শিরোনাম
বান্দরবানের সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের আরও ১৩ সীমান্তরক্ষী পালিয়ে বাংলাদেশে রাঙ্গামাটিতে সাংগ্রাই জল উৎসব অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়িতে আ.লীগ নেতার বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, সড়কে যান চলাচল বন্ধ ফরিদপুরে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ১৩ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে বারতে পারে মৃত্যুের সংখ্যা বৈশ্বিক স্বাধীনতা সূচকে ১৬৪ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪১ কঠোর অবস্থানে ইরান, হামলার পাল্টা হামলা হবে ভয়াবহ, জবাব দেয়া হবে কয়েক সেকেন্ডেে রাঙ্গামাটি ৪ উপজেলায় নির্বাচনে: মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ৩৭ জন টেস্ট পরীক্ষার নামে বাড়তি ফি আদায় করা যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী বিশ্বকাপ নিয়ে বেশি প্রত্যাশার দরকার নেই বলছেন শান্ত বান্দরবানের ৪ উপজেলায় নির্বাচন: মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ৩২ জন

রাজধানীতে মশার ঘনত্ব বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ,গবেষণা প্রতিবেদন

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২২ মার্চ, ২০২৪
  • ৬৩ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- ‘মশা মারতে কামান দাগা’ প্রবাদটি যেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের জন্য সত্যি হয়ে ধরা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরে মশা মারার বাজেট ১৬৮ কোটি টাকা। মশা মারতে ড্রোন, রোড শো, পরিচ্ছন্নতা ও মশককর্মীদের শরীরে অত্যাধুনিক বডি ক্যামেরার সংযোজন, বিটিআই নামের ব্যাকটেরিয়া আমদানি এবং হাঁস, পাখি, গাছ ও মাছের ব্যবহার হয়েছে। কিছুতেই মশার দাপট কমছে না। উল্টো গত চার মাসে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় কিউলেক্স মশার ঘনত্ব দ্বিগুণ হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

কিউলেক্স মশার কামড়ে নগরবাসী অতিষ্ঠ। দিনে মশার উৎপাত কিছুটা কম থাকলেও সন্ধ্যা নামলেই টিকে থাকা দায়। অফিস, বাসাবাড়ি, দোকান—কোথাও স্বস্তি নেই।

এজন্য নগরবাসী দায়ী করেছে সিটি করপোরেশনের গাফিলতিকে। অর্থাৎ কার্যকরী ওষুধ ব্যবহার না করা, ঠিকমতো ওষুধ না ছিটানো ও মশার প্রজনন ক্ষেত্র চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে না পারা। এ ছাড়া মানুষের সচেতনতার অভাবও একটি কারণ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির যাত্রাবাড়ী, উত্তর সিটির দক্ষিণখান, উত্তরার দুটি স্থান, মিরপুর এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী সাভার ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মশার বিস্তার পর্যবেক্ষণ করছে একটি গবেষক দল। জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এ গবেষণায় সবচেয়ে বেশি ঘনত্ব মিলেছে উত্তরা ও দক্ষিণখান এলাকায়। মশার ফাঁদ পেতে চালানো গবেষণায় ৯৯ শতাংশই কিউলেক্স মশা ধরা পড়ছে। বাকি ১ শতাংশ এডিস, অ্যানোফিলিস, আর্মিজেরিস ও ম্যানসোনিয়া।

কিউলেক্স মশার দুটি প্রজাতি এবং ম্যানসোনিয়া মশার একটি প্রজাতির মাধ্যমে আমাদের দেশে ফাইলেরিয়া রোগ ছড়ায়। ফাইলেরিয়া রোগে মানুষের হাত-পা ও অন্যান্য অঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে। একে স্থানীয়ভাবে গোদ রোগও বলা হয়। গবেষণায় ১২টি স্পটে ফাঁদের মাধ্যমে মশা সংগ্রহ করা হয়। গত নভেম্বর মাসে গড়ে প্রতিটি ফাঁদে ২০০টি করে মশা ধরা পড়ে। ডিসেম্বরেও গড় সংখ্যা প্রায় একই ছিল। তবে জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ৩০০ হয়। ফেব্রুয়ারিতে ৩৮৮ ও চলতি মার্চে তা ৪২০-এ ঠেকেছে। ঘরের ভেতর ও বাইরে আলাদা দুটি ফাঁদে সপ্তাহে একবার করে মাসে চারবার মশা সংগ্রহ করে হিসাব করে গড় বের করা হয়।

গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, গড়ে প্রতি ফাঁদে মিলছে ৪২০টি মশা। সবচেয়ে বেশি মশা পাওয়া যাচ্ছে উত্তরা ও দক্ষিণখান এলাকায়। গড়ে ৫০০ মশা ধরা পড়েছে। তিনটি কারণে মশা বাড়ে। জলবায়ু পরিবর্তন একটি বড় বিষয়। এ ছাড়া ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না করতে পারা, অর্থাৎ আমাদের আশপাশের ড্রেন ও নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার না করার ফলে মশা বেড়েছে। অনেক জলাশয়ে প্রচুর কচুরিপানা। এসব কচুরিপানায় মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। একই রকম অবস্থা ঢাকা শহরজুড়ে। সিটি করপোরেশনের উচিত এখনই ড্রেন ও খালের লার্ভা ধ্বংস করে গাপ্পি মাছ ছেড়ে দেওয়া।

তবে এই গবেষণার সঙ্গে একমত নন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির। তিনি বলেন, গবেষণায় কী পাওয়া গেছে তা গবেষকের ব্যাপার। মার্চে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায় মশক পরিস্থিতি যে কোনো বছরের তুলনায় ভালো। পরিস্থিতি আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই সময়ে কিউলেক্স মশা বেশি হয়ে থাকে। মশার বিস্তার কমাতে আমাদের কর্মীরা কাজ করছেন। খাল, ডোবা, নালা, ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। সামনে ডেঙ্গুর মৌসুম। আমরা সতর্ক আছি।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি, এটা বলব না। এখানে অনেক কারণ জড়িত। কবিরুল বাশার ছাড়া আর কেউ তো মশা নিয়ে গবেষণা করেন না। ফলে তার গবেষণা তুলনা করার সুযোগ আমাদের নেই। তবে সাধারণভাবে দেখলে এটা তো অস্বীকার করার উপায় নাই যে মশা বেড়েছে। মশা নিধনে আমাদের নানা ধরনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে এর সঙ্গে ময়লা-আবর্জনার ব্যবস্থাপনা ও খাল-বিলের সম্পর্ক আছে। উত্তর সিটিতে তিন হাজার বিঘার মতো জলাশয় আছে। এগুলোর অধিকাংশ রাজউক, পিডিবিসহ আরও কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানের। যেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা তাদের দায়িত্ব।

জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ মশা নিধনে আলাদা কর্মসূচি নিয়ে থাকে। তবে তা তেমন কার্যকরী নয়। ফলে নগরীর মানুষ মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ থাকে বছরজুড়ে। আবার ডেঙ্গু মৌসুমে হাজার হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় ৩ লাখ ২১ হাজার মানুষ। এর মধ্যে ঢাকায় ১ লাখ ১০ হাজার। গত বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১ হাজার ৭০৫ জন, যার মধ্যে ৯৮০ জনই ঢাকার।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটির মশা মারার বাজেট ১২১ কোটি ৮৪ লাখ। আর দক্ষিণ সিটির বাজেট ৪৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২০১১ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন দুই ভাগ হওয়ার পর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত দুই সিটিতে মশা মারতে প্রায় ১২শ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটির খরচ হয়েছে ৫০০ কোটি এবং ঢাকা উত্তরের খরচ হয়েছে ৬০০ কোটি টাকার বেশি। এই টাকা মশা নিবারণের নানা যন্ত্রপাতি, কীটনাশকসহ আরও অনেক কাজে ব্যয় হয়। দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডে মশা নিধনে ১৫০ জন মশক সুপারভাইজারসহ ১ হাজার ৫০ জনবল কাজ করছেন। উত্তর সিটির ৫৪টি ওয়ার্ডে ৭৫ জন মশক সুপারভাইজারসহ প্রায় ৬০০ জনবল আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মশার লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গ মশা দমনে উত্তর সিটি ব্যবহার করে ম্যালাথিয়ন, টেমিফস, নোভালুরন নামক কীটনাশক। আর দক্ষিণ সিটিতে ম্যালাথিয়ন ও ডেল্টামেথ্রিন কীটনাশক ব্যবহার হয়।

মশা নিধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কীটতত্ত্ববিদরা। শহরের কোথায় মশার প্রজননস্থল তৈরি হয়েছে এবং সেখানে মশা নিধনে কী কার্যক্রম গ্রহণ করা দরকার, তা নিয়মিত ইন্সপেকশন করে প্রতিবেদন দেন করপোরেশনের কীটতত্ত্ববিদরা। তার ওপর ভিত্তি করেই করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। উত্তর সিটিতে একজন কীট নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা থাকলেও দক্ষিণ সিটিতে এরকম কেউ নেই। ফলে মশার প্রজনন ক্ষেত্র বা উৎপত্তিস্থল অজানা থেকে যায়।

কীটতত্ত্ববিদ ড. ইন্দ্রানি ধর বলেন, গত বছরের ডেঙ্গুর হটস্পটগুলোতে লার্ভিসাইডিং আর ফগিং করতে হবে এখন থেকেই। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন করে একটি সার্ভে করতে হবে। যে ওয়ার্ডগুলোতে মশার সংখ্যা বেশি আর ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাবে, সেখানে সিটি করপোরেশনের লোকাল ক্যাম্প স্থাপন করে সকাল-বিকেল লার্ভিসাইডিং ও ফগিং করতে হবে।

নগরবাসী বলেন, শীতকালে মশার উপদ্রব কিছুটা কম ছিল। কিন্তু শীত কমার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে মশার উপদ্রব। মশার যন্ত্রণায় ঘরে-বাইরে সবখানে অতিষ্ঠ। কোনো কাজ করে শান্তি নেই। কীটনাশক স্প্রে করতে দেখি, কিন্তু মশার উৎপাত তো কমে না। উত্তরা ১৬ নম্বর সেক্টরের শামীম পারভেজ বলেন, গরম মৌসুম পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মশার উপদ্রব বেড়েছে। আশপাশের উত্তরা লেকসহ নর্দমা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি। সেখানে প্রচুর মশা জন্ম নিচ্ছে। সিটি করপোরেশনের মশককর্মীদের ওষুধ ছিটাতে দেখা যাচ্ছে না।

আগারগাঁও তালতলার বাসিন্দা কামাল মিয়া। স্থানীয় দোকান থেকে কিনছিলেন মশার কয়েল। সেখানে উপস্থিত অন্যদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন তিনি। আলোচনার প্রধান বিষয় ‘মশার যন্ত্রণা’। এ সময় পাশ থেকে একজন বলেন, আগে দোকানে বইসা এক কাপ চা খাইতাম, গল্প করতাম। এখন মশার জ্বালায় দাঁড়ানো যায় না। সবার কথায় একটা বিষয় উঠে আসে, হঠাৎই বেড়েছে মশার উপদ্রব। কোনোভাবেই এ থেকে মুক্তি পাওয়া যাচ্ছে না। কামাল মিয়া বলেন, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মশার জ্বালাতন, চলে সারা রাত। সিটি করপোরেশনের নানা উদ্যোগের কথা শুনি। কিন্তু মশা কমে না।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.net
Website Design By Kidarkar It solutions