শিরোনাম

বান্দরবানেরথানচির ক্রাউ ডংহ, অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪২ দেখা হয়েছে

বান্দরবান:- বান্দরবানের থানচি উপজেলা পাহাড়ি প্রকৃতির এক নীরব জনপদ। এই থানচিতেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ক্রাউ ডংহ বা ডিম পাহাড়। চারপাশে সবুজের সমারোহ, আর দূরে দূরে পাহাড়ের সারি যেন প্রকৃতি নিজেই এঁকে রেখেছে এক জীবন্ত ক্যানভাস। ডিম পাহাড় এখন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সুন্দর একটি পর্যটন স্থান, যা প্রকৃতির সাথে মানুষের সাহসিকতার গল্প বলে।

সবুজ পাহাড় আর নীরব প্রকৃতির মাঝে ডিম পাহাড় যেন পথিকের জন্য এক মুহূর্তের থামা। এখানে নেই কোনো আয়োজন, নেই কোলাহল—আছে শুধু বাতাসের শব্দ আর সময়ের ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা পাথরের নিঃশব্দ গল্প। রোদে ভেজা গোল পাথরগুলো পাহাড়ের বুকে প্রাকৃতিক ভাস্কর্যের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। যা ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

বান্দরবানের থানচি–আলীকদম সড়কে চলতে গেলে হঠাৎই চোখে পড়ে এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক দৃশ্য—ডিম পাহাড়। রাস্তার পাশের পাহাড়ের গায়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য গোলাকার পাথর দূর থেকে দেখলে ডিমের মতো। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ডিম পাহাড়ে উচ্চতা প্রায় আড়াই হাজার ফুট। এই পাহাড় শুধু একটি জায়গা নয়, এটি একটি অনুভূতি। পাহাড়ি পথে হঠাৎ পাওয়া এক গল্প, যা শব্দে নয়—নীরবতায় কথা বলে।

ডিম পাহাড়কে স্থানীয় ভাষা ডাকা হয় ক্রাউ ডংহ অর্থাৎ মুরগী ডিম। কথিত আছে এই ডিম পাহাড়ে ত্রিপুরা ও ম্রো জনগোষ্ঠীরা কোন কিছু মানত করলে তা নিমিষে পাওয়া যায়। বৃষ্টির বা জুমের ধান ভালো ফলন পেতে এই পাহাড়ে পশু পাখি মানত করা হয় পাহাড়টিকে। বর্তমানে এখনো ডিম পাহাড়কে মানছে ওই এলাকার বসবাসরত জনগোষ্ঠীরা।

থানচি – আলীকদম সড়কে মাঝামাঝি ২১ কিলোমিটার দূরে ডিম পাহাড়ে অবস্থান। সড়ক পথে দাঁড়িয়ে দেখলে মনে হয় ডিমের মতন গোলাকারে সাজিয়ে আছে পাহাড়টি। চারিদিকে সবুজের মোড়ানো প্রকৃতি ক্যানভাস। সড়কের পাশে ছোট্ট একটি টং ঘর। সেখান থেকে দেখা মিলে পুরো পাহাড়টি। আঁকাবাঁকা মেঠোপথ বেয়ে ছুটে আসছে পর্যটকেরা। কেউ ছবি তুলছেন কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।

ডিম পাহাড় নীচে টং ঘরে চা বিক্রি করছেন লাঙয়েন ম্রো। কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন- ডিম পাহাড়কে স্থানীয় ভাষা ডাকা হয় ক্রাউডং। সেই পাহাড়ে কাউকে উঠতে দেয়া হয় না। কথিত অনুসারে ওই পাহাড়কে মানত করা হয়। জুমের ধান যাতে ভালো হয় আর সময়ের মত বৃষ্টি না পড়লে পশু প্রাণী মাধ্যমে নানা কিছু মানত করলে তা নিমিষের পাওয়া যায়। এই ডিম পাহাড়কে দেখতে পর্যটকেরা ছুটে আসেন আর ছবি তুলেন। প্রতিদিন শতাধিক পর্যটক আসে আর চলে যান।

কুমিল্লা থেকে বেড়া আসা পর্যটক দম্পতি আঁখি ও সায়েদ বলেন, আলীকদম হয়ে থানচি বেড়াতে এসেছেন তিনদিনের। থানচি প্রবেশের পথে ডিম পাহাড় দাঁড়িয়ে ছবি তুলে সাক্ষী হিসেবে রেখেছেন। প্রাকৃতিক সবুজকে ধরে রেখে যদি আরো সৌন্দর্য বাড়ানো গেলে পর্যটকরা আরো আসবে বলে জানান তারা।

থানচি উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল বলেন, ডিম পাহাড়ে সড়কের পাশে প্রাকৃতিককে অক্ষত রেখে রিলিং ও ইকো সিষ্টেম কটেজ স্থাপন করা প্রক্রিয়া চলছে। যাতে করে পর্যটকরা সেখানে রাত্রীযাপন করতে পারে ও স্থানীয়দের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। একই সাথে ভ্রমনপিপাসুদের আরো বিমোহিত করতে আর ঢেলে সাজানো পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions