
রাঙ্গামাটি:- সরকার নতুন করে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠন করেছে। গত ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতির পক্ষে উপসচিব মোঙ্গল চন্দ্র পাল স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৫ সদস্যের এ পরিষদ ঘোষণা করা হয়।ভৌগোলিক ম্যাপ ও গাইড অন্বেষণ করা
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপুকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি সদ্য সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারের ছোট ভাই। পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ।
এছাড়াও পরিষদে নিযুক্ত অন্যান্য সদস্যরা হলেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাশ্বত চাকমা, সদস্য বিল্টু চাকমা, সুবিমল চাকমা, পাইচিং মং মারমা, জুরাছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি অনিল বরণ চাকমা, কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক উথোয়াইমং মারমা, রাজস্থলী উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তিমথী খিয়াং, লংগদু উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন, রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ফারক আহম্মেদ সাব্বির, জেলা বিএনপির সদস্য নন্দিতা দাশ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা।
এ ছাড়া সাজেক রিসোর্ট অ্যান্ড কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ এবং প্রেমা তালুকদারও জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁদের দলীয় পরিচয় প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।
একই প্রজ্ঞাপনে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গঠিত আগের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
নতুন পরিষদ গঠনের পর স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জনসাধারণের স্বার্থে কাজ করার প্রত্যাশাই বেশি।
শ্রমিক আবুল বাশার বলেন, ‘আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। আমরা অতশত রাজনীতি বুঝি না। আমরা চাই, ভালো মানুষ সব জায়গায় আসুক এবং আমাদের কথা বলুক।’
স্থানীয় দোকানদার সিরাজ মিয়া বলেন, ‘কে গেল, আর কে আসল এগুলো ভেবে আমাদের কী লাভ? সবাই তো একই। আমরা চাই দেশটা শান্তিতে চলুক। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বস্ত্রসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম কম থাকলেই আমরা খুশি।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙ্গামাটি জেলার সম্পাদক এম. জিসান বখতিয়ার বলেন, ‘তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ দায়িত্ব পেয়ে আসছেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা এ অঞ্চলের উন্নয়নের দায় এড়াতে পারেন না।’
তিনি বলেন, ‘নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তরা যদি দলীয় প্রভাববলয়ের বাইরে এসে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্যমুক্তভাবে কাজ করেন, তাহলে তাঁরা এ অঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। পার্বত্য নিউজ