাচিতে চলে যান। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার হিসাবে কমিশন লাভ করেন।

একজন সৈনিক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করলেও জিয়াউর রহমানের জীবনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দেশের সংকটে তিনি বারবার ত্রাণকর্তা হিসাবে অবতীর্ণ হয়েছেন এবং দেশকে সংকট থেকে মুক্ত করেছেন। তিনি শুধু বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষণাই দেননি, স্বয়ং অস্ত্র হাতে যুদ্ধও করেছেন। যুদ্ধ শেষে তিনি আবার সৈনিক জীবনে ফিরে গেছেন। জিয়াউর রহমান সময়ের প্রয়োজনেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিএনপি। তার গড়া সেই রাজনৈতিক দল তার সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। বর্তমানে তার ছেলে তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসাবে স্বীকৃত।

অসাধারণ দেশপ্রেমিক, অসম সাহসিকতা, সততা-নিষ্ঠা ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রতীক জিয়াউর রহমানের অবদান অসামান্য। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে তিনি যুদ্ধ করেছেন। আবার বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টরের কমান্ডার হিসাবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। বিশ্ব-মানচিত্রে তিনি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে ব্যাপকভাবে পরিচিত করেছেন। জাতির মর্যাদাকেও তিনি বিশ্বব্যাপী সমুন্নত করেছেন। জিয়াউর রহমানের সৈনিক ও রাজনৈতিক জীবনের সততা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রম প্রতিটি মানুষ শ্রদ্ধাভরে এখনো স্মরণ করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর তারই সহকর্মী খন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। পরবর্তী সময়ে নানা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থান ঘটে। দেশের সেই চরম ক্রান্তিকালে সিপাহি-জনতার মিলিত প্রয়াসে জিয়াউর রহমান নেতৃত্বের হাল ধরেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাক-ব্যক্তিস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে তিনি আমৃত্যু চেষ্টা চালিয়েছেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে শাহাদতবরণ করেন দেশপ্রেমিক এ রাষ্ট্রনায়ক।

মির্জা ফখরুলের বাণী :
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে শহীদ জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, তিনি ছিলেন তার জীবদ্দশায় সব ক্রান্তিকাল উত্তরণে অন্যতম দিশারী। রণনায়ক হিসাবে ছিলেন দেশাবাসীর কাছে সমাদৃত ও সম্মানিত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমান সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতাত্তোর ক্ষমতাসীন মহল যখন মানুষের বাক-ব্যক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে হরণ করে গণতন্ত্রকে মাটিচাপা দিয়েছিল, দেশকে ঠেলে দিয়েছিল দুর্ভিক্ষের করালগ্রাসে, বাংলাদেশ পরিচিতি লাভ করে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসাবে, জাতির এরকম এক মহাসংকটকালে ৭ নভেম্বর সৈনিক-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে শহীদ জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। একজন সৈনিক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করলেও তার জীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দেশের সব সংকটে তিনি ত্রাণকর্তা হিসাবে বারবার অবতীর্ণ হয়েছেন। ক্ষমতায় এসেই তিনি অর্থনৈতিক, সামাজিক ন্যায়বিচার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন।

কর্মসূচি : জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরাসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পুস্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। কাল বেলা ১১টায় কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আজ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এ ছাড়া বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর উদ্যোগে দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও বিভিন্ন ইউনিটে স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions