
ডেস্ক রির্পোট:- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াইয়ের ঠিক আগমুহূর্তে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে মারা গেছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি ও সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১)।
প্রার্থীর এই আকস্মিক মৃত্যু ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটগ্রহণ নিয়ে আইনি প্রশ্ন সামনে এনেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনি আইন বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এবং ২০২৫ সালের সংশোধিত বিধিমালার আলোকে এই পরিস্থিতির আইনি ব্যাখ্যা ও প্রভাব কী?
প্রার্থীর মৃত্যু ও নির্বাচনি বিধান
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭-এর ১ উপধারায় প্রার্থীর মৃত্যু সংক্রান্ত বিধানটি অত্যন্ত স্পষ্ট। আইনে বলা হয়েছে, যদি কোনও প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর এবং ভোট গ্রহণের আগে মৃত্যুবরণ করেন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা স্থগিত হয়ে যাবে। তবে শর্ত থাকে যে, মৃত ব্যক্তিকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত একজন ‘বৈধ প্রার্থী’ হতে হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের ভোট বাতিলের ঘোষণা দেবেন। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশন ওই আসনে নতুন তফসিল ঘোষণা করবে।
আইনের কিছু বিশেষ দিক ও ব্যতিক্রম
আইনে কিছুটা ব্যতিক্রমও হয়েছে। যদি মৃত ব্যক্তি চূড়ান্তভাবে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হওয়ার আগেই মারা যান, তবে নির্বাচন স্থগিত হয় না। আবার ওই আসনে একই দলের বিকল্প কোনও বৈধ প্রার্থী (যদি থাকে) থেকে থাকে, তাহলেও ভোট চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে নুরুজ্জামান বাদল যেহেতু ওই আসনে চূড়ান্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন, তাই তার ক্ষেত্রে ১৭(১) ধারা কার্যকর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
সারা দেশের নির্বাচনে কি প্রভাব পড়বে?
সাধারণ ভোটারদের মনে অনেক সময় প্রশ্ন জাগে, একটি আসনের প্রার্থীর মৃত্যুতে কি পুরো দেশের নির্বাচন পিছিয়ে যাবে? উত্তর হলো—না। আইনের বিধান অনুযায়ী, কোনও নির্দিষ্ট আসনের প্রার্থীর মৃত্যুতে কেবল সেই সুনির্দিষ্ট আসনের ভোট গ্রহণ স্থগিত বা বাতিল হয়। সারা দেশের বাকি আসনগুলোতে পূর্বনির্ধারিত তারিখেই ভোট হবে।
শেরপুর-৩ আসনের মতো স্থগিত হওয়া আসনে যখন নতুন তফসিল দেওয়া হবে, তখন আগের বৈধ প্রার্থীদের আর নতুন করে মনোনয়নপত্র বা জামানত জমা দিতে হয় না। তবে নতুন কোনও প্রার্থী চাইলে সেই সুযোগে নতুন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
২০২৫ সালের সংস্কার ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের সময় আরপিও আইনে কিছু ভাষাগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধিতে ‘ইলেকশন’ (নির্বাচন) শব্দের পরিবর্তে ‘পোলিং’ (ভোট গ্রহণ) শব্দটিকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রার্থীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে ১৭(১) ধারার মূল চেতনা ও বিধানটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যাতে কোনও দল বা মতাদর্শের প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে ভোটাররা তাদের সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচন থেকে বঞ্চিত না হন।