শিরোনাম
খাগড়াছড়িেতে ১১ প্রার্থীর মধ্যে ৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় ওয়াদুদ ভূইয়াকে দেখতে চান পার্বত্যবাসী; দেশব্যাপী কল্যাণে ভূমিকার প্রত্যাশা নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৩২ দুর্গম কেন্দ্র থেকে হেলিকপ্টারে করে ফিরছে ভোটের সরঞ্জাম ও কর্মকর্তারা পার্বত্য তিন জেলায় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটের গরমিল খাগড়াছড়ি আসনে পোস্টাল ভোটে সর্বোচ্চ পেয়েছে দাঁড়িপাল্লা রাঙ্গামাটিতে ১,২৮৩ ভোটার কোনো প্রার্থীকে ভোট দেননি,গণভোটে অংশ নিলেও সংসদ নির্বাচনে ব্যালট জমা দেননি রাঙ্গামাটির রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়: দীপেন দেওয়ানের উত্থান, সংগ্রাম ও বিজয়ের গল্প বান্দরবানে দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত রাঙ্গামাটিতে সাত প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনের জামানত বাজেয়াপ্ত

পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় ওয়াদুদ ভূইয়াকে দেখতে চান পার্বত্যবাসী; দেশব্যাপী কল্যাণে ভূমিকার প্রত্যাশা

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ দেখা হয়েছে

শামসুল আলম:–পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা—খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এখন একটি বিষয়ই বেশি আলোচিত হচ্ছে—অভিজ্ঞ রাজনীতিক আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া-কে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি। স্থানীয়দের মতে, তিনি শুধু একটি জেলার নন; বরং পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক বাস্তবতা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখেন। তাই তাকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিলে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাশাপাশি সারা দেশের মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
পার্বত্য অঞ্চলের বাস্তবতায় অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজন—
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভৌগোলিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে একটি বিশেষ অঞ্চল। দুর্গম পাহাড়ি জনপদ, সীমান্তবর্তী অবস্থান, বহু জাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থান এবং উন্নয়ন বৈষম্য—সব মিলিয়ে এই অঞ্চল পরিচালনায় প্রয়োজন সমন্বিত ও সংবেদনশীল নেতৃত্ব। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ওয়াদুদ ভূইয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংগঠন পরিচালনার দক্ষতা তাকে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখে।
তাদের ভাষ্য, পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে তিনি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো আরও শক্তভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন। বিশেষ করে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণ, পাহাড়ি কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কার্যকর সিদ্ধান্ত আনা সহজ হবে।
সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের প্রশ্নে ভূমিকা—
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও সহাবস্থান বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন যিনি উভয় সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করতে পারেন এবং সংলাপ ও সমঝোতার পরিবেশ বজায় রাখতে সক্ষম।
ওয়াদুদ ভূইয়ার সমর্থকরা দাবি করেন, তিনি অতীতে বিভিন্ন সংকটময় সময়ে সমন্বয়মূলক ভূমিকা পালন করেছেন। ফলে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে পার্বত্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা আরও সুসংহত হবে।
জাতীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য অবদান—
স্থানীয়দের প্রত্যাশা শুধু পার্বত্য অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়। তারা মনে করেন, পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলে তিনি সারা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমেও অবদান রাখতে পারবেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান—এসব খাতে নীতি নির্ধারণে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি জাতীয় অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চল উন্নয়ন, টেকসই পর্যটন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের মতো বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা জাতীয় পর্যায়ে কাজে লাগানো যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি বড় অংশের মানুষের প্রত্যাশা—পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নকে নতুন মাত্রা দেওয়ার পাশাপাশি সারা দেশের মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। সামনে কী প্রত্যাশা?—
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন গতি আসতে পারে। বিশেষ করে পার্বত্য অবকাঠামো উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতি জোরদার, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পর্যটন শিল্পের প্রসার এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
এছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকলে পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি—যেমন উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ—আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা—–
তরুণ সমাজ মনে করছে, নতুন প্রজন্মের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান, পর্যটন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া জরুরি। তারা আশা করছে, পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলে তিনি জাতীয় পর্যায়ে এমন নীতিমালা প্রণয়নে ভূমিকা রাখবেন, যা পার্বত্য চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বনির্ভর করে তুলবে।
শেষ কথা—
সবশেষে স্থানীয়দের অভিমত—এটি কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক দাবি নয়, বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তর স্বার্থের প্রশ্ন। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের পাশাপাশি সারা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এখন দেখার বিষয়, সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কী আসে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions