
ডেস্ক রির্পোট:- ইরানে যুক্তরাষ্ট্র আবার যেকোনো সময় সামরিক হামলা চালাতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কথায় এমনটাই স্পষ্ট হয়েছে। তবে ইরানও সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, আক্রান্ত হলে প্রতিশোধ নেবে। ফলে এর আগে ইসরাইলের নেতৃত্বে ইরানে যে ১২ দিনের যুদ্ধ হয়েছে, এবারে যুদ্ধ হলে তা আগের থেকে ভয়াবহ হতে পারে। রোববার তেহরান থেকে বিবিসিকে এক সূত্র বলেন, পরিস্থিতি খুব, খুব খারাপ। আমাদের অনেক বন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। তারা (সরকারি বাহিনী) সরাসরি গুলি চালাচ্ছিল।
পুরো এলাকা যেন যুদ্ধক্ষেত্র- রাস্তাজুড়ে রক্ত। ট্রাকে করে লাশ সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। তেহরানের কাছে একটি মর্গের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিবিসি প্রায় ১৮০টি মৃতদেহের ব্যাগ গণনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা সারা দেশে এ পর্যন্ত ৪৯৫ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি যাচাই করে নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি আরও বলছে, টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই অস্থিরতার মধ্যে ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। এরই মধ্যে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সাইয়েদ আলী হোসেইনি খামেনির নেতৃত্বাধীন দেশটির শাসকগোষ্ঠী তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা আলোচনায় বসতে চায়। ইরানে চলমান ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটেই এই যোগাযোগ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতারা ফোন করেছেন। একটি বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। তারা আলোচনা করতে চায়। তবে একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কিন্তু বৈঠকের আগেই আমাদের হয়তো ব্যবস্থা নিতে হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, ইরানের পরিস্থিতি ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠছে এবং সেখানে এমন কিছু মানুষ নিহত হচ্ছেন, যাদের নিহত হওয়ার কথা ছিল না। তিনি বলেন, এরা সহিংস- যদি আপনি এদের নেতা বলতে চান। আমি জানি না এরা সত্যিকারের নেতা কি না, নাকি কেবল সহিংসতার মাধ্যমে শাসন করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তার ভাষায়, আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সামরিক বাহিনী বিষয়টি দেখছে, আমরাও খুব শক্ত কিছু বিকল্প বিবেচনা করছি। আমরা সিদ্ধান্ত নেব। ইরান কি কোনো ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছে? এমন প্রশ্নে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো সামরিক পরিকল্পনা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, আপনি কি সত্যিই চাইছেন আমি বলি- আমরা কী করব? কোথায় হামলা করব? কখন করব? কোন কোণ থেকে আক্রমণ করব? ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি ঘণ্টায় আপডেট পাচ্ছেন এবং বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি।
বিক্ষোভে মানুষ নিহত হওয়ার খবরে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, কিছু মৃত্যু ঘটেছে ভিড়ের চাপে। কিছু বিক্ষোভকারী পদদলিত হয়ে মারা গেছেন। আপনি জানেন, লোকসংখ্যা এত বেশি ছিল। আর কিছু মানুষকে গুলিও করা হয়েছে। ইরান বা তাদের মিত্রদের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, ওরা যদি সেটা করে, তাহলে আমরা এমন মাত্রায় আঘাত হানব, যা তারা আগে কখনো দেখেনি। তারা বিষয়টি বিশ্বাসই করতে পারবে না।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভালোভাবেই বোঝে। আপনি কি মনে করেন না, তারা আপনার হুমকিগুলোকে গুরুত্ব দেয়? এক সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে এ প্রশ্ন রাখেন তিনি।
বলেন, আমার সময়ে তারা যা দেখেছে- সোলেইমানি হত্যা, আল-বাগদাদি হত্যা, ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস- এসবের পরও?’
ট্রাম্প বলেননি, এ বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করেছেন কি না, কিংবা কবে নাগাদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে একের পর এক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে।