
ডেস্ক রির্পোট:- জাতীয় নির্বাচন শেষ হতেই আলোচনা শুরু হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একমাত্র চট্টগ্রাম বাদে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন চলছে প্রশাসক দিয়ে। তাই এখন আলোচনা চলছে কারা হচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নগরপিতা। ইতোমধ্যেই বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বিএনপির সম্ভ্যাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম। তিনি ঢাকা-১৭ আসনের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
এ ব্যাপারে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলীয় ফোরামে এ বিষয়ে আলোচনা করব। ফোরামে আলোচনা সাপেক্ষে মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ করবে বিএনপি।’ জামায়াতের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম এসেছে ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীনের। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. আবদুল মান্নানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে একই সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নামও রয়েছে আলোচনায়। এ ব্যাপারে দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন বলেন, কেবল জাতীয় নির্বাচন শেষ হয়েছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এখন দুটি আসনের উপনির্বাচন এবং সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। এরপর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হবে। এক্ষেত্রে প্রথমেই ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য সিটি করপোরেশন নির্বাচন শুরু হবে। বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুরাইয়া আখতার জাহান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে রয়েছেন মো. মাহমুদুল হাসান। কাউন্সিলর না থাকায় নাগরিক সেবায় নেমে এসেছে ভোগান্তি। স্থবিরতা নেমে এসেছে নগর সেবায়। দেশের ৫৪টি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তাই দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবি এলাকাবাসীর। মগবাজারের বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, মেয়র, কাউন্সিলর না থাকায় জন্মসনদ নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এলাকায় কোনো সমস্যায় কারও কাছে অভিযোগ দেওয়ার জায়গা নেই। রাস্তাঘাট ভাঙা, ফুটপাত নেই, মশার কামড়ে দিনে রাতে অতিষ্ঠ অবস্থা। জনগণের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হলে নগরবাসীর কাছে তার জবাবদিহিতা থাকবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকারগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদে এখন জনপ্রতিনিধি নেই। তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। এক দিনে তো সম্ভব নয়, আমরা দ্রুত সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে গতকাল প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষের নানান সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। আমাদের সবকিছুর মধ্যেই গণতন্ত্র থাকবে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তৃণমূল মানুষকে নিয়ে কাজ করে। আমি বিশ্বাস করি, এ মন্ত্রণালয়কে গতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।বাংলাদেশ প্রতিদিন