
ডেস্ক রির্পোট:- মার্কিন যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জনসমক্ষে আসার পর পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা সম্প্রতি উন্মোচিত মার্কিন বিচার বিভাগের নথিপত্রগুলোকে জীবন্ত নরক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি বলেন, পশ্চিমা কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর ধরে এই আন্তর্জাতিক শিশু পাচার চক্রকে সুরক্ষা দিয়ে এসেছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত চূড়ান্ত দফার এই তিন হাজার পৃষ্ঠার নথিতে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত ইমেইল, ছবি এবং ভিডিও ছাড়াও এক কিশোরী ভুক্তভোগীর ডায়েরি পাওয়া গেছে। সেই ডায়েরিতে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে, এপস্টেইন তাকে নিজের সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য একটি ‘হিউম্যান ইনকিউবেটর’হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরপরই সেই নবজাতককে সরিয়ে ফেলা হয় এবং সেই শিশুটির ভাগ্যে কী ঘটেছিল তা আজও অজানা রয়ে গেছে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে কেন এই অপরাধের সাথে জড়িত প্রধান সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলকে মাত্র ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো এবং কেন এই ভয়াবহ আন্তর্জাতিক পাচারকাণ্ডের বিষয়ে কোনো বৈশ্বিক তদন্ত শুরু করা হয়নি।
জাখারোভা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে এপস্টেইনের ডায়েরি ও নথিতে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, সেখানে কেন এখনো তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিবিদেরা এই তালিকায় থাকলেও পশ্চিমা বিচার ব্যবস্থা তাদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি দাবি করেন। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্রের মতে, কেনেডি হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন বিস্ফোরণ; পশ্চিমা বিশ্বে যখনই অভিজাত শ্রেণির স্বার্থ জড়িত থাকে, তখনই তদন্তের নামে ধামাচাপা দেওয়ার সংস্কৃতি দেখা যায়। এই ঘটনা পশ্চিমা বিচার ব্যবস্থার চরম ভণ্ডামিকেই বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত করে দিয়েছে।
সূত্র: আরটি