শিরোনাম

সরকারের ৩ অগ্রাধিকার নির্ধারণ ১৮০ দিনের পরিকল্পনা

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪১ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পরদিন কর্মব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন তারেক রহমান। সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। সেখান থেকে যান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে যান। দুপুরে যান সচিবালয়ে। দিনের বাকি সময় সেখানে তিনি অবস্থান করেন। কেবিনেটের অনির্ধারিত বৈঠকের পর তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি সচিবালয় ত্যাগ করেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারের তিনটি অগ্রাধিকারের বিষয় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, ১৮০ দিনের প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। অগ্রাধিকার তিনটি হলো দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে গতকাল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায় সকাল থেকেই।

সচিবালয়ে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও আলোচনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রথামাফিক সরকারের প্রথম দিনে একটি মন্ত্রিসভার বৈঠক করতে হয়। বৈঠকে মন্ত্রিসভার সব সদস্য বসেছিলেন। বৈঠকে উপদেষ্টারাও ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের কিছু অনুশাসন দিয়েছেন। সরকার ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করছে। সেটি পরে জানানো হবে। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা ও সরবরাহ ঠিক রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে (গ্যাস-বিদ্যুৎ) যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা রয়েছে। এগুলো হলো অগ্রাধিকার।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ মুহূর্তে অগ্রাধিকার হচ্ছে পবিত্র রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে মানুষের সহনীয় রাখা এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, বিশেষ করে তারাবি ও ইফতারের সময়। মূলত এই তিন বিষয় অগ্রাধিকারে এসেছে। এগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা কর্মপরিকল্পনা দু-এক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সরকারের সব সচিবের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রধানমন্ত্রী সচিবদের বলেছেন জনগণ বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী রায় দিয়েছেন। সুতরাং সংবিধান ও আইনবিধি অনুযায়ী ওই নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সচিবরা আন্তরিক হবেন, সেই আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সবাইকে আমরা বলেছি, কে, কার কী অ্যাফিলিয়েশন (সম্পৃক্ততা) আছে, সেটি আমরা দেখবো না। আমরা মেধার ভিত্তিতে সবাইকে যাচাই করবো।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শক্ত অবস্থানের’ ওপর জোর দিয়ে রোজায় দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতেও ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়ার কথা জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের যে এত বিপুল জনসমর্থন, সেটার জায়গা থেকে প্রধানমন্ত্রী আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণ আমাদের কাছ থেকে সুশাসন ও জবাবদিহিতা চায়। সেক্ষেত্রে আমরা স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়ের যারা দায়িত্বে আছি, তারা যেন যেকোনো ধরনের প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করি। বিশেষ করে দুর্নীতির প্রশ্নে যেন আমাদের একটা শক্ত অবস্থান থাকে।
এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, জনগণ রায় দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ইশতেহার দেখে। নিশ্চয় তারা ইশতেহারকে পছন্দ করেন। সেই ইশতেহার যেন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পূরণ হয়, সে জন্য সব সচিবের মেধাকে কাজে লাগিয়ে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করা দেশের জন্য ভালো।

গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে সচিবালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা প্রবেশ করতে থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সকাল থেকেই সচিবালয় এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয় এবং প্রতিটি প্রবেশপথে কড়া তল্লাশির পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ের নতুন ১ নম্বর ভবনের তিনতলায় তার জন্য নির্ধারিত সুসজ্জিত কার্যালয়ে প্রথম দিন অফিস করেন। নতুন মন্ত্রিসভাকে বরণ করে নিতে সচিবালয়ের প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয় সকাল থেকেই।

গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। একইসঙ্গে তার ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভাও শপথ গ্রহণ করে এবং রাতে তাদের দপ্তর বণ্টন করে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ ছাড়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়। শপথ গ্রহণের পর গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সরাসরি সচিবালয়ে তার দপ্তরে যোগ দেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ছিলেন না রিজভী: নতুন সরকারের দায়িত্ব নেয়ার প্রথম কার্যদিবসে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে যোগ দেননি মন্ত্রী মর্যাদায় উপদেষ্টা হওয়ায় বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ১৭ই ফেব্রুয়ারি বিকালে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই মন্ত্রিসভার তালিকায় ঠাঁই হয়নি বিএনপি’র বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার। বাদ পড়া কয়েকজনকে অবশ্য স্থান দেয়া হয়েছে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার উপদেষ্টা পরিষদে। ওই তালিকায় রুহুল কবির রিজভীকে মন্ত্রী মর্যাদায় উপদেষ্টা করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন রিজভী। হাসপাতালে তাকে দেখতে যান তারেক রহমান। হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়ায় বাসায় ফিরেন তিনি। ১৭ই ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানেও দেখা যায়নি তাকে। গতকাল মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠকেও যোগ দেননি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বিএনপি’র দপ্তরের দায়িত্ব সামলানো এই নেতা। এ বিষয়ে জানতে রুহুল কবির রিজভীকে ফোন দিলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। অসুস্থতার কারণেই গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দেননি।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions