
ডেস্ক রির্পোট:- মধ্যস্থতাকারী মারফত পাঠানো মার্কিন প্রশাসনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে পরাজয় স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ না দেয়া পর্যন্ত কোনো শান্তি আলোচনা নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাতে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ওই কর্মকর্তা বলেন, দুটি মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছে দেয়া হয়। যদিও কাদের মাধ্যমে প্রস্তাব এসেছে বা বিস্তারিত কী ছিল, তা জানানো হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সংঘাত এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এতে অন্তত ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে হামলার প্রতিবাদে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে এ পথ পুনরায় চালু করতে মিত্র দেশগুলোকে সহায়তার আহ্বান জানালেও তারা এখনো সাড়া দেয়নি।
এদিকে, মঙ্গলবার ভোরে দুই পক্ষের হামলা অব্যাহত ছিল। ইরান রাতভর ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরাইলও তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে এবং লেবাননের বৈরুতে হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করেছে।
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ড্রোন ব্যবহার করে ইসরাইলের সাইবার প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতেও হামলা চালিয়েছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে অপ্রত্যাশিত বলে মনে হয়েছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা হলে তারা উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবেÑ এমন আশঙ্কা আগেই ছিল।
সংঘাত শুরুর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ২ হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে, যা মার্কিন কূটনৈতিক মিশন, সামরিক ঘাঁটি, তেল স্থাপনা, বন্দর, বিমানবন্দর এবং আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
ফুজাইরাহ বন্দরে টানা তৃতীয় হামলার পর তেল লোডিং আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং শাহ গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলার ফলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, কেউই এ প্রণালিতে নিজেদের জনগণকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে প্রস্তুত নয়।