ঘুম ভাঙতেই কোমরে টান? শরীর কিন্তু নীরবে বিপদের বার্তা দিচ্ছে

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬৮ দেখা হয়েছে

রাতে ভালো ঘুমের পরও সকালে বিছানা ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোমরে ব্যথা এই অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই পরিচিত। দিনের শুরুতেই এমন অস্বস্তি পুরো দিনের কর্মক্ষমতা ও মন-মেজাজ নষ্ট করে দিতে পারে। বিষয়টিকে অনেকেই হালকাভাবে নিলেও চিকিৎসকদের মতে, সকালে নিয়মিত কোমর ব্যথা শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করে। চিকিৎসক ডা. তারা–লিন হলিন্স জানাচ্ছেন, ঘুমের ভঙ্গি থেকে শুরু করে ম্যাট্রেস-বালিশের সাপোর্ট, এমনকি কিছু শারীরিক সমস্যাও সকালে কোমর ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে।

সকালে কোমর ব্যথা হওয়ার পেছনের ৪টি সাধারণ কারণ

১. ভুলভাবে ঘুমানো
আমরা জীবনের প্রায় এক–তৃতীয়াংশ সময় ঘুমিয়ে কাটাই। এই সময় মেরুদণ্ড যদি সঠিক অবস্থানে না থাকে, তাহলে কোমরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। পেটের ওপর শোয়া সবচেয়ে ক্ষতিকর এতে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ে অস্বাভাবিক মোচড় লাগে। পাশ ফিরে হাঁটু সামান্য ভাঁজ করে বা পিঠের ওপর শোয়া তুলনামূলক নিরাপদ।

২. দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে শুয়ে থাকা
যেমন দীর্ঘ সময় বসে থাকলে শরীর শক্ত হয়ে যায়, ঠিক তেমনি সারারাত একই ভঙ্গিতে শুয়ে থাকলেও পেশিতে জড়তা তৈরি হয়। ফলে সকালে নড়াচড়া শুরু করতেই ব্যথা বেশি অনুভূত হয়।

৩. ভুল ম্যাট্রেস ও বালিশ ব্যবহার
খুব নরম বা ঢেবে যাওয়া ম্যাট্রেস মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বাঁক নষ্ট করে দেয়। আবার অতিরিক্ত শক্ত ম্যাট্রেসেও সমস্যা হতে পারে। মাঝারি শক্ত, ভালো সাপোর্ট দেয়া ম্যাট্রেস এবং ঘাড়–মেরুদণ্ডের সঙ্গে মানানসই বালিশ কোমর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

৪. ভেতরের শারীরিক সমস্যা

ডিস্কের ক্ষয়, সায়াটিকা, স্পাইনাল আর্থ্রাইটিস, ফাইব্রোমায়ালজিয়া কিংবা হারনিয়েটেড ডিস্কের মতো সমস্যায় সকালে কোমর ব্যথা বেশি হয়। গর্ভাবস্থায় শরীরের ওজন ও ভারসাম্য বদলেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কী করলে সকালটা ব্যথামুক্ত হতে পারে

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কিছু ছোট অভ্যাস বদলেই অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা কমানো সম্ভব—

সঠিক বালিশ ব্যবহার করুন:
পাশ ফিরে শুলে হাঁটুর মাঝে ছোট বালিশ রাখুন, পিঠের ওপর শুলে হাঁটুর নিচে বালিশ দিন।

ঘুমের ভঙ্গিতে সচেতন থাকুন:
শোয়ার সময় মেরুদণ্ড যেন সোজা ও স্বাভাবিক থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

পুরোনো ম্যাট্রেস বদলান:
সাধারণত ৬–৮ বছর পর ম্যাট্রেস পরিবর্তন করা উচিত। ম্যাট্রেস ঢেবে গেলে অপেক্ষা না করে আগেই বদলানো ভালো।

উঠার আগে স্ট্রেচ করুন:
বিছানায় শুয়েই এক পা বুকে টেনে কয়েক সেকেন্ড রাখুন, তারপর অন্য পা। এতে পেশি ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়।

পেশি গরম রাখুন:
প্রয়োজনে হিটিং প্যাড ব্যবহার করলে আরাম মিলতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

যদি দুই–তিন মাস ধরে প্রায় প্রতিদিন সকালে কোমর ব্যথা অনুভূত হয়, ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বা পায়ে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা নিলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

সকালের কোমর ব্যথা বেশিরভাগ সময়ই আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের ফল। তবে এটিকে অবহেলা না করে শরীর কী বলতে চাইছে, তা বোঝার চেষ্টা জরুরি। সঠিক ঘুমের ভঙ্গি, মানানসই গদি-বালিশ আর একটু যত্নই আপনাকে দিতে পারে ব্যথামুক্ত সকাল। আর যদি সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই ভালো।

সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions