শিরোনাম
ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে আসছে ড্রোন কওমি মাদরাসার জন্য ৬টি শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর দেশে ড্রোন উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার–সংসদে প্রধানমন্ত্রী ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক রোগ স্ক্যাবিস,► ঘরে ঘরে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ ► হোস্টেল গণরুম বস্তি পোশাকশিল্প এলাকা ঝুঁকিতে পুলিশের ৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বিএনপির ২২ লাখ নেতা-কর্মীর নামে এখনো ২৭ হাজার মামলা যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ১৮ জন নিহত, কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের মেসিকে সম্মান জানাতে আর্জেন্টিনায় অনন্য উদ্যোগ হরমুজের নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার প্রস্তাব ট্রাম্পের সংসদে ১০টি সংসদীয় কমিটি গঠন

বিএনপির ২২ লাখ নেতা-কর্মীর নামে এখনো ২৭ হাজার মামলা

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- আওয়ামী লীগ আমলে দায়ের হওয়া বিএনপির ২২ লাখ নেতা-কর্মীর ঘাড়ে এখনো ঝুলছে ২৭ হাজার মামলা। এসব মামলা নিষ্পত্তিতে সহায়তার জন্য পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে নেতা-কর্মীরা প্রায়ই তদবির করছেন। তারা বলছেন, ফ্যাসিস্ট আমলে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা এখনো নিষ্পত্তি না হওয়া দুঃখজনক। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চান তারা।

তবে বিএনপির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলাসংক্রান্ত আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে পাঠানো হলেও দায়িত্বশীলরা তা আমলে নিচ্ছেন না।

জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিভিন্নভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপিকে দমনের কৌশল অবলম্বন করেছিল। সেই সরকার পাগলের মতো বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিল। এমনকি পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব থাকাকালীনও কয়েকজনের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। এমনকি মৃত ব্যক্তির নামেও মামলা দিয়েছিল। তিনি বলেন, এসব মিথ্যা মামলা নিষ্পত্তির জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই বাকিসব মামলা নিষ্পত্তি হবে।

বিএনপির মামলা ও তথ্য সংরক্ষণ সমন্বয়ক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. সালাউদ্দিন খান জানান, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৬৫ লাখ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মামলা প্রত্যাহার ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনো ২৭ হাজার মামলা বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

এসব মামলায় দলের ২২ লাখ নেতা-কর্মী আসামি। তিনি জানান, মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও সংশ্লিষ্টরা তা আমলে নিচ্ছেন না। সারা দেশ থেকে নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে এসব মিথ্যা মামলা শেষ করার জন্য আমাদের চাপ দিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ছিল সে সময় রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নামেও মামলার সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। যেমন, হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামে ৪৫০টি, এস এম জাহাঙ্গীরের নামে ৩৫০টি, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর নামে ৩১৫টি, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নামে ২৫০টি, মীর সরফত আলী সপুর নামে ২৫০টি, রফিকুল আলম মজনুর নামে ২২৬টি, আনিসুর রহমান তালুকদারের নামে ২১১টি, মামুন হাসানের নামে ২০০টি, রুহুল কবির রিজভীর নামে ১৮০টি, এস এম জিলানীর নামে ১৭০টি, শিমুল বিশ্বাসের নামে ১৭৪টি, রাজিব আহসানের নামে ১৪৬টি, আকরামুল হাসানের নামে ১৪৬টি, আবদুল কাদির ভূঁইয়ার নামে ১৫০টি, সালাহউদ্দিন আহমদের নামে ১৫০টি, তানভীর আহমেদ রবিনের নামে ১২৭টি, শহীদুল ইসলাম বাবুলের নামে ১১০টি, হাবিবুর রশীদের নামে ১০৩টি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে ৯৮টি, বজলুল করিম চৌধুরীর নামে ৯৫টি, আবদুস সালামের নামে ৮০টি, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নামে ৫০টি এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামে ৩৩টি মামলা ছিল। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বও দীর্ঘদিন মামলার বাইরে ছিলেন না। দলীয় সূত্রে প্রকাশিত তথ্যে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার কথা বলা হয়েছে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত) দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার দুটি কমিটি গঠন করেছিল। সেই সরকারের তখনকার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল-এর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। জেলাপর্যায়ে মামলা পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নেতৃত্বে জেলা কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটিগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলার তালিকা ও আবেদন আহ্বান করে। ভুক্তভোগীদের আবেদনগুলো পরীক্ষানিরীক্ষা করার জন্য আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি একাধিক সভা পরিচালনা করে। পরবর্তীতে মামলাগুলো নিষ্পত্তি করার জন্য চলতি বছরের ৫ মে জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু এ কমিটি এখন পর্যন্ত কোনো সভা করতে পারেনি।

বিএনপির দপ্তর থেকে বলা হচ্ছে- মামলার আসামিরা পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে তাদের মামলা সুরাহা করার কথা বলেন। দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে তালিকা পাঠানো হলেও তারা ব্যবস্থা নিতে ধীরগতি দেখা যায়। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন কমিটির কাছে বিএনপির দপ্তর থেকে তালিকা পাঠানো হলেও সংশ্লিষ্টরা তা আমলে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ আছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মামলার কারণে বহু নেতা-কর্মী দীর্ঘ সময় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন, অনেকে কারাগারে ছিলেন এবং অনেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে ছিলেন। এখন এসব মামলায় আদালতে যেতে না হলেও ২৭ হাজার মামলায় ২২ লাখ আসামি কাগজে কলমে রয়ে গেছেন। রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার বড় অংশ প্রত্যাহার হলেও সব মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি।

২০২৬ সালের জুনে সংসদে আইনমন্ত্রী জানান, ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার হয়েছে এবং বাকি মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ফলে সরকার পরিবর্তনের পরও পুরোনো মামলার কারণে আদালত, জামিন ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকতে হচ্ছে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীকে।বাংলাদেশ প্রতিদিন

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions