ঘুমের মধ্যে ফুসফুসে ঢুকছে বিষ

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৫ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- প্রতি বছর সর্বোচ্চ বায়ুদূষণ ঘটে জানুয়ারি মাসে। এবার ফেব্রুয়ারিজুড়েও ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে রাজধানী ঢাকা। বাতাস সবচেয়ে বিষাক্ত হয়ে উঠছে মধ্যরাত থেকে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত। ফলে ঘুমের মধ্যে ফুসফুসে ঢুকছে বিষ। এতে নগরবাসীর বড় অংশই প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠছে কাশতে কাশতে। দূষিত বায়ুর কারণে বাড়ছে অ্যালার্জিজনিত হাঁচি, কাশি, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট। বায়ুদূষণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী হিসেবে শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারীকে বিবেচনা করা হলেও বর্তমানে সব বয়স ও শ্রেণির মানুষই দূষিত বায়ুতে নাকাল। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউ এয়ারের তথ্য বলছে, গত জানুয়ারি মাসে বায়ুমান সূচকে ঢাকার গড় স্কোর ছিল ২৩৫, যা খুবই অস্বাস্থ্যকর। প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ক্ষতিকর অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা (পিএম ২.৫) ছিল ১৬০.৩ মাইক্রোগ্রাম, যা সহনশীল মাত্রার চেয়ে ৩২ গুণ বেশি। ফেব্রুয়ারির ২১ দিনের মধ্যে ছয় দিন বাতাস ছিল অস্বাস্থ্যকর, ১৫ দিন অতিমাত্রায় অস্বাস্থ্যকর।

আইকিউ এয়ারের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাতাস সবচেয়ে বেশি দূষিত থাকছে মধ্যরাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত। ১৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকার বাতাস ছিল অতিমাত্রায় অস্বাস্থ্যকর। দুপুর ১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ছিল অস্বাস্থ্যকর। রাত ১১টা থেকে গতকাল বেলা ১১টা পর্যন্ত বাতাস আবার অতিমাত্রায় অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। এরপর আবার দূষণ কিছুটা কমছে। তবে গত ছয় মাসে এক দিনও নির্মল বায়ুতে শ্বাস নিতে পারেনি ঢাকাবাসী।

বায়ুমান গবেষকরা বলছেন, রাতে ঢাকার বাইরে থেকে প্রচুর পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করে। এগুলোর বেশির ভাগের ফিটনেস নেই। কালো ধোঁয়া নির্গত করে। আইনে নিষিদ্ধ হলেও উন্মুক্ত ট্রাকে নির্মাণসামগ্রী পরিবহন করা হয়। এতে বাতাসে ধুলাবালি বাড়ে। এ ছাড়া সূর্য ডোবার পর বাতাস ঠান্ডা হতে থাকায় জলীয়বাষ্পের সঙ্গে সারা দিনে ওড়া ধুলাবালি নিচের দিকে নেমে আসে। এজন্য মধ্যরাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত বায়ুমান বেশি খারাপ থাকে। জানালা খুলে ঘুমালে সারা রাত এসব ধুলাবালি নিশ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করে। অনেক সময় বুকে কফ জমে যায়। অ্যালার্জিজনিত হাঁচি, কাশি বাড়ে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, বায়ুদূষণে ২০১৯ সালে দেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এতে মোট দেশজ উৎপাদনের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। মানুষের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে। বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়। অসুস্থতার কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।

এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারই সফলতা দেখাতে পারেনি। দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের জনগণ।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions