শিরোনাম
জাপানের চোখধাঁধানো জয় ‘আয়রন লেডি’ তাকাইচির ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ! সিসি ও বডি–ওর্ন ক্যামেরা থেকে ফুটেজ নেয়ার পরামর্শ যেসব কারণে ভোট বাতিল হতে পারে পার্বত্য চট্টগ্রামের ত্রিমুখী নির্বাচনী বাস্তবতা উত্তাপ, নীরবতা ও নেপথ্য সমঝোতার রাজনীতি পার্বত্য চট্টগ্রামের নির্বাচন ও সংবিধান: রাষ্ট্র কি নীরবে সীমান্ত হারাচ্ছে? পার্বত্য চট্টগ্রামের ভোট: ব্যালট নয়, ভয়ের রাজনীতি ও রাষ্ট্রের নীরব পশ্চাদপসরণ পার্বত্য চট্টগ্রামের নির্বাচন: ভোট নয়, ক্ষমতার অদৃশ্য মানচিত্র রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে ভোটের সরঞ্জাম ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট লোকবল সন্ন নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ভূমিকা ইরানের সঙ্গে খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে–ডনাল্ড ট্রাম্প

যেসব কারণে ভোট বাতিল হতে পারে

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৪ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- নানা অনিয়ম, সহিংসতা কিংবা ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোটের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। জাতীয় হোক বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন—যেকোনও কেন্দ্রের ভোট বাতিল হওয়া মানেই পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর আস্থার সংকট তৈরি হওয়া। ভোটারদের নিরাপত্তা, প্রার্থীদের অভিযোগ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা—সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে তখন কমিশনকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। প্রয়োজনে পুরো আসনের ভোটও স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।

নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে কোনও কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত বা বাতিল ঘোষণা করার ক্ষমতা রয়েছে কমিশনের। নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ‘ভোটের স্বচ্ছতা নষ্ট হলে বা ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার মতো অনিয়ম প্রমাণিত হলে, ভোট বাতিল ছাড়া বিকল্প থাকে না।’

যেসব কারণে বাতিল হতে পারে ভোট

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোটকেন্দ্র দখল, মারামারি, ককটেল বা বোমা হামলা, গুলিবর্ষণ, ব্যালট ছিনতাই কিংবা ভাঙচুরের মতো সহিংসতার ঘটনা ঘটলে ভোটগ্রহণ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয় না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রিসাইডিং অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে ভোট স্থগিত করতে পারেন। পরে তদন্ত শেষে অনেক ক্ষেত্রে কমিশন পুনরায় ভোটের সিদ্ধান্ত দেয়।

ব্যালট পেপার নষ্ট বা হারিয়ে গেলে ভোটের সঠিকতা নিশ্চিত করা যায় না। আইন অনুযায়ী, এমন অবস্থায় ওই কেন্দ্রের ফলাফল গ্রহণযোগ্য থাকে না। এছাড়া বুথ দখল করে একযোগে জালভোট প্রদান, একজনের একাধিকবার ভোট দেওয়া কিংবা সংঘবদ্ধ কারচুপি ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ নির্বাচনের পরিপন্থি। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফলাফল বাতিল করা হয়।

ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া, হুমকি বা জোরপূর্বক ভোটদানে প্রভাব বিস্তার করাও ভোট বাতিলের কারণ হতে পারে। এসব পরিস্থিতি ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করে এবং ভোটগ্রহণের পরিবেশ নষ্ট করে।

কখনও কখনও প্রিসাইডিং অফিসার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, ইচ্ছাকৃত ত্রুটি, ফলাফল পরিবর্তন বা নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনাও সামনে আসে। কর্মকর্তার কারচুপি প্রমাণিত হলে সেই কেন্দ্রের ভোট বাতিল হতে পারে।

প্রযুক্তিগত ত্রুটিও একটি বড় কারণ। ব্যালট পেপার ভুল ছাপা, সিল বা সরঞ্জামের সমস্যা, ইভিএম বিকল হওয়া কিংবা ডেটা গরমিলের মতো ঘটনায় ভোট স্থগিত বা বাতিলের নজির রয়েছে।

কোনও এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভোটার ও কর্মকর্তাদের জীবন-ঝুঁকি তৈরি হয়। এমন অবস্থায় নিরাপত্তার স্বার্থে ভোটগ্রহণ বন্ধ করার ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কর্মকর্তাদের। এছাড়া কোনও প্রার্থীর অভিযোগ বা রিটের ভিত্তিতে আদালত ভোট বা ফলাফল স্থগিতের নির্দেশ দিলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র বা আসনের ভোটও বাতিল বা স্থগিত করা হয়।

বাড়তি সতর্কতা

আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে বাড়তি নিরাপত্তা, সিসিটিভি নজরদারি, পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় জোরদারের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটকেন্দ্র যেন বাতিলের বদলে স্বচ্ছ, নিরবচ্ছিন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য থাকে—সে লক্ষ্যেই সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার ৮ লাখের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচন কমিশনার যা বলছেন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া যদি কোনও কারণে বাধাগ্রস্ত বা ‘ইন্টারাপ্টেড’ হয়ে যায় এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়—যেখানে স্বাভাবিকভাবে ভোট পুনরায় শুরু করা সম্ভব নয়, তাহলে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব হলো তাৎক্ষণিকভাবে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা।’’

তিনি বলেন, ‘‘সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা কারিগরি সমস্যার কারণে যদি দীর্ঘ সময়, যেমন- একঘণ্টা বা তার বেশি সময় ভোট বন্ধ থাকে এবং পরিবেশ স্বাভাবিক করা না যায়, তাহলে সে ক্ষেত্রে ভোটের ধারাবাহিকতা ও গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয়ে যায়। তখন ভোট চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সেটি বন্ধ করে দিতে হয়।’’

এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রিসাইডিং অফিসার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করবেন। পরে রিটার্নিং অফিসার তদন্ত ও প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। কমিশন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে ওই কেন্দ্রে পুনরায় ভোট বা নতুন তারিখে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবেন।

ইন্টারাপশনের কারণ বিভিন্ন হতে পারে উল্লেখ করে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘‘সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট বা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, কিংবা এমন কোনও অস্বাভাবিক অবস্থা, যেখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এসব ক্ষেত্রে ভোটের পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে সেটিকে ‘এক্সট্রা অর্ডিনারি সিচুয়েশন’ হিসেবে বিবেচনা করে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয়।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দায়িত্ব শুধু ভোট চালু রাখা নয়, বরং সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। তাই পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে ভোট বন্ধ করা এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য কমিশনকে জানানোই হলো সঠিক ও আইনসম্মত পদক্ষেপ।’’

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions