
ডেস্ক রির্পেট:- ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সংস্কার সংশোধনীর গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলের সংখ্যা বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পাশাপাশি কমনওয়েলথসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, পর্যবেক্ষক দলগুলোর আকার যথেষ্ট বড় হবে।
এ মাসের শুরুতে লন্ডনে কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ে ঘোষণা করেছেন, ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডো ১৪ সদস্যের কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন। কমনওয়েলথের বক্তব্যে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষক দলের ম্যান্ডেট হলো নির্বাচন ও গণভোট বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ। পর্যবেক্ষক দলকে সমর্থন দেবে একটি সচিবালয় দল, যার নেতৃত্ব দেবেন নির্বাচনি সহায়তা বিভাগের প্রধান ও উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের মধ্যে রয়েছেন মালদ্বীপের সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জেফ্রি সালিম ওয়াহিদ, সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জন ফ্রান্সিস, মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর রাস আদিবা মোহাম্মদ রাজি এবং এন্টিগুয়া ও বারবুডা, কানাডা, ফিজি, মরিশাস, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, উগান্ডা, যুক্তরাজ্য ও জাম্বিয়ার প্রতিনিধি। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিশ্চিত করেছে, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও কানাডার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ২৭টি ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্য রাষ্ট্রের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশনে (ইওএম) অংশ নেবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইওএমের নেতৃত্ব দেবেন লাটভিয়ার এমপি ও প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস ইজাবস। এ ছাড়া অন্তত আরও সাতজন এমপি ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সফর করবেন। গত ২৯ ডিসেম্বর একটি মূল দলের আগমনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইওএম। মূল দলটিতে ১১ জন বিশ্লেষক রয়েছেন, যাঁরা লজিস্টিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নির্বাচনি প্রক্রিয়ার সব পর্যায় মূল্যায়ন করছেন। এ ছাড়া ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক ১৭ জানুয়ারি থেকে দেশের সব প্রশাসনিক বিভাগে মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁরা ঢাকায় মূল দলকে প্রতিবেদন দিচ্ছেন। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে তাঁদের সঙ্গে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক যুক্ত হবেন। নির্বাচনের দিন বাংলাদেশের প্রত্যয়িত কূটনৈতিক মিশন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা ভোট গ্রহণ, গণনা ও ফলাফলের ট্যাবুলেশন পর্যবেক্ষণে যোগ দেবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, তার পর্যবেক্ষকরা আন্তর্জাতিক নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করবেন, নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না। সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনি পর্যবেক্ষক সফরের সমন্বয় সহায়তা করছেন সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশগুলোর নিশ্চিতকরণ প্রতিদিন বাড়ছে।