
নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়—জোহরান মামদানি যুগ। বর্ষবরণের রাতে এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে একটি পরিত্যক্ত স্টেশনে শপথ নেন নিউ ইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানি।
তবে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সিটি হলে বিশাল পরিসরে দ্বিতীয়বারের মতো কোরআন ছুঁয়ে শপথ নিলেন ইতিহাস সৃষ্টিকারী মুসলিম এই মেয়র। প্রথম ভাষণেই বিশ্বের অন্যতম সেরা সিটিকে সব শ্রেণির মানুষের বসবাসের উপযোগী করার প্রতিশ্রুতি দেন জোহরান মামদানি।
নিউ ইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তে শপথ বাক্য পাঠ করান শুরু থেকেই মামদানীকে সমর্থন দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতীক, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। এ সময় মামদানি স্ত্রী রামা দুয়াজির হাতে থাকা পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ গ্রহণ করেন।
শপথ অনুষ্ঠানে গভর্নর নিউ ইয়র্ক গভর্নর ক্যাথি হোকুল, সদ্য বিদায়ী মেয়র এরিক এডামসসহ নিউ ইয়র্কের বিভিন্নস্তরের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন ।
ব্যতিক্রমী আয়োজনে প্রথম ভাষণে নিউ ইয়র্ক সিটিকে সব শ্রেণির মানুষের বসবাসের উপযোগী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অভিবাসী এই মেয়র। অনুষ্ঠানে মামদানি নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন, অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন।
এদিকে নিউ ইয়র্ক সিটি হল এলাকায় এদিন সকাল থেকেই জড়ো হন হাজারো মানুষ। শপথ ঘিরে পুরো এলাকা যেন পরিণত হয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মামদানির এই শপথ অনুষ্ঠান শুধু ক্ষমতা গ্রহণ নয়, বরং নিউ ইয়র্ক সিটির রাজনীতিতে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সূচনা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করতে পারেন, সেটির ওপরই নির্ভর করবে মামদানি যুগের সাফল্য।