
রাঙ্গামাটি:- রাঙ্গামাটির একমাত্র সংসদীয় আসনে আসন্ন নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের মধ্যে সম্পদের বিবেচনায় সবচে এগিয়ে আছেন বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী দল-বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনি এবং তার স্ত্রীর হাতেই প্রায় আড়াই কোটি টাকা নগদ অর্থ থাকার বিষয়টি কমিশনকে জানিয়েছেন তিনি হলফনামায়।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দীপেন দেওয়ান তার জমা দেয়া হলফনামায় নিজের বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন স্থাবর সম্পত্তি ভাড়া থেকে ৯০ হাজার টাকা এবং নিজের পেশা থেকে আয় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। নির্ভরশীলের আয় ব্যবসা থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ও শেয়ার/বন্ড বা সঞ্চয়পত্র থেকে ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ১৬২ টাকা বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন তিনি।
দীপেন দেওয়ানের নিজের হাতে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ ৪৯ হাজার ১৩৫ টাকা এবং স্ত্রীর হাতে নগদ ৯৮ লক্ষ ২৪ হাজার ৮০২ টাকা আছে বলে জানিয়েছেন হলফনামায় । একই সাথে নিজের নামে সোনালী ব্যাংকের একটি হিসেবে ২০ হাজার ৬৩ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ট্রাস্ট ব্যাংকে ৪ লক্ষ ৮১ হাজার ১৪৯ টাকা আছে। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত হিসেবে দীপেন দেওয়ানের নিজের নামে আছে ১৮ লক্ষ টাকা এবং স্ত্রীর নামে আছে ৪৫ লক্ষ টাকা । স্ত্রীর নামে ২৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দামের গাড়ি থাকার তথ্যও জানিয়েছেন তিনি। একইসাথে দীপেন দেওয়ানের কাছে ২০ ভরি ও স্ত্রীর কাছে ৫০ ভরি স্বর্ণ আছে,হলফনামায় যার মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লক্ষ টাকা ও দেড়লক্ষ টাকা মাত্র ! এই হিসাবে দীপেন দেওয়ানের কাছে থাকা স্বর্ণের ভরি মাত্র ৫ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর কাছে থাকা স্বর্ণের ভারি ৩ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে হলফনামায়।
দীপেন দেওয়ানের নামে দেড়লক্ষ টাকার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী এবং স্ত্রীর নামে ১ লক্ষ টাকার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও স্বামী-স্ত্রী দুজনের নামেই এক লক্ষ করে দুই লক্ষ টাকার আসবাবপত্র আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দীপেন দেওয়ানের নিজের নামে ২৬ শতক অকৃষি জমি,যার মূল্য তিনি দেখিয়েছেন সাড়ে ছয় লক্ষ টাকা এবং একটি চারতলা বাড়ি ও টিনশেড ঘরের মূল্য দেখিয়েছেন ৫০ লক্ষ টাকা।
দীপেন দেওয়ানের অস্থাবর সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য তিনি দেখিয়েছেন আনুমানিক ২ কোটি ১৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ১৩৫ টাকা। তার স্ত্রী মৈত্রী চাকমার নামে অস্থাবর সম্পদ আছে ২ কোটি ৬৪ লক্ষ ২৪ হাজার ৮০২ টাকা। দীপেন দেওয়ানের স্থাবরের সম্পদের বর্তমান আনুমানিক বাজার মূল্য তিনি দেখিয়েছেন ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা,তবে স্ত্রীর নামে কোন স্থাবর সম্পত্তি নেই বলে দেখা যাচ্ছে হলফনামায়।
হলফনামা দীপেন দেওয়ান তার বিরুদ্ধে ২০১৮ এবং ২০২০ সালে রাঙ্গামাটির চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি ফৌজদারি মামলা চলমান থাকার তথ্য জানিয়েছেন, যেগুলো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে । নিজের পেশা আইনজীবি,স্ত্রীর পেশা ব্যবসা এবং নিজের পূর্বতন পেশা সাবেক যুগ্ম জেলা জজ বলেও জানিয়েছেন এই নেতা।
হলফনামায় ২০২৫-২৬ করবর্ষে আয়কর রিটার্ণে দীপেন দেওয়ান নিজের পূর্ববতী বছরে আয়ের পরিমাণ ৪ লক্ষ ৪১ হাজার ১৪৯ টাকা এবং ২ কোটি ২৬ লক্ষ ৮৯ হাজার ৫৮৭ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন এবং আয়কর পরিশোধ করেছেন ১১৬ টাকা ! একই করবর্ষে স্ত্রী মৈত্রী চাকমার আয় দেখিয়েছেন ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার ১৬২ টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ২ কোটি ৩০ লক্ষ ১৫ হাজার ৯৫১ টাকা।
হলফনামা অনুসারে ৬৩ বছর বয়সী দীপেন দেওয়ানের জন্মসাল ১৯৬৩ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি(সম্মান) ও এলএলএম।
সাবেক যুগ্ম জেলা জজ অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ২০০৬ সালে সরকারি চাকুরি ছেড়ে রাজনীতিতে আসেন এবং এরপ কিছুদিন পর রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক। তার স্ত্রী মৈত্রী চাকমা ২০০৯ সালে রাঙামাটিতে বিএনপির হয়ে সংসদ নির্বাচন করেছিলেন। তার পিতা সুবিমল দেওয়ান সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সরকারে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়ার বিশ বছর পর দলের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন দীপেন। শক্ত প্রতিদ্ব›দ্ধী না থাকায় প্রায় ফাঁকা মাঠে তার বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকমহল।
আগামী ১২ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি জেলার ১০ টি উপজেলা,২ টি পৌরসভা,৫০ ইউনিয়নের ৫ লক্ষ ৯ হাজার ২৬৭ জন ভোটার ২১৩ টি কেন্দ্রে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এদের মধ্যে ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪১০ জন পুরুষ ভোটার, ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮৫৫ জন নারী ভোটার এবং ২ জন হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার।