ফরিদপুরে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ১৩ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে বারতে পারে মৃত্যুের সংখ্যা

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৩৮ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপভ্যানের সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হন। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ৮ টার দিকে কানাইপুরের দিকনগর এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা না গেলেও পরবর্তীতে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। বারতে পারে মৃত্যুের সংখ্যা।

পরিচয় পাওয়া নিহত ১৩ ব্যক্তি হলেন- ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সত্তরকান্দা এলাকার মৃত. আঃ ওহাব মোল্যার স্ত্রী মোসা. মর্জিনা বেগম (৭০), একই গ্রামের তারা মোল্যার ছেলে মো. মিলন মোল্যা (৫৫), মিলন মোল্যার ছেলে মো. রুহান (০৮), মিলন মোল্যার অপর ছেলে মো. আবু জিসান (০৩), মিলন মোল্যার স্ত্রী সুমি বেগম (৩০), আলফাডাঙ্গা উপজেলার চর সহস্রাইল এলাকার মৃত রশিদ খানের ছেলে তবিবুর খান (৫৫), একই উপজেলার
কুসুমদী এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে নজরুল ইসলাম (৩৫), বেজীডাঙ্গা গ্রামের নান্নু মোল্লার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪০), মিল্টন শেখের মেয়ে নুরানী (০২), হিতাডাঙ্গা এলাকার আলেক সরদারের স্ত্রী শুকুরন নেছা (৭০), সৈয়দ নিয়াদ আলীর মেয়ে কহিনুর বেগম (৬০) ও ইব্রাহিমের স্ত্রী
সূর্য বেগম (৪০)।

পুলিশ জানায়, যাত্রীবাহী বাসটি ঢাকা থেকে মাগুরার উদ্দেশে যাচ্ছিল। কানাইপুরের দিকনগর এলাকায় পৌঁছালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ১১ জন মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস মরদেহ উদ্ধার করে। এ ছাড়া আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘যাত্রীবাহী বাসটি ঢাকা থেকে মাগুরার উদ্দেশে যাচ্ছিল। এ সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ১১ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত ৭ জনকে উদ্ধার করে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১ জন মারা যান। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা পক্রিয়াধীন।’

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, ‘এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে তিন লাখ টাকা করে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।’

দুর্ঘনা কবলিত স্হান মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রী জনাব, আব্দুর রহমান (এমপি), সড়ক পদের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ সাদিকুল ইসলাম, হাইওয়ের মাদারীপুর জোনের পুলিশ সুপার ( অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদায়নপ্রাপ্ত), মোঃ শাহিনুল আলম খান, পুলিশ সুপার ফরিদপুর মোঃ মোর্শেদ আলমসহ পদস্থ সকল কর্মকর্তা দুর্ঘটনাস্হল পরিদর্শন করেছেন। তবে এই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছেন, ঘটনা স্হানের বসতু মোঃ ইসমাইল, রাশিদা বেগম,মরিয়ম খাতুন, শফিকুল ইসলাম ইনকিলাব কে বলেন, এই জায়গাটি আমাদের এলাকার একটি বিপদ জনক এলাকা। এই জায়গাটা মাঝে মাঝেই সড়ক জুড়ে টিউমারের মত রাস্তার মাটিও পিচঢালা সড়ক উপচে উঠে সড়ক ফেটে গিয়ে সড়কের এক পাশে টিউমারের মত জেগে কৃত্রিম বিট তৈরী হয়। আবার একাংশে মাঝারি গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে দূরপাল্লার ও স্হানীয় ছোট বড় সকল যানবাহন আঁচড়ে পড়ে।

ফলে কখন ছোট দুর্ঘটনা কখন বড় দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং ঘটনাস্হানে বাড়ী মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন আমার বয়স ২৬ বছর। ১৫/১৬ বছর যাবৎ দেখতেছি এখানে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটে। মাসে ১০/১২ টা। বছরে, ৬০/৭০ ও ঘটে। এই নিয়ে সংশ্লিষ্ট কারোর কোন মাথা ব্যাথা নাই। মোঃ লাল মিয়া বয়স ৬০ বছর তিনি ইনকিলাব কে বলেন বদরপুর বনবিভাগের অফিস আর কানাইপুর তেঁতুল তলা তথা প্রায় সোয়া কিলোমিটার সড়কে এমন কোন দিন নাই যে ছোট খাট দুর্ঘটনা ঘটে না। এই সড়কটুক দিন দিন হয়ে উঠছে মৃত্যু কুপ। স্হানীয় ইট ভাটা শ্রমিক মোঃমজুবায়ের ইনকিলাব কে জানান গত রোজা থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ২৫/২৬ মটরসাইকেল টুর্ঘটনা ঘটেছে। বহু নারী বৃদ্ধ, কিশোর শিশু গুরুতর আহত হয়ে বাড়ী ফিরছেন। প্রত্যদর্শী মরিয়ম বিবি ইনকিলাব কে বলেন আমার মনে হয় এখানকার রাস্তাটুক একটু চাপা, আবার একটু বাকাও, রাস্তা মাঝে মাঝে ভাঙ্গা থাকে গর্ত হয়। কারা যেন হটাৎ এসে ছাওয়াল মেয়ের মত রাস্তার টিউমারের মাথা কামায়। আবার তারা চলি যায়। কি কবো ফাহি ঝহির রাস্তা করেও তারাতারি নষ্ট ও হয় তারাতারি। ঘটনার সময় আমি ঘরে ছিলাম বের হয়ে দেখি পিক গাড়িটা মানুষ জন নিয়ে বড় গাড়ির তলে ডুইয়া গেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.net
Website Design By Kidarkar It solutions