হবিগঞ্জে ৪ উপজেলায় সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত দুই শতাধিক

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১৮ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- ঈদ মৌসুমে হবিগঞ্জের লাখাই, বানিয়াচং, নবীগঞ্জ ও বাহুবলে পৃথক সংঘর্ষ ও দুর্বৃত্তদের ছরিকাঘাতে ৩ জন নিহত ও অন্তত দুই শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় পুলিশ সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেছে। সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে ১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

লাখাইয়ে ঈদে পৃথক ৩ সংঘর্ষে নিহত ১, আহত শতাধিক, আটক ১৯
লাখাইয়ে দু’দিনে পৃথক সংঘর্ষে একজন নিহত ও কমপক্ষে ৮০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এসব ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোট ১৯ জনকে আটক করে। মঙ্গল ও বুধবার এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে উপজেলার তেঘরিয়া, মুড়িয়াউক এবং জিরুন্ডা গ্রামে এসব সংঘর্ষ হয়। মঙ্গলবার সকালে মুড়িয়াউক গ্রামে পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জের ধরে শফিকুর রহমান (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় সন্দেহজনক ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

অপরদিকে মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় সালিশ বৈঠকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তেঘরিয়া পূর্ব হাটি গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে উভয়পক্ষের ১৩ জনকে আটক করেছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র। পুলিশ জানায়, ঢাকায় অবস্থানরত লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের লিটন মিয়া ও মুহিত মিয়ার লোকজনের মাঝে ভাঙাড়ি বিক্রির টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনাটি মীমাংসার জন্য মঙ্গলবার সকালে তেঘরিয়া গ্রামে সালিশ বৈঠক চলছিল। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা থেকে উভয়পক্ষের লোকজনের মাঝে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে দু’পক্ষের শত শত লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টেঁটাযুদ্ধে লিপ্ত হয়। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের পর পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ বন্দে আলী মিয়া জানান, দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দের ২য় দিন লাখাইয়ের জিরুন্ডা গ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুইপক্ষের মধ্যে ২ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, লাখাই উপজেলার জিরুন্ডা গ্রামের মোচন মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের মোস্তফা মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে সকালে দু’পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুইপক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় জহিরুল ইসলাম (৩৫) হৃদয় মিয়া (২৫), সাইফুল (৪৫), অন্তর (১৮), নীরব (২০)কে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বানিয়াচংয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা: হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় মাসুম মিয়া (২০) নামে এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার দিনগত রাতে উপজেলার কাগাপাশা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাসুম ওই ইউনিয়নে হায়দারপুর গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বানিয়াচং থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তাফা জানান, মাসুম মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে কাগাপাশা বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। রাস্তায় কে বা কারা তার বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক মাসুমকে মৃত ঘোষণা করেন। রাত ১২টার দিকে সেনাবাহিনী ও বানিয়াচং থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মাসুমের মরদেহ থানায় নেয়া হয়। সকালে মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের বরাতে ওসি জানান, মাসুম রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে বাড়ি ফিরলেও কে বা কারা ছুরিকাঘাত করেছে তা জানানোর আগেই জ্ঞান হারিয়েছিলেন। পুলিশ এ ঘটনার তদন্তে নেমেছে।

নবীগঞ্জে ঈদের জামাত নিয়ে দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে একজন নিহত
নবীগঞ্জ উপজেলার সদরঘাট গ্রামে ঈদগাহে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে আব্দুল কাইয়ুম (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদরঘাট গ্রামের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল কাইয়ুম (৫০) সদরঘাট দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সদরঘাট গ্রামের দক্ষিণ ও পশ্চিমপাড়ার বেশির ভাগ লোকজন প্রতিবছর সদরঘাট দক্ষিণপাড়া এলাকায় অবস্থিত সৈয়দ আলী ঈদগাহে ঈদের জামাত আদায় করেন। সমপ্রতি সৈয়দ আলী ঈদগাহের জায়গার ওয়াক্‌ফের কাগজ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ঈদগাহে ঈদের জামাত নিয়ে পশ্চিমপাড়ার লোকজনের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। শুক্রবার রাতে তারাবির নামাজের পর ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে সদরঘাট গ্রামের দক্ষিণপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার মুরুব্বিরা পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে জড়ো হন। আলোচনা শেষে মুরুব্বিরা মসজিদ থেকে বের হয়ে আসছিলেন। এ সময় মসজিদের সামনে ওই গ্রামের কাজী সুন্দর আলীর ছেলে মোজাহিদ মিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল কাইয়ুমকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বাহুবলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে তিন গ্রামের ভয়াবহ সংঘর্ষে শতাধিক আহত:
হবিগঞ্জের বাহুবলে পাওনা টাকা নিয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে তিন গ্রামের ভয়াবহ সংঘর্ষে শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মিরপুর বাজারে এ সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দীর্ঘ চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশ জানায়, পাওনা টাকা নিয়ে লামাতাসি গ্রামের আলফু মিয়া এবং বানিয়াগাঁও গ্রামের জহুরুল মিয়ার মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তা দ্রুত দুই গ্রাম এবং পরে আরও বেশ কয়েকটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দু’পক্ষ। দফায় দফায় সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রসহ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। সন্ধ্যায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে টর্চ জ্বেলে চলে এ সংঘর্ষ। এতে অন্তত শতাধিক লোক আহত হন। তিন গ্রামের লোকজনের সংঘর্ষে মিরপুর বাজার ‘রণক্ষেত্রে’ পরিণত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও প্রথমদিকে সংঘর্ষকারীদের রোষানলে পড়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে মিরপুর বাজারের বহু দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত এবং যানবাহনে আগুন দেয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকাবাসীর মধ্যে এখনো টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহতদের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বাহুবল থানার ওসি মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, বানিয়াগাঁও গ্রামের পক্ষ নিয়েছেন জয়পুর গ্রামবাসী। ফলে তিন গ্রামের লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষে মিরপুর বাজার ‘রণক্ষেত্রে’ পরিণত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে শতাধিক লোক আহত হয়েছেন, তাদের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions