
চট্টগ্রাম:-চট্টগ্রাম মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। হাসান মোঃ শওকত আলী উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর ৩৪তম কমিশনার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের সময় সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন। পরে তিনি বিদায়ী কমিশনার হাসিব আজিজ, বিপিএম-এর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরীর লালদিঘীস্থ সিএমপি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন নবনিযুক্ত কমিশনার। সভায় তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ন্যায়নিষ্ঠা, সততা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার, চুরি-ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি স্পষ্টভাবে জানান, অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে এবং থানাগুলোকে দালালমুক্ত ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে সন্ত্রাস, ভূমিদস্যুতা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি জোরদারের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদসহ বিভিন্ন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পেশাগত জীবনে অভিজ্ঞ এই পুলিশ কর্মকর্তা ১৯৯৯ সালে ১৮তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং র্যাব-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় লাইবেরিয়া, হাইতি ও মালিতে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এ ডিআইজি (লজিস্টিক) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নতুন কমিশনার চট্টগ্রাম মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
এদিকে দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষ থেকে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম মহানগরী হবে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নাগরিকবান্ধব।