
শামসুল আলম:- মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২৯ বছর পর প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেল পার্বত্য রাঙ্গামাটি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন রাঙ্গামাটি জেলার কৃতি সন্তান ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ান। এ ঘটনায় রাঙ্গামাটি জেলাজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দ ও প্রত্যাশার আবহ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার পর এতদিন বিভিন্ন সময়ে উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী থাকলেও রাঙ্গামাটি থেকে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশার প্রতিফলন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
দীপেন দেওয়ান ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠক হিসেবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আইন বিভাগে অধ্যয়ন করেন। আইন পেশায় যুক্ত হয়ে ৭ম বিসিএসের মাধ্যমে বিচার বিভাগে যোগদান করেন এবং সিনিয়র যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৫ সালে দলীয় সংকটের প্রেক্ষাপটে তিনি স্বেচ্ছায় বিচার বিভাগীয় চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করেন। দলীয় দুর্দিনে, বিশেষ করে ১/১১-পরবর্তী সময়ে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য
তার পিতা স্বর্গীয় সুবিমল দেওয়ান ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা এবং রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতি। সেই রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দীপেন দেওয়ান নিজেকে পার্বত্য রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক বাস্তবতায় গঠিত। উন্নয়ন বৈষম্য, অবকাঠামো ঘাটতি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সেবার সীমাবদ্ধতা এবং সম্প্রীতি রক্ষার বিষয়গুলো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দীপেন দেওয়ানকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়ক হবে।
রাঙ্গামাটির বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তাকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছে—তার নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
২৯ বছর পর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে রাঙ্গামাটির প্রতিনিধিত্ব পাওয়া নিঃসন্দেহে পার্বত্য রাজনীতির ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখন সময়ই বলে দেবে, এই প্রত্যাশা কতটা বাস্তব রূপ পায়।