
৩০ বছরেও বিচার নেই: লংগদুর ৩৫ কাঠুরিয়ার স্বজনদের কান্না থামেনি
লেখা
রাঙ্গামাটি:- ৩০ বছর আগে রাঙ্গামাটির লংগদুতে কাঠ কাটতে গিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ৩৫ কাঠুরিয়া। স্বজনদের অভিযোগ, এত বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার মেলেনি এই হত্যাকাণ্ডের। এমনকি সরকারি পুনর্বাসনের আশ্বাসও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে স্বজন হারানো পরিবারগুলো এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে।
৩০ বছর ধরে বুকের ভেতর স্বজন হারানোর ক্ষত নিয়ে বেঁচে থাকা এসব পরিবারের গল্প নিয়ে আমাদের এই মানবিক প্রতিবেদন।
যে মানুষটি ৩০ বছর আগে কাঠ কাটতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি।
সময় পেরিয়েছে তিন দশক।
কিন্তু স্বজন হারানোর সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি।
১৯৯৬ সালে রাঙ্গামাটির লংগদুতে কাঠ কাটতে যাওয়া ৩৫ কাঠুরিয়া হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
একসঙ্গে এতগুলো পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে যায়।
এরপর বদলে যায় পরিবারগুলোর জীবন।

কেউ স্বামী হারিয়েছেন।
কেউ হারিয়েছেন বাবা।
কেউ ভাই কিংবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে।
তখন যারা ছিলেন শিশু, আজ তারা মধ্যবয়সী।
যারা ছিলেন তরুণী স্ত্রী, তাদের অনেকেই এখন বার্ধক্যে।
আমরা আর কী চাই? যারা মারা গেছে তাদের তো ফিরিয়ে আনা যাবে না। কিন্তু অন্তত বিচারটা যেন হয়। আমাদের পরিবারগুলোর যে ক্ষতি হয়েছে, সরকার যদি একটু দেখত
রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের কথা বলা হলেও অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।
ফলে তিন দশক পরও অনেক পরিবার দিন কাটাচ্ছে চরম অভাব-অনটনে।
এদের কারও ঘরে নেই স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা।
কারও নেই ভালো থাকার মতো ঘর।
সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসা কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।
একটি হত্যাকাণ্ড শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয় না—
ভেঙে দেয় একটি পরিবার।
থামিয়ে দেয় সন্তানের স্বপ্ন।
বদলে দেয় একটি পরিবারের পুরো ভবিষ্যৎ।
লংগদুর এই পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও যেন সেটিই হয়েছে।
৩০ বছর ধরে তারা শুধু স্বজনের শূন্যতা নয়,
বয়ে বেড়াচ্ছেন বিচারহীনতারও বোঝা।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
প্রশ্ন উঠছে—
৩৫টি প্রাণের দায় কার?
তাদের পরিবারের কান্নার জবাব কে দেবে?
তিন দশক পরও কেন বিচারহীন এই হত্যাকাণ্ড?
আর যে পরিবারগুলো স্বজন হারিয়ে পথে বসেছে, তাদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতিই বা কোথায়?
সময় অনেক কিছু বদলে দেয়।
কিন্তু স্বজন হারানোর কষ্ট বদলায় না।
৩৫ কাঠুরিয়ার পরিবার আজও অপেক্ষায়—
একদিন হয়তো বিচার হবে,
একদিন হয়তো রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়াবে,
একদিন হয়তো ফিরবে তাদের হারানো জীবনের কিছুটা স্বস্তি।
কিন্তু সেই দিনটি কবে?
৩৫টি পরিবারের এই প্রশ্নের উত্তর কি মিলবে আর?