
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বর্বর এই হামলায় কমপক্ষে ১৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশুও রয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র, ঘরবাড়ি ও একটি স্কুলকে লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে গাজার কর্তৃপক্ষ। খবর আনাদোলু
ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তাসংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ইসরায়েল গাজাজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু, আবাসিক ঘরবাড়ি এবং একটি স্কুলকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালিয়েছে।
এর মধ্যে গাজা শহরের জেইতুন এলাকায় একটি গুদাম ও একটি বাড়িতে হামলায় চারজন নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন। খান ইউনিসের মেওয়াসি এলাকায় একটি তাঁবুতে ড্রোন হামলায় চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও দুই শিশু ভাইবোন ছিল। জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্কুলে হামলায় একজন নিহত এবং শিশুসহ অন্তত আটজন আহত হন।
এছাড়া বেইত লাহিয়া, দেইর আল-বালাহ এবং বুরেইজ শরণার্থী শিবিরেও তাঁবু ও বাড়িতে চালানো হামলায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো গাজা শহরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। কিছু এলাকায় সাধারণ মানুষকে আগেই সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেয়া হয়, এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন করে বাস্তুচ্যুতের ঢল নামে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলা ও যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে এসব হামলায় ৪২৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ২০৬ জন আহত হয়েছেন।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, বেসামরিক নাগরিক ও আশ্রয়কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বেসামরিক মানুষের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।