
কয়েক বছর ধরে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র প্রতিনিধিত্ব করছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তবে বাঁ–হাতি এই কাটার মাস্টারের আসন্ন আইপিএলে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠন। যার প্রেক্ষিতে এবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই মুস্তাফিজকে কলকাতার স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক নানা ঘটনাবলির কারণে কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজিকে তাদের স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজকে রিলিজ করে দেওয়ার জন্য বোর্ড থেকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক নানা ঘটনাবলির কারণে কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজিকে তাদের স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজকে রিলিজ করে দেওয়ার জন্য বোর্ড থেকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। যার ফলে রেকর্ড দামে দল পেয়েও এবারের আইপিএলে খেলা হচ্ছে না মোস্তাফিজের।
আবুধাবিতে হওয়া মিনি নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে নেয় কলকাতা। ওই নিলামে চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত তাকে পায় কলকাতা।
এ প্রসঙ্গে সাইকিয়া বলেন, ‘সাম্প্রতিক যেসব ঘটনা ঘটছে, তার প্রেক্ষিতে বিসিসিআই কেকেআরকে তাদের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশের খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে বলেছে।’
একই সঙ্গে তিনি জানান, কেকেআর চাইলে তার বদলি হিসেবে অন্য খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমতিও দেবে বোর্ড। মুস্তাফিজকে দলে নেয়ার পর থেকেই কেকেআর ও দলের মালিক শাহরুখ খানের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়।
বিজেপি ও শিব সেনার একাধিক রাজনৈতিক নেতা জাতীয় অনুভূতি উপেক্ষা করার অভিযোগ তোলেন। তবে আসন্ন ভারত–বাংলাদেশ সিরিজ নিয়ে বিসিসিআই সচিব কোনো মন্তব্য করেননি।
কলকাতা মুস্তাফিজকে দলে নেয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে অনাপত্তিপত্র দিয়েছিল। এতে করে তিনি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজ মিস করে পুরো আইপিএলে খেলার সুযোগ পেতেন।
আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানের অভিজ্ঞতাও কম নয়। তিনি এখন পর্যন্ত ৬০ ম্যাচে ৬৫টি উইকেট নেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ক্যাপিটালস ও চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা আছে এই বাঁহাতি পেসারের।
মুস্তাফিজ দল পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের একাংশ। দেশটির কিছু ধর্মীয় নেতা দাবি তুলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে আইপিএলে সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
এমনকি কেকেআর ও এর মালিক শাহরুখ খানকে বয়কটের ডাকও দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের কিছু ধর্মীয় নেতা ম্যাচের পিচ নষ্ট করার হুমকিও দিয়েছেন। মুস্তাফিজকে দলে টানায় ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজেপির কট্টরপন্থী নেতা সঙ্গীত সোম শাহরুখ খানকে ‘গাদ্দার’ আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজুর রহমানের মতো খেলোয়াড়রা যদি ভারতে খেলতে আসেন, তবে বিমানবন্দরের বাইরে পা রাখতে দেওয়া হবে না, এটাই আমার শপথ। শাহরুখ খানের মতো গাদ্দাররা বিষয়টি বুঝে নেওয়া উচিত।’
মাঠের বাইরের এই উত্তাপ নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছে বিসিসিআই। বিসিসিআইয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মুস্তাফিজের আইপিএল খেলা নিয়ে কোনো আইনি বা সরকারি নিষেধাজ্ঞা নেই।
বোর্ডের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বুঝি এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। কূটনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আমাদের নজর আছে এবং আমরা সবসময় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তবে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। বাংলাদেশ আমাদের শত্রু রাষ্ট্র নয়। তাই নিয়ম অনুযায়ী মুস্তাফিজের আইপিএল খেলতে কোনো বাধা নেই।’