
ডেস্ক রির্পোট:- হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত তিনটি দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এই জলপথে আরোপিত অবরোধ ভাঙার প্রচেষ্টায় এই তিনটি দ্বীপকে এখন দৃশ্যত টার্গেট তাদের। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তেহরানের বিরুদ্ধে উসকানিহীন যুদ্ধ শুরু করার কয়েকদিন পরই ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দেয়। ২৮ শে ফেব্রুয়ারির হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও অন্য শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হয়। হরমুজ প্রণালির সরু প্রবেশমুখের কাছে অবস্থিত ওই তিনটি দ্বীপ হলো আবু মুসা, গ্রেটার তুনব এবং লেসার তুনব।
সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এসব দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে। উদ্দেশ্য হলো, ইরানের পক্ষে এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজকে অবরুদ্ধ বা হুমকির মুখে ফেলার সক্ষমতা কমানো। অ্যাক্সিওসের ২৬ মার্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ‘চূড়ান্ত আঘাতের’ জন্য বিভিন্ন সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করছে। এর মধ্যে এই তিনটি দ্বীপ দখলের পরিকল্পনাও রয়েছে। এই দ্বীপগুলো বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতও এগুলোর দাবি করে। ১৯৭১ সালে আমিরাত সৃষ্টির ঠিক আগে, ইরান এগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে বিরোধ থাকলেও তা তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় ছিল। ১৯৭৯ সালের আগে খার্গ দ্বীপে দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ ফারসি বলেন, তারা (মার্কিনীরা) এই দ্বীপগুলো দখল করতে চায়- এমন আশঙ্কা খুবই বেশি।
মার্কিন মেরিন, যুদ্ধজাহাজ ও বিমানসহ অভিযাত্রী বাহিনীকে মোতায়েন এই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বীপগুলো নিয়ে পদক্ষেপ নিতে পারেন। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফএক্সে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরানের ‘শত্রুরা’, একটি আঞ্চলিক দেশের সহায়তায়, তাদের একটি দ্বীপ দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিলে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এবং নৌ অভিযান জোরদার করতে পারবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এমন তথ্য দিয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধ শেষের আলোচনায়ও ওয়াশিংটনের দর-কষাকষির শক্তি বাড়তে পারে। তবে ইরান শুধু এই দ্বীপগুলোর ওপর নির্ভরশীল নয়। তাদের মূল ভূখণ্ড থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং নৌবাহিনী ব্যবহার করে জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব। ফলে দ্বীপগুলো দখল হলেও সমুদ্রপথে ঝুঁকি পুরোপুরি কমবে না। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করেছে। ইরান জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে আক্রমণও চালিয়েছে। এর ফলে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো যেমন খার্গ দ্বীপ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এখন স্থলভিত্তিক লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণের দিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।