শিরোনাম
কক্সবাজার ও নওগাঁয় সাত খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য প্রত্যেক উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দ ইকো-ট্যুরিজমের প্রসারে বাংলাদেশ ও কানাডার কাজের সুযোগ রয়েছে : পার্বত্যমন্ত্রী রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট বান্দরবানে উজাড় হচ্ছে পাড়াবন, কাটা পড়ছে শতবর্ষী গাছ রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি হ্রাস পাওয়ায় একটি ইউনিট থেকে সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন পাকিস্তানের অনুরোধে মুহূর্তে বদলে গেলেন ট্রাম্প, ইসলামাবাদের লাভ, ভারতের জন্য কী বার্তা ঢাকার ৪০টি ও দেশের ৪০০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫জি সেবা চালু ফেডারেশন কাপে বসুন্ধরা কিংসের দাপুটে জয় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ইরান ও বাংলাদেশ, ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে ইরানী দূতাবাসের সতর্কতা

কক্সবাজার ও নওগাঁয় সাত খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৬ দেখা হয়েছে

কক্সবাজার:- নওগাঁর নেয়ামতপুরে ৪ এবং কক্সবাজারের টেকনাফে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এই সাতটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ
লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতরা হলেন- বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২) তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং মেয়ে সাদিয়া আক্তার (৩)। পুলিশ এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা বেগম (৪৫) ও শিরিনা বেগম (৪০) এবং ভাগনে সবুজ রানা (২৫) কে হেফাজতে নিয়েছে। পুলিশ জানায়, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বাড়ির দরজা-জানালা অক্ষত থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা পরিবারের পরিচিত কেউ হতে পারেন। এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শামীম আহমেদ ও নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।

এ সময় র‌্যাব, সিআইডি ও পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভোর ৬টার দিকে এ ঘটনা জানাজানি হয়। বাড়ির সদর দরজাসহ সব জানালা-দরজা অক্ষত রয়েছে। তাহলে হত্যাকারীরা কীভাবে ভেতরে প্রবেশ করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পারিপার্শ্বিকতা দেখে তারা ধারণা করছেন নিজেদের লোকেরাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। সরজমিন ঘটনাস্থলে দেখা যায়, হাবিবুরের মরদেহ ঘরের বিছানায় পড়ে ছিল। অন্য একটি ঘরে পাওয়া যায় তার ছেলে ও মেয়ের লাশ। বাড়ির আঙিনায় পড়ে ছিল পপির মরদেহ। ঘটনাটি জানাজানি হয় ভোরের দিকে, যখন হাবিবুরের বাবার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ফাঁসির দাবি করেন তারা। নিহত হাবিবুরের প্রতিবেশী খলিলুর রহমান বলেন, হাবিবুর স্ত্রী-সন্তানসহ তার বাবা নমির উদ্দিনকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। রাতের কোনো সময় এ ঘটনা ঘটেছে কিছুই বলতে পারছি না। রাতে কোনো চিৎকার-চেঁচামেচিও শোনা যায়নি। সকাল ৬টার দিকে তার বাবার চিৎকারের পর এলাকার লোকজন জানতে পারেন। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। নমির উদ্দিন প্রত্যেক মেয়েকে ১০ কাঠা করে সম্পত্তি দিয়ে অবশিষ্ট সম্পত্তি হাবিবুরের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে বোনদের সঙ্গে ভাই হাবিবুরের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

হাবিবুরের স্ত্রীর মামা আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, ঈদের আগে একবার খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে তাদের অচেতন করার ঘটনাও ঘটেছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে। নিহত পপির বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এ প্রসঙ্গে নওগাঁ পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, এটি ডাকাতির ঘটনা নয়। অন্য কোনো কারণে ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

টেকক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ের নিস্তব্ধতা ভেঙে বেরিয়ে এলো এক বীভৎস ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য। টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার গহীন পাহাড় থেকে তিন যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই এলাকার তিন যুবকের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া ও স্থানীয়দের মনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে দুর্গম পাহাড়ের ঢাল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- বাহারছড়া ইউনিয়নের শীলখালী এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম রবি (১৯), মৃত নুরুল কবিরের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮) এবং মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে নুর বশর (২০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে কয়েকজন শ্রমিক পাহাড়ে কাজ করতে গেলে তারা ঝোপঝাড়ের পাশে তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। মুহূর্তেই এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ পাহাড়ে ভিড় জমায়। খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। নিহত রবির বাবা রুহুল আমিন বলেন, গত সোমবার এশার নামাজের পর রাতের খাবার শেষ করেছিল রবি। এরপর কে বা কারা তাকে ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। অনেক রাত হয়ে গেলেও সে বাসায় না ফেরায় আমরা চিন্তায় পড়ে যাই। বারবার ফোনে চেষ্টা করলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে পেলাম ছেলের নিথর দেহ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এটি অত্যন্ত বর্বরোচিত ঘটনা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য শোনা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাহারছড়া ও উত্তর শীলখালী সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ইদানিং মানব পাচার ও অপহরণ বাণিজ্য ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দুর্গম পাহাড়কে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে অপরাধী চক্রগুলো তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর ধারণা, নিহত যুবকরা হয়তো দুর্ঘটনাবশত এই অপরাধী চক্রের কোনো গোপন আস্তানা বা মানব পাচার সংক্রান্ত কোনো সংবেদনশীল তথ্য জেনে ফেলেছিলেন। সেই গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই কি তাদের রাতের আঁধারে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে? এমন প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সমপ্রতি এলাকায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। হয়তো নিহতরা এসব দুর্বৃত্তের কোনো গোপন আস্তানা দেখে ফেলেছিল অথবা জেনে গিয়েছিল, যা তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ালো। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ কোনো শত্রুতার জেরে নাকি পাহাড়ে সক্রিয় থাকা এসব অপরাধী চক্রের মাধ্যমেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানব পাচারকারী ও অপহরণকারী চক্রের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, অপরাধীরা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।মানবজমিন

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions