
বান্দরবান:- বান্দরবানের আলীকদমে নয়াপাড়া ইউনিয়ন এলাকায় বাগান থেকে কলা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাফর নামে এক ব্যক্তি জামিনে এসেই ম্রো জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৮/১৮ জন আহত হন। এদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর।
আলীকদম উপজেলার ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়নের জানালী পাড়া এলাকায় শনিবার এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জানালী পাড়ার একটি কলা বাগান থেকে ফসল চুরির সময় নয়াপাড়া এলাকার রোহিঙ্গা বাসিন্দা ডাকাত জাফর আলমকে (৪৫) আটক করেন গ্রামবাসীরা।
পরে তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালিয়ে ডাকাত নামে পরিচিত জাফর আলমকে ছিনিয়ে নেয়।
আহতদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন— ডাংয়া ম্রো (৫২), অমর ত্রিপুরা (৫০), প্রেকিক্য ম্রো (২৭), অংসং ম্রো (৩০), কটঙং ম্রো (৫০), ঙানওয়াই ম্রো (২৭), লাংছিং ম্রো (৩০) ও মেনরু ম্রো (৪০)। আহত সবাই আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের জানালী পাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ডাংয়া ম্রো ও অমর ত্রিপুরাসহ গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, জাফর আলম—যিনি এলাকায় ‘বাইট্টা ডাকাত জাফর’ নামে পরিচিত—দীর্ঘদিন ধরে জানালী পাড়ার ম্রোদের ফলের বাগান থেকে কলা, আনারস, হলুদসহ বিভিন্ন ফসল ও গৃহপালিত পশু চুরি করে আসছিলেন।
এ বিষয়ে নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
গ্রামবাসীরা আরও জানান, একই দিন সন্ধ্যায় থানায় অভিযোগ জানানোর পর বাড়ি ফেরার পথে নয়াপাড়া কবরস্থান এলাকায় ডাকাত জাফর আলমের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা ও বহিরাগতদের প্রায় ৪০ জনের একটি দল ফের গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় টমটমে থাকা ১৮ জন আহত হন, যাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর। আহত প্রেকিক্য ম্রো ও ঙানওয়াই ম্রো বলেন, “সকালে কলা চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি। বরং পুলিশ সন্ধ্যায় আমাদের থানায় যেতে বলে। থানায় গিয়ে ফেরার পথে দ্বিতীয় দফায় আমাদের ওপর আবার হামলা চালানো হয়।”
তারা এ ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বলেন, জানালী পাড়া এলাকায় কলা চুরির ঘটনা নিয়ে জাফর আলমের নেতৃত্বে ম্রোদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ৭ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের পক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. হাসান জানান, গতকাল রাতের ঘটনায় আহত ৫ জনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ৩ জনকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
আলীকদম থানার ওসি আলমগীর হোসেন শাহ জানান, একাধিক মামলার আসামি জাফর দুই দিন আগে জামিনে এসে গতকাল (শনিবার) রাতে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় মামলা হবে। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।