
ডেস্ক রির্পোট:- দেশের সম্পদ এবং সম্মান যাদের হাতে নিরাপদ ১২ তারিখে তাদের হাতেই দেশের চাবি উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। বলেন, দেশবাসী এবার পরিবর্তন চায়। জামায়াত চায় দেশের মানুষের বিজয়। নির্বাচনে জামায়াত বিজয়ী হলে দেশের ১৮ কোটি মানুষ বিজয়ী হবে।
গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত পৃথক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সকালে ‘মিরপুর-১০’ নম্বর এলাকায় অফিস ও মাল্টিমিডিয়া বাসের উদ্বোধন করে নির্বাচনী প্রচার কাজ শুরু করেন ডা. শফিকুর রহমান। পরে তিনি কাওরান বাজারে ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এরপর ঢাকা ১৪ ও ঢাকা-১৬ আসনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। রাতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রাজধানীর একটি হোটেলে মতবিনিময় করেন জামায়াত আমীর।
চাঁদাবাজ রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করে জামায়াত আমীর বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক কী? এটি তো দুর্বৃত্তপনা। রাজনীতি হলো নীতির রাজা। কেন চাঁদাবাজির করবেন? চাঁদাবাজি বন্ধ করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠাবো না। সঙ্গে আমরাও মাঠে নামবো।
রাজধানীর কাওরান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বৈষম্য চাই না। ন্যায় বিচার কায়েম করতে হবে, সাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে। এই যে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, বাজপাখির মতো কালো চেহারা ধারণ করে মানুষের ওপর ছোঁ মারে।
তিনি বলেন, ২৮ তারিখ চাঁদাবাজদের হাতেনাতে শিক্ষা দিয়েছিলেন কাওরান বাজারের ব্যবসায়ীরা। আমি বাংলাদেশের মানুষের কাওরান বাজারের মতো সবখানে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান করছি। যেভাবে চাঁদাবাজি হচ্ছে, এটা হতে পারে সরকারের দায়িত্ব অবহেলা ও কিছু লোকের বাটোয়ারার কারণে। তিনি বলেন, আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি ১২ তারিখ জনগণের ভোটে আমরা নির্বাচিত হলে, চাঁদাবাজদের নির্মূল করা হবে। আমরা আশা রাখি, ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে। নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে নব্বই ভাগ চাঁদাবাজের হাত অবশ হয়ে যাবে। কারও মুখের দিকে তাকানো হবে না। চাঁদার কবল থেকে মুক্তির জন্য আমরা সেদিন নির্দয় নিষ্ঠুর হবো। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কৃষক তার পণ্যের মূল্য পায় না। পণ্য ঢাকায় আসতে আসতে মূল্য তিন-চারগুণ হয়ে যায়। এটির কারণ, সিন্ডিকেট ও চাঁদা। এদের কারণে কৃষক, ভোক্তা ও ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, এখন মুসিবতে পড়েছি, আমি রাজনীতি করবো, আমি চাঁদাবাজিও করবো; কিন্তু আমাকে চাঁদাবাজ বলবেন না। এটা কোন ধরনের কথা? আপনি চাঁদাবাজি ছেড়ে দেন, আপনাকে কেউ চাঁদাবাজ বলবে না।
শফিকুর রহমান বলেন,দু’- একজন নেতা এখন বলছেন, ঠিক আছে আমরা এত অসৎ ছিলাম, আপনারা এত সৎ ছিলেন তো ছেড়ে গেলেন না কেন? আমরা ছেড়ে যাইনি এ কারণে, অন্তত তিনটা মন্ত্রণালয় বেঁচে যাক। দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা পাক।’
জামায়াতের সাবেক আমীর মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ বিএনপি সরকারের তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও সে সময় কেউ তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জামায়াত আমীর বলেন, ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন এই এলাকার অনেক সমস্যার কথা বলেছেন। আগামীতে ক্ষমতায় এলে, আমরা আমাদের অঙ্গীকার রাখবো, ইনশাআল্লাহ্।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে ইসি’র উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আলামত ভালো নয়। মা-বোনদের গায়ে হাত দেয়া হচ্ছে। জায়গায় জায়গায় হামলা হচ্ছে, বাধা দেয়া হচ্ছে। আপনারা বলেছেন, ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্বাচন উপহার দেবেন। এখনো জনগণ আশ্বস্ত হয়নি। আপনারা উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে জনগণকে আস্থায় আনেন। অন্যথায় ব্যর্থতায় দায় নিতে হবে।
জনসভায় ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সাইফুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ঢাকা-১৪ আসনে নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ১৫ বছরে দেশে এমন কোনো পরিবার নেই, যারা ক্ষতির শিকার হয়নি। কেউ স্বামীকে, কেউ ভাইকে, কেউ সন্তানকে হারিয়েছেন। ভয় ও নির্যাতনের কারণে অনেক মানুষ দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তবে নিশ্চিত মৃত্যুর আশঙ্কা জেনেও মীর কাসেম আলী আমেরিকা থেকে দেশে ফিরে এসেছিলেন, এটি ইতিহাসে এক অনন্য ত্যাগের দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারীদের বাইরে বের হতে দেয়া হবে না- এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বাস্তবে জামায়াতের শাসনামলেই নারীরা সবচেয়ে নিরাপদ থাকবে। কর্মক্ষেত্র ও চলাচলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, মায়েরা ইজ্জতের সঙ্গে বাঁচতে চায়। আমরা যুব সমাজকে বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করতে চাই না; বরং তাদের জন্য হালাল রুজির ব্যবস্থা করতে চাই। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি জানান, শিশু থেকে বৃদ্ধ, মা থেকে বাবা সকল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। জামায়াত সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে চায়। চাঁদাবাজিকে আমরা ঘৃণা করি। ক্ষমতায় এলে কোনো চাঁদাবাজের অস্তিত্ব থাকবে না। একই সঙ্গে তাদের জন্যও হালাল উপার্জনের পথ তৈরি করা হবে।
জামায়াত আমীর বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে কোনো সুপারিশে নয় যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরি দেয়া হবে। সকল নাগরিকের অধিকার তাদের হাতেই তুলে দেয়া হবে, অধিকার আদায়ের জন্য কাউকে আর রাস্তায় নামতে হবে না।
তিনি বলেন, আমাদের যুব সমাজের কাউকে চাঁদাবাজ, দখলবাজ, অস্ত্রবাজ বানাবে- আমরা তা সহ্য করবো না। তাদেরও আমরা বুকে টেনে নিবো। সম্মানের কাজ তুলে দিবো। আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেবো না। আমরা তাদের হাতকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলবো। তারাই বাংলাদেশ গড়ে দেবে। আমরা বিশ্বাস করি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করলে, বাংলাদেশ জাম্প দিয়ে, লাফ দিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে।
জনসভায় ঢাকা-১৪ আসনে দলীয় প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানকে পরিচয় করে দিয়ে তার হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমীর।
কওমি মাদ্রাসা আমাদের হৃদয়, আমাদের কলিজা: জামায়াত আমীর
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়া হবে-এমন অপপ্রচার চলছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এটি একটি নির্জলা মিথ্যাচার! কওমি মাদ্রাসা আমাদের হৃদয়, আমাদের কলিজা। বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর পল্লবীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ পার্ক ও খেলার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন- ঢাকা-১৬ আসনের নির্বাচন পরিচালক ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মো. নাসির উদ্দীন। ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্য জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল আব্দুল বাতেন (অব.) এর পক্ষে এই নির্বাচনী জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আরও অনেক অপপ্রচার। বলা হয় যদি জামায়াতে ইসলামী বা ১১ দল ক্ষমতায় যায়, তাহলে নাকি কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেবে। এটি নির্জলা মিথ্যাচার! কওমি মাদ্রাসা আমাদের হৃদয়, আমাদের কলিজা। তারাই ইসলামী শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গভাবে ধরে রেখেছেন।
তিনি বলেন, আমরা তাদের (কওমি মাদ্রাসা) সঙ্গে ডায়ালগ করে, পরামর্শ করে এই শিক্ষার ম্যাক্সিমাইজ কীভাবে করা যায়, সর্বোচ্চ উৎকৃষ্ট উৎকর্ষ কীভাবে করা যায় তা ইনশাআল্লাহ্ আমরা করবো। আমরা মুখে নয়, কাজে প্রমাণ করবো ইনশাআল্লাহ্।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদদের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে এদেশে আর বীর সন্তানের জন্ম হবে না। আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ ও ওসমান হাদির মতো শহীদদের হত্যার বিচার এখনো সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক।