
ডেস্ক রির্পোট:- অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই আসতে যাচ্ছে কঠোর সম্প্রচার আইন। এ আইনের অধীনে গঠিত হবে এক বা একাধিক সম্প্রচার ট্রাইব্যুনাল। সেখানে সংঘটিত অপরাধের বিচার হবে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে। এমন বিধান রেখেই ‘সম্প্রচার অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে এ খসড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত চেয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মতামত দিতে বলা হয়েছে। খসড়া অধ্যাদেশের ২২ ধারায় বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধের বিচারের জন্য সরকার এক বা একাধিক ‘সম্প্রচার ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করবে। এ অধ্যাদেশের আওতাভুক্ত যেকোনো অপরাধের বিচার কেবল এ সম্প্রচার ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন হবে। একজন বিচারকের সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হবে এবং সরকার জেলা ও দায়রা জজদের মধ্য থেকে এ ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিযুক্ত করবে। মামলার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে সরকার সময়ে সময়ে এই ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারবে। যতক্ষণ পর্যন্ত পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হচ্ছে, ততক্ষণ সরকার দায়রা জজ বা মহানগর দায়রা জজকে এ অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা অর্পণ করতে পারবে। তবে কমিশন থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ এ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করতে পারবে না। কমিশন থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করলে, ট্রাইব্যুনাল তা বিবেচনা করবে। অভিযোগটি আমলে নেওয়ার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ না থাকলে ট্রাইব্যুনাল সরাসরি তা খারিজ করে দিতে পারবে। তবে অগ্রসর হওয়ার মতো পর্যাপ্ত কারণ থাকলে, ট্রাইব্যুনাল সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন- এমন কোনো পুলিশ কর্মকর্তা অথবা সরকার কর্তৃক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে। তদন্ত কর্মকর্তা কোনো অপরাধ তদন্তের দায়িত্ব প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তদন্তকার্য সম্পন্ন করবেন এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী অফিসারের সব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্তকার্য সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তার নিয়ন্ত্রণকারী অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে তদন্তের সময়সীমা অতিরিক্ত ১৫ দিন বৃদ্ধি করতে পারবেন। এ সময়সীমার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে তিনি কর্তব্যে অবহেলা করেছেন বলে গণ্য হবে এবং ট্রাইব্যুনাল উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদেশ দিতে পারবেন।
যেসব অনিয়মে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানকে শাস্তি পেতে হবে : আইনের খসড়া অনুযায়ী, কোনো সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান যদি লাইসেন্স ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা ও লাইসেন্স নেওয়ার আগে কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ না করে। তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। জাতীয় ইস্যু ও জনস্বার্থে সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি অনাপত্তি ছাড়াই সম্প্রচার যন্ত্রপাতি আমদানি করে সম্প্রচার কার্যক্রম চালালে সংশ্লিষ্টদের তিন বছর কারাদণ্ড অথবা ৫ থেকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে এমন গোপন সামরিক বা বেসামরিক তথ্য প্রচার করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা এক থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে।
কমিশনের ক্ষমতা ও দায়িত্ব : কমিশন সম্প্রচার লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ করবে, সম্প্রচারকারীদের জন্য আচরণবিধি (কোড অব কন্ডাক্ট), এসওপি ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করবে এবং সেসব নীতিমালা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না তা তদারকি করবে। অধ্যাদেশে আরও বলা হয়, কমিশন বিটিআরসির সঙ্গে সমন্বয় করে কারিগরি বিষয়গুলো দেখবে এবং দুই কমিশনের মধ্যে মাসে কমপক্ষে একবার বৈঠক আয়োজন করবে। নির্দেশনা অমান্য করলে জরিমানা, সংশোধিত প্রচারের নির্দেশ বা লাইসেন্স বাতিলসহ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও কমিশনের থাকবে। এ ছাড়া সম্প্রচারিত বিষয়বস্তু নিয়ে দর্শক-শ্রোতার অভিযোগ নিষ্পত্তি, সম্প্রচারকারী ও বিষয়বস্তু সরবরাহকারীর মধ্যে বিরোধ মীমাংসা, প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং প্রয়োজনে দলিল ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষমতাও কমিশন পাবে।