শিরোনাম

ভোট চুরির ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৫ দেখা হয়েছে

► রাষ্ট্রের ভিতরে চোরতন্ত্র কায়েম হয়েছিল ► শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ হয়েছিল বেপরোয়া ► সীমা ছাড়িয়ে যায় রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ► শেখ মুজিবের বাকশালে থেমে যায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা

ডেস্ক রির্পোট: ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করে (নাইট ইলেকশন) জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে তৎকালীন শেখ হাসিনার সরকার। ২০২৪ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার রোডম্যাপ করেছিল আওয়ামী লীগ। জনগণ তাদের এই নীলনকশা প্রত্যাখ্যান করেছে। গত ১৬ বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে দেশ থেকে বছরে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে চোরতন্ত্র কায়েম করা হয়েছিল। চলতি বছরের বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ে এভাবেই তুলে আনা হয়েছে শেখ হাসিনা আমলের দুঃশাসনের নানা চিত্র। শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল শাসনব্যবস্থার কারণে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থেমে গিয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে নিপীড়ক শাসক হিসেবে। গত ১ জানুয়ারি সারা দেশে ছাত্রছাত্রীদের হাতে বিনামূল্যের এসব বই বিতরণ করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতেই পাঠ্যবইয়ে এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানিয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে স্থান পেয়েছে ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনের নানা কাহিনি, ছবি, কার্টুনসহ নানা বিষয়ও।

তথ্যমতে, নবম ও দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে রয়েছে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা’ পাঠ। এ অধ্যায়ে বলা হয়েছে- গণমানুষের প্রত্যাশা ছিল স্বাধীনতা উত্তর দেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র এবং সর্বজনীন মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে। এই প্রত্যাশা বারবার হোঁচট খেয়েছে। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিব সরকার সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থেমে যায়। আরও বলা হয়- ২০০৮ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ক্ষমতাসীন হয়ে শেখ হাসিনা স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার আকাক্সক্ষায় কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠেন। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষের ওপর দমন নিপীড়ন শুরু করেন। দুর্নীতির প্রসার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করার মাধ্যমে দলীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এই রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন সীমা ছাড়িয়ে যায়। এরই মধ্যে শেখ হাসিনা তার ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনব্যবস্থা বাতিল করে। রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিতে অস্বীকার করলে শুরু হয় সংকট। এভাবে ২০১৪ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে তৎকালীন শেখ হাসিনার সরকার। এরপর ২০২৪ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার রোডম্যাপ করে আওয়ামী লীগ। জনগণ তাদের এই নীলনকশা প্রত্যাখ্যান করে। শেখ হাসিনার শাসনকে ফ্যাসিবাদী আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে- শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের অর্থনৈতিক ফলাফল ছিল ধ্বংসাত্মক। ১৬ বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে দেশ থেকে বছরে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে চোরতন্ত্র কায়েম করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল ও ভঙ্গুর করে দেওয়া হয় বলেও পাঠ্যবইয়ে উল্লেখ করা হয়।

জুলাই বিপ্লব নিয়ে পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে- চাকরিতে কোটা প্রথাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা চব্বিশের জুন থেকে আন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলন দমন করতে ছাত্রলীগ (নিষিদ্ধ ঘোষিত), যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সরকারি বাহিনীর সঙ্গে জুলুম নির্যাতন শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম হামলা চালালে আন্দোলন নতুন মাত্রা লাভ করে। পরদিন ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েক শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। এ ঘটনায় সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও রাজপথে জন আক্রোশের বিস্ফোরণ ঘটে। লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলন দমাতে শেখ হাসিনা সরকার আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এর প্রতিবাদে বিপুল সংখ্যক মানুষ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়। অবশেষে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যায়। এতে প্রমাণিত হয় নিপীড়ক শাসক যত শক্তিশালী হোক গণপ্রতিরোধে তার পরাজয় অনিবার্য।

ষষ্ঠ শ্রেণির চারুপাঠে ‘কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা’ শিরোনামে লেখা ছাপানো হয়েছে। কার্টুনের ছবিতে যে প্রতিবাদ বা বিদ্রোহের প্রকাশ ঘটে, তা দেখানো হয়েছে এই লেখায়। এই লেখায় কার্টুনের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়ার চিত্র।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, আওয়ামী আমলে পাঠ্যবইয়ে অযাচিতভাবে নানা তথ্য সংযোজন করা হয়েছিল। শেখ মুজিবকে অতিরঞ্জিতভাবে ছাত্রছাত্রীদের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে অতিরঞ্জিত বিভিন্ন তথ্য বাদ দেওয়া হয়েছে। আর জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকার ও রাষ্ট্রীয় বাহিনী ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে যে আক্রমণ, নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে সেটিও তরুণ প্রজন্মের পাঠ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আগামী প্রজন্মকে তথ্যগুলো জানাতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) পরামর্শে পাঠ্যবইয়ে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে।বাংলাদেশ প্রতিদিন

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions