ডেস্ক রির্পোট:- ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ (কর্মপরিকল্পনা) প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে নির্বাচন আয়োজনের সর্বশেষ কাজের সময়সীমা দেয়া হয়েছে ৩ ফেব্রুয়ারি। এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সকল কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করা হবে। ফলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে (রোজার আগে) ভোটগ্রহণের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরের শুরুতে ঘোষণা করার পরিকল্পনা রেখেছে ইসি। রোডম্যাপের মধ্যে সংলাপ, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়, মিটিং, ব্রিফিং, প্রশিক্ষণ, মুদ্রণ, বাজেট বরাদ্দ, আইটিভিত্তিক প্রস্তুতি, প্রচারণা, সমন্বয় সেল, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক থেকে যাবতীয় কর্মসম্পাদনা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নসূচি স্থান পেয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ রোডম্যাপটি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের রোডম্যাপে যে প্রস্তুতির কাজগুলো আছে তা একটার সঙ্গে আরেকটা যুক্ত। ইতোমধ্যে এর মধ্যে কিছু কিছু কাজ শুরু করা হয়েছে। এ কর্মপরিকল্পনা ২৪টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
ইসির রোডম্যাপের ২৪টি কার্যক্রম সম্পাদনের র্নিধারিত সময়সীমা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে হলো- অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ : এ সংলাপটি সেপ্টেম্বরে শেষ সপ্তাহে থেকে শুরু হয়ে শেষ হতে সময় লাগবে দেড় মাস অর্থ্যাৎ নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ : নির্বাচনের আগে তিন দফায় ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় ধাপের সম্পূরক খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যা চূড়ান্ত করা হবে ৩১ আগস্ট। আর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩০ নভেম্বর। এর জন্য খসড়া প্রকাশ হবে ১ নভেম্বর। নির্বাচনি আইবিধি : নির্বাচনের যাবতীয় আইনবিধি ৩১ আগস্টের মধ্যে সংশোধনের প্রস্তাব ও প্রণয়ন। এছাড়া সংসদী আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন সংশোধন, ভোটার তালিকা আইন সংশোধন, সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা চূড়ান্ত, দেশি, বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সংবাদিক নীতামালা চূড়ান্ত, নির্বাচন পরিচালনা (সংশোধন) ২০২৫ প্রতীকসহ, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ২০০৯ এগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে, যা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার সম্ভাবনার সময় দিয়েছে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন : নতুন রাজনৈতিক দলের বাচাইয়ের তথ্যের পর তদন্ত চলছে। চূড়ান্ত তথ্য যাচাইয়ের পর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন দল চূড়ান্ত হবে। সীমানা পুনঃনির্ধারণ : সীমানা নির্ধারণে ইসির সিদ্ধান্তের পর ৮৩টি আসন থেকে ১৭৬০টি আপত্তি দাবি আসে। ইসি তাদের আপত্তি ও দাবিগুলো শুনানির মাধ্যমে বিবেচনা করছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করবে এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জিআইএস ম্যাপ প্রস্তুত ও প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিবন্ধনের সময়সীমা : ২২ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত করে ১৫ নভেম্বর নিবন্ধন সনদ প্রদান করবে ইসি। ইতোমধ্যে পর্যবেক্ষণ নিবন্ধনের আবেদন আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কমিশন। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের অনুমতি প্রদানে যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করা হবে ১৫ নভেম্বর মধ্যে। এছাড়া ১৫ নভেম্বর মধ্যে নির্বাচনি তথ্য প্রচারের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয়, টিএন্ডটি, বিটিআরসিসহ বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সঙ্গে সভা করবে ইসি। নির্বাচনি ম্যানুয়েল, নির্দেশিকা, পোস্টার ইত্যাদি মুদ্রণ শেষ করা হবে ১৫ সেপ্টেম্বর মধ্যে। নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ২৯ আগস্ট থেকে ভোটগ্রহণের চার থেকে পাঁচ দিন আগে যাবতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ করবে ইসি।
নির্বাচনের সকল প্রকার মালামাল সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম শেষ করা হবে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে। ব্যবহার উপযোগী স্বচ্ছ ব্যালট চূড়ান্ত করা হবে ৩০ নভেম্বর মধ্যে। ১৫ নভেম্বরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাজেটে চূড়ান্ত করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অনূকূলে অর্থ বরাদ্দে জন্য ১৬ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের জন্য জনবল ও প্রসাশনিক ব্যবস্থাসংক্রান্ত সকল কার্যক্রম ৩০ মধ্যে সম্পন্ন করতে চায় ইসি। এছাড়া ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বরে মধ্যে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম সভা হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য কার্যাবলি গ্রহণ করবে ধাপে ধাপে। নির্বাচনের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে ৩১ অক্টোবর। ৩১ অক্টোবরের আইসিটি সংক্রান্ত সকল কাজ শেষ করতে চায় কমিশন। ইসি সচেতনতামূলক প্রচার কাজ শেষ করতে চায় ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা, ফলাফল কীভাবে প্রকাশ ও প্রচার করা হবে, বেসরকারি ফলাফল প্রচারসংক্রান্ত কার্যক্রম নির্ধারণ সহ ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোটের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রেখেছে ইসি।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গড়ে তিন হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এক্ষেত্রে গড়ে ৬০০ জন পুরুষ ভোটার ও ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে কক্ষ নির্ধারণ করা হবে। গণপরিষদ ও গণভোটের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা জাতীয় নির্বাচনের জন্য, সংসদ নির্বাচনের বাইরে আমাদের অন্য কোনো কিছু ভাবার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা ২০২৫-এর ৩(১) দ্রুততম সময়ে সংশোধন করা হবে। একই সঙ্গে ভোটগ্রহণের তারিখের ২৫ দিন পূর্বে ভোট কেন্দ্রগুলোর চূড়ান্ত তালিকা সরকার গেজেট প্রকাশ করবে। আখতার আহমেদ আরো বলেন, ব্যবহার উপযোগী স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ৩০ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে এবং সংসদ নির্বাচনের বাজেট ১৫ নভেম্বর চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অনুকূলে অর্থ বরাদ্দের জন্য বৈঠকটি ১৬ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
তফসিল কবে এবং ভোট কবে এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনের আখতার আহমেদ বলেন, ভোটগ্রহণের ৬০ দিন আগে তফসিল দেওয়া হবে। আমাদের প্রধান উপদেষ্টার দফতর বলেছে আগামী রমজানের আগে ভোট করার জন্য। আমার যদি ভুল না হয় তাহলে ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু। আবার রমজান চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। এভাবে হিসাব করলে সম্ভাব্য নির্বাচনের তারিখ যে কেউ বের করতে পারবে।