শিরোনাম
কক্সবাজার ও নওগাঁয় সাত খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য প্রত্যেক উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দ ইকো-ট্যুরিজমের প্রসারে বাংলাদেশ ও কানাডার কাজের সুযোগ রয়েছে : পার্বত্যমন্ত্রী রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট বান্দরবানে উজাড় হচ্ছে পাড়াবন, কাটা পড়ছে শতবর্ষী গাছ রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি হ্রাস পাওয়ায় একটি ইউনিট থেকে সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন পাকিস্তানের অনুরোধে মুহূর্তে বদলে গেলেন ট্রাম্প, ইসলামাবাদের লাভ, ভারতের জন্য কী বার্তা ঢাকার ৪০টি ও দেশের ৪০০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫জি সেবা চালু ফেডারেশন কাপে বসুন্ধরা কিংসের দাপুটে জয় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ইরান ও বাংলাদেশ, ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে ইরানী দূতাবাসের সতর্কতা

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৭ দেখা হয়েছে

রাঙ্গামাটি ডেস্ক:- রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শতাধিক গ্রামে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অপরিকল্পিত জুম চাষের কারণে বন উজাড় হওয়ায় এবং ছড়া ও ঝরনা শুকিয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরের আশপাশের এলাকা জীবতলী, কচুছড়ি, ৪ কিলো, নোয়া আদাম, মুসলিম ব্লক, প্রশিক্ষণ টিলা, বাঙালী পাড়া, সাজেকসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় শতাধিক গ্রামে ৩০ হাজারের বেশি লোক এখন পানির সংকটে আছেন। এসব লোকজন যুগ যুগ ধরে ঝরনা, ছড়া ও ঝিরি থেকে পানি ব্যবহার করে জীবনযাপন করছেন। তবে এখন এসব এলাকার বেশির ভাগ প্রাকৃতিক ঝিরি-ঝরনা শুকিয়ে গেছে। অব্যাহতভাবে গাছ কাটার ফলে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এই কারণে ঝিরি-ঝরনা শুকিয়ে গেছে বলে জানান এসব এলাকার বাসিন্দারা।

শুকনো মৌসুমে এসব গ্রামে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। গ্রামের দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে গিয়েও পানি পাচ্ছেন না বাসিন্দারা। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে বসবাস করলেও পানির অভাবে এসব গ্রামের অনেক বাসিন্দা গ্রাম ছাড়ার কথা ভাবছেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সমতল এলাকার চেয়ে এক থেকে দুই হাজার ফুট ওপরে অবস্থিত এসব গ্রামে নলকূপ কিংবা রিংওয়েল বসানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। বাসিন্দাদের একমাত্র পানির উৎস ঝিরি-ঝরনা।

সম্প্রতি বাঘাইছড়ির নানা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সাজেক ইউনিয়নের ৯ নম্বর পাড়া, ৮ নম্বর পাড়া শিয়ালদাই, হাচ্ছেপাড়া, অরুণপাড়া ও লংকরসহ নানা গ্রামে পানির জন্য হাহাকার বিরাজ করছে। এসব গ্রামে ৩০ থেকে ৫০টি পরিবারের বসবাস। গ্রামগুলোর পাহাড়ি ভূমিতে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জুম চাষ হয়। আশপাশের পাহাড়ে গাছ নেই বললেই চলে। বনদস্যুরা নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে এখন ঝিরি-ঝরনায় পানি পাওয়া যায় না।

সাজেকের শিয়ালদাই গ্রামের কারবারি ভুজন ত্রিপুরা ও লক্ষ্মীবালা চাকমা বলেন, গত বছর এ সময় কোনো পানির অভাব ছিল না।

এ বছর মার্চ মাসের শেষের দিকে পানি সংকট শুরু হয়। আজ থেকে আট থেকে দশ বছর আগে গ্রামের আশপাশের ছড়াগুলোতে সারা বছর পানি পাওয়া যেত। জুম চাষ বাড়ায় ও বন উজাড় হয়ে যাওয়ায় দিন দিন পানি সংকট দেখা দিচ্ছে।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, এখন আর আগের মতো পাহাড়ি ঝরনায় পানি নেই। সে কারণে পানির অভাব বেশি।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রুশো খিশা বলেন, এসব গ্রামে পানি সরবরাহ করতে হলে দাতা সংস্থার প্রয়োজন হবে। এসব জায়গায় আগে নিবিড় বন ছিল। তবে এখন বন উজাড় হয়ে যাওয়ায় পানির স্তর কমে গেছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অবাধে জুম চাষের নামে বন উজাড় ও বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় পাহাড়ি এলাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বৃষ্টিপাত হলে এই সংকট কেটে যাবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions