
ডেস্ক রির্পোট:- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কেনা নিম্নমানের বডি ক্যামেরা সরবরাহসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের নানান অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের দোসররা চক্রান্ত করছে কি না তা নিয়েও। জানা যায়, ইউএনডিপিকে সামনে রেখে এ কেনাকাটায় জড়িত ছিল টেন্ডার পাওয়া প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস। প্রতিষ্ঠানটি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও সাবেক অর্থমন্ত্রীর মেয়ে নাফিসা কামালের মালিকানাধীন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ক্রয়ে স্বচ্ছতা আনতে এবং মান ও দাম নিশ্চিত করতে এ কেনাকাটা ইউএনডিপির মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে এ সিদ্ধান্ত শুধু কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। সোর্সমানি ব্যবহার করে দাহুয়া, টিডিটেক, কেডাকম ও অকজন নামক প্রতিষ্ঠান থেকে এসব চায়না ক্যামেরা কিনেছে পুলিশ বিভাগ। মাঠপর্যায়ে ক্যামেরা পৌঁছালে নিম্নমানের বডিক্যাম সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে এ বিষয়ে তথ্য দিতে নারাজ পুলিশের টেলিকম বিভাগ। এ বিষয়ে জানতে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পিআর বিভাগের এআইজি এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বডি ক্যামেরার বিষয়ে আমার কাছে কোনো আপডেট নেই।’
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে নিম্নমানের ক্যামেরা কেনা হয়েছে, যাতে সেগুলো সঠিকভাবে কাজ না করে। ক্যামেরা সঠিকভাবে কাজ করলে যেকোনো অব্যবস্থাপনা বা অপরাধ ধরা পড়ে যেত। তাই নিজেদের নেতিবাচক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এই লুকোচুরির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।’
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে গত বছরের ৯ আগস্ট সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ২৬৯ কোটি টাকায় ৪০ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টেন্ডার পায় স্মার্ট টেকনোলজিস।