
ডেস্ক রির্পোট:- জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১২টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৭ হাজার ১৫০ কোটি টাকা খরচ হবে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরে দেশের স্বাস্থ্য খাতের জরুরি ব্যয়ের জন্য ৩ প্রকল্পে ৩ হাজার ৪২২ কোটি টাকা বরদ্দ রাখা হয়েছে।
গতকাল সোমবার পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেকের চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টাসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আখতার বলেন, একনেক সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন ৯টি, সংশোধিত দুটি এবং ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বাড়ানোর একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থাপনা অটোমেশন’ প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে প্রস্তাবিত ৩ হাজার ৪২২ কোটি টাকার মধ্যে ২ হাজার ১৮১ কোটি টাকা ব্যয় হবে রাজস্ব খাতে, অর্থাৎ সরকারি দৈনন্দিন ব্যয়ে। বাকি ১ হাজার ২৪১ কোটি টাকা যাবে উন্নয়ন বা মূলধনি খাতে। ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ রাখা হয়েছে গর্ভনিরোধক, ওষুধ, প্রতিষেধক ও বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী কেনার জন্য। এ খাতে ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু গর্ভনিরোধক কেনাতেই ব্যয় হবে প্রায় ৯৪৭ কোটি টাকা আর ওষুধ ও প্রতিষেধকে লাগবে প্রায় ১৯৩ কোটি টাকা। আর অবকাঠামো বা উন্নয়ন খাতে বড় অংশ ব্যয় হবে ভবন নির্মাণ ও সংস্কারে। এ খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৫৮ কোটি টাকা। এই টাকা দিয়ে বিভিন্ন হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ক্লিনিক ও দপ্তরের অসমাপ্ত ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করা হবে।
একনেক সভায় অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে মানিকগঞ্জ ও সাতক্ষীরা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প; কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার হাওর এলাকায় ক্ষুদ্র সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প; গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প এবং চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে একটি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন প্রকল্প। আরও রয়েছে ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প।
এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ঢাকা সেনানিবাসের নির্ঝর এলাকায় অফিসারদের জন্য ‘বি’ টাইপ বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে নড়াইল-কালিয়া মহাসড়কের নবগঙ্গা নদীর ওপর কালিয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের ‘বিসিক শিল্প পার্ক, টাঙ্গাইল’ প্রকল্পকেও তৃতীয়বারের মতো সংশোধন করে অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা এরই মধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন, এমন ৯টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সদস্যদের অবহিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা খাতে বহুস্তরীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শক্তিশালীকরণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা; নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প; শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধার সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, যুবদের আত্মরক্ষামূলক মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রকল্প এবং তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প। উপকূলীয় বন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, মেহেরপুর সদরে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও গবেষণা জোরদার, ঢাকা শহরের অবকাঠামো ও পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্প এবং র্যাবের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্পও এতে অন্তর্ভুক্ত।