শিরোনাম
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বজ্রপাতে একই পরিবারের ৪ জনসহ আহত ৬ বান্দরবানে কেএনএফ’র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বম জনগোষ্ঠীর মানববন্ধন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১২টি সম্পদের পাহাড় প্রার্থীদের ৩০ ছাত্রকে যৌন নিপীড়ন করে মোবাইলে ভিডিও ধারণ শিক্ষকের মোদিজি ভারতকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বানাতে চান: অরবিন্দ কেজরিওয়াল যেসব খবর আসছে তাতে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন: ইরানি কর্মকর্তা ‘অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার আগে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন’ ইরানের প্রেসিডেন্টের দুর্ঘটনাস্থল থেকে মিলল সংকেত উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১১৬ কোটিপতি প্রার্থী: টিআইবি

শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছেলেখেলা

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৩৪ দেখা হয়েছে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে হাইকোর্টের আদেশ : আপিল করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ ও পানির সঙ্কট: প্রাথমিক বন্ধ ২ মে পর্যন্ত : ২৭ জেলায় স্কুল-কলেজ-মাদরাসা-কারিগরি প্রতিষ্ঠান বন্ধ আজ

ডেস্ক রির্পোট:- দেশে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রিতে উঠেছে। সারাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। দাবদাহে পুরছে মাঠ-ঘাট, পথ প্রান্তর। এমনিতেই বিদ্যুতের অভাবে ঘন ঘন লোডশেডিং তার মধ্যেই প্রচণ্ড দাবদাহে পুড়ছে প্রান্তর থেকে প্রান্তর। রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে পানির জন্য হাহাকার চলছে। কয়েকটি জেলায় নলকূপে পানিও উঠছে না। এদিকে যখন-তখন লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রাজধানীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাকা বিল্ডিংয়ে হলেও মফস্বল শহর ও গ্রামগঞ্জের স্কুল, কলেজ, মাদরাসার বেশির ভাগ বিল্ডিং সেমি পাকা ঘর। উপরে টিনের প্রচন্ড গরমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অস্থির অবস্থা। এই দাবদাহের মধ্যেই খুলে দেয়া হয়েছে স্কুল-কলেজ-মাদরাসা। অবুঝ শিশুরা ঘর থেকে বের হলেই এমনিতেই দৌঁড়ঝাপ করতে অভ্যস্ত। তারা ঠাঁ ঠাঁ রোদে দৌঁড়ঝাপ করে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যেই ক্লাসে ভিতরে দাবদাহে শিক্ষকের মৃত্যের দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শত শত শিক্ষার্থী-অভিভাবক।
এমন পরিস্থিতিতে হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। অন্যদিকে হাইকোর্টের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে এক ধরনের মানসিকতা তৈরি হচ্ছে। সবকিছুতেই কেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর আদালতের নিদের্শনা নিয়ে আসতে হবে? হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাব। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে চলছে ছেলেখেলা। শিক্ষামন্ত্রীর জেদাজেদি দেশের শিক্ষার্থীদের জীবন হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইকোর্ট যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছেন। যাদের এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা সেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে ছেলেখেলা শুরু করেছেন।

সারাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, একটা ‘প্রাকৃতিক জরুরি অবস্থা’র মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ। প্রতিদিনই রেকর্ড হচ্ছে নতুন তাপমাত্রার। দিনভর ঠা ঠা রোদে পুড়ছে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের জনপদ। তীব্র উত্তাপে সড়কের পিচ পর্যন্ত গলে যাচ্ছে। ঘরের মধ্যে থেকেও ঘেমে-নেয়ে একাকার মানুষ। ফলে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপন। চলতি সপ্তাহেও একইরকম আবহওয়া থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তাপমাত্রা যতটা দেখা যাচ্ছে তারচেয়ে ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি অনুভূতি হচ্ছে। কারণ বাতাশে আর্দ্রতা থাকছে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। এই যখন অবস্থা তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা-বন্ধ নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘অদ্ভুত’ মনোভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জীবন হুমকীর মধ্যে ফেলে দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ‘তাপ সতর্কতা’র মধ্যেই গত রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। সমালোচনার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখায় ওইদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকে কয়েকজন শিক্ষক মৃত্যুবরণ করেন। অসুস্থ হয়ে পড়েন কয়েকশ’ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। এরপরই সোমবার ৫ জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় মন্ত্রণালয়। কিন্তু সেটিও কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেনেছে, কোন কোনটি মানেনি। অনেক প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শোকজও করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও বিশৃঙ্খলা চলছে তখন গতকাল সোমবার এটি নিয়েও হাইকোর্টকে পর্যন্ত রুলিং দিতে হয়েছে। হাইকোর্ট এদিন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদরাসার ক্লাস আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী সেটিকে আমলে না নিয়ে বরং গরমের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা নিয়ে হাইকোর্টের এমন আদেশের বিষয়ে বলেছেন, সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে এক ধরনের মানসিকতা তৈরি হচ্ছে। সবকিছুতেই কেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর আদালতের নিদের্শনা নিয়ে আসতে হবে? হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবেন বলেও জানান তিনি।

প্রচণ্ড এই গরমের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে একাধিক অভিভাবক বলেন, দেশে কয়টা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বৈদ্যুতিক পাখা আছে? কয়টি বিদ্যালয়ের ভবনের ওপর রড-সুরকিতে ঢালাই করা ছাদ আছে? কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তার তাৎক্ষণিক বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা দেওয়ার জ্ঞান কয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আছে?

তারা বলেন, সরকার কি জানে না, সারা দেশে টিনের চালের তলে বৈদ্যুতিক পাখাবিহীন পাঠশালায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে? সেই টিনের চাল উত্তপ্ত হলে ক্লাসঘরগুলো যে আস্ত একেকটা লোহা গলানো রি-রোলিং মিল হয়ে ওঠে সে আন্দাজ কি শিক্ষামন্ত্রীর নেই? তাপের চোটে যেখানে রাস্তার পিচ গলে যাচ্ছে, সেখানে এই সব শ্রেণিকক্ষে বসে টেন্স বা সেনটেন্সের পাঠ নিতে গেলে যে কেউ যে সেন্সলেস হয়ে পড়তে পারে, তা বোঝার মতো সেন্স কি বিদ্যানুরাগী কর্মকর্তাদের মাথায় নেই?

নজরুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, যে মুহূর্তে দেশের প্রায় সবখানে মানুষ তীব্র গরমে অতিষ্ঠ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে, সে মুহূর্তে শিক্ষামন্ত্রীর এই বিপ্লবী বিদ্যোৎসাহ এবং স্কুল খোলা নিয়ে সরকারের দফায় দফায় সিদ্ধান্ত দেওয়া পীড়াদায়ক। তিনি বলেন, যেখানে জীবন-জীবিকার প্রশ্ন, সেখানে হয়তো পরিস্থিতির সঙ্গে আপস করা বা ন্যূনতম ঝুঁকি নেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেখানো যেতে পারে। কিন্তু তাপদাহের মতো তুলনামূলক ক্ষণায়ু দুর্যোগের মধ্যে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী পাঠানো নিয়ে কেন ‘অন-অফ’ টাইপের সিদ্ধান্ত আসবে সেটি মাথায় ঢুকছে না। করোনায় টানা দুই বছর শিশুরা স্কুলে যেতে পারেনি। তাতে যখন কী হয়েছে? এই তাপদাহে ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসে পাঠানো নিয়ে এতো ব্যতিব্যস্ত হওয়ার কারণ কি সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

হাইকোর্টের আদেশ:
চলমান তাপপ্রবাহের কারণে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াত লিজুর হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এসকে সাইফুজ্জামান জানান, তাপপ্রবাহে ১৮ জনের মৃত্যুর সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে স্কুল-মাদরাসা বন্ধ রাখার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এ আদেশ ‘ও’ লেভেল, ‘এ’ লেভেলের পরীক্ষা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, যেসব স্কুলে এসি আছে এবং যেখানে পরীক্ষা চলছে সেসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলে হাইকোর্ট জানিয়েছে। তাপপ্রবাহে ১৮ জনের মৃত্যুর বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী মনির উদ্দিন।

বন্ধ নয়, আপিল বিভাগে যাবেন শিক্ষামন্ত্রী:
গরমের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা নিয়ে হাইকোর্টের এমন আদেশের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে এক ধরনের মানসিকতা তৈরি হচ্ছে। সবকিছুতেই কেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর আদালতের নিদের্শনা নিয়ে আসতে হবে? হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবেন তিনি। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিজ্ঞান কমপ্লেক্সে এক অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সাংবিধানিকভাবে যার যা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা পালন করাই বাঞ্ছনীয় বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। যেসব শিক্ষক-শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছেন তাদের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি বলেন, যারা অসুস্থ হয়েছেন, তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নাকি অন্যত্র ছিলেন, তাও দেখার বিষয়। মন্ত্রী বলেন, স্কুল গরমের জন্য বিপজ্জনক, আর মাঠ-ঘাট নয়? যেসব জেলায় তাপমাত্রা কম সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার তো কোনো কারণ নেই।

২৭ জেলায় আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ:
প্রাথমিক বিদ্যালয় ২ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের ২৭টি জেলার সব মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ মঙ্গলবার একদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। গতকাল মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলা এবং ঢাকা বিভাগের ঢাকা, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ, রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুর এবং বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার সব মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মঙ্গলবার বন্ধ থাকবে।

প্রাথমিক বন্ধ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত:
সারা দেশে প্রবাহমান প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যালয় ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টার আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। শিশুশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন বলেন, দেশে বহমান তীব্র তাপদাহের কারণে শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিবেচনায় আগামী বৃহস্পতিবার (২ মে) পর্যন্ত দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যালয় ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।

বাগেরহাটে শ্রেণিকক্ষে সায়লা আক্তার সাথী একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। গতকাল সোমবার দুপুরে বাগেরহাট সদরের উপজেলার মাহাফুজ খানম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এ ঘটনা ঘটেছে। পরে অভিভাবকরা এসে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। সে মাহাফুজ খানম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং মগরাহাট গ্রামের মোশাররফ মেয়ে।

ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আসমানী আক্তার বলেন, আমাদের ক্লাসে ৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এই গরমে মাত্র ৬-৭ জন শিক্ষার্থী মিলে ক্লাস করছি উপরে টিন সেট সাথে লোডশেডিং আমাদের ক্লাস করতে খুবই কষ্ট হয়। এই গরমে আমাদের ছোট বোন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সরকার যদি আমাদের মর্নিং স্কুল করে দেয় তাহলে মনে হয় সকালে উপস্থিত সুন্দরভাবে ক্লাস করতে পারব।

অসুস্থ সায়লা আক্তার সাথী বলেন, অনেক দিন স্কুল বন্ধ থাকার পর। স্কুলে আসছি। ক্লাসের টিনশেড এবং লোডশেডিং হওয়া প্রচন্ড গরমে মাথা ঘুরে পড়ে যাই। এরপর হাসপাতালে নিয়ে আসে।

মাহাফুজ খানম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক হাসিবুর রহমান বলেন, আমাদের স্কুলে ১৫২ জন শিক্ষার্থীর মাঝে উপস্থিত হয়েছে ৪৮ জন। এই তীব্র গরমে অনেক শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় উপস্থিত হচ্ছেনা। ইতি মধ্যে একজন শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়েছে তাকে আমরা জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছি। নতুন শিক্ষা কারিকুলাম বাস্তবায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ চাই না। সরকার যদি মর্নিং স্কুলের ব্যবস্থা করে বা অনলাইনে ক্লাস করার মতন ব্যবস্থা করে দেই তাহলে সকলেই বাড়িতেই থেকে ক্লাস করতে পারবে।

গলাচিপায় ৬ শিক্ষক-শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি ৬৫
গরমে গলাচিপার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ প্রায় ৬৫ জন গলাচিপায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের বহিঃর্বিভাগে প্রায় ৪৫ জন চিকিৎসা নিয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানায়। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে গেছে বলে দেখা গেছে।

জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার দক্ষিণ পূর্ব গোলখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জলিল আহম্মেদ স্কুল চলাকালীন সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে ঐ শিক্ষককে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া গলাচিপা নির্বাহী অফিসারের বাসার কেয়ারটেকার আবদুল খালেক ইউএনও অফিস কার্যালয়ে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক তাকেও গলাচিপা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

রোববার বিদ্যালয় খোলার ১ম দিনে চরবিশ্বাস জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক কাজী মোস্তফা কামাল(৫৬) বিদ্যালয় চলাকালীন সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিশ্চিত করেছেন।

দক্ষিন পূর্ব গোলখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদ আলম জানান, সপ্তম শ্রেণির মরিয়ম ও নবম শ্রেণির বর্ষা রানী সহ ৪ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের কারও পেটব্যথা, কারও মাথাব্যথা, কারও চোখব্যথা লক্ষ করা গেছে।
তীব্র তাপদাহে গলাচিপার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রেজাউল কবির।

এ ব্যাপারে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ উদ্দিন জানান, প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না। বারবার করে পানি পান করা ও বাইরে গেলে ছাতা ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
পটুয়াখালী ১ম শ্রেণি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণগারের পর্যবেক্ষক জয়দীপ কবিরাজ জানান, খেপুপাড়া রাডার আওহায়া অফিস সোমবার বিকাল ৩টায় দক্ষিণাঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্র ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ছিল ৬৯ শতাংশ।ইনকিলাব

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.net
Website Design By Kidarkar It solutions