শিরোনাম

মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের কাছে পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশা

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭ দেখা হয়েছে

রাঙ্গামাটি:- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেলেন রাঙ্গামাটি থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য  দীপেন দেওয়ান। যিনি এবারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত এমপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিশেষায়িত এই মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব কাঁধে তুলে নিলেন তিনি।নির্বাচনী কৌশল

বাংলাদেশের এক দশমাংশ জুড়ে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের মানুষের কাছে দীর্ঘ পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ দীপেন দেওয়ান। যার জন্ম রাঙ্গামাটির একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারে। দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের জনপ্রিয় নেতা দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পাবর্ত্যবাসী। ১৭ ফেব্রুয়ারি দীপেন দেওয়ানের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর থেকেই পাহাড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। নেতাকর্মী ও সমর্থক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের পাহাড়ি-বাঙালির মাঝে চলছে সীমাহীন আনন্দ-উচ্ছ্বাস।

রাঙ্গামাটিবাসী দীপেন দেওয়ানকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করে সংসদে পাঠিয়েছে। তিনি নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা কিংবা প্রতিটি জনসভায় নির্বাচনী এলাকার অবহেলিত মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়ে তার সেই প্রতিশ্রুতিসমূহের বাস্তবায়ন অনেকটা সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন ওই অঞ্চলের মানুষ। তারা বলছেন, দীপেন দেওয়ান এখন কেবল রাঙ্গামাটির নেতা নন, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ সমগ্র পার্বত্যাঞ্চলের প্রধান অভিভাবক।ভোটদান নির্দেশিকা

দীপেন দেওয়ান পাহাড়ের অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানে সফল হবেন কি হবেন না, তা নিয়ে পাহাড়ে খুব বেশি সংশয় নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তিনি পাহাড়ের সমস্যা সমাধানে সফল হবেন বলেই তাকে এই গুরু দায়িত্ব দিয়েছেন। পাহাড়িদের দেশের মূলস্রোতে নিয়ে আসা এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য নতুন করে তাঁর স্ট্যাডি করতে হবে না। জন্ম থেকেই তিনি পার্বত্যাঞ্চলের বহু জাতিগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, অভাব-অভিযোগ খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাছাড়া তিনি একজন মেধাবী রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী।

দুর্নীতি কিংবা স্বার্থপরতার উদাহরণ নেই তাঁর ব্যক্তি ডিকশনারিতে। অর্থলিপ্সা কিংবা আত্মকেন্দ্রিকতা তাঁর স্বভাবে নেই। মানুষের সেবায় আত্মনিবেদন করবেন বলেই তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়েছেন। ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশেই জেলা যুগ্ম জজের চাকরি ছেড়ে দীপেন দেওয়ান যোগ দিয়েছেন দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বিএনপিতে। গভীর আন্তরিকতায় কাঁধে তুলে নিয়েছেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির নেতৃত্ব। কেবল রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সফল সভাপতিই নন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পদেও উল্লেখোগ্য অবদান রেখে হাই কমান্ডের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি।ভোটদান প্রক্রিয়া

২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শক্ত হাতে রাঙ্গামাটি বিএনপির হাল ধরে আছেন দীপেন দেওয়ান। ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন নেতাকর্মীদের। মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রীর স্থান পেয়ে তিনি তার মেধা ও যোগ্যতায় পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে একটি ব্যতিক্রমী ইতিহাস গড়বেন এমনটাই চাইছেন তার দল ও পাহাড়ের মানুষ।

তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি ফেরানোর দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তাছাড়া পাহাড়ি-বাঙালি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে পার্বত্য উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখবেন। তবে এক্ষেত্রে খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির অপর দুই সংসদ সদস্য, মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের কর্মীবৃন্দ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড, তিন জেলা পরিষদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা বিশেষ সহায়ক হবে।

দীপেন দেওয়ানের হাতে রচিত হোক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশের এক দশমাংশ আয়তনের পার্বত্যভূমির নতুন ইতিহাস। সমঅধিকার নিশ্চিত হোক ভ্রাতৃত্ববোধ ও শান্তি-সম্প্রীতির মাধ্যমে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions