শিরোনাম
শান্তিচুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রামে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান হয়েছে– পার্বত্য সচিব বান্দরবানে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের গুলিতে নিহত সেনা সদস্যের দাফন সম্পন্ন চট্টগ্রামে ১৫ দিনে সড়কে ঝরল ৬০ প্রাণ,দুর্ঘটনার কারণ ও সুপারিশ ভারতের নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশে মন্দিরে হামলা! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তর্ক-বিতর্ক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড! ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন আমানতকারীরা চট্টগ্রামে ৩ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত দাবদাহ ও জলবায়ুর বিপর্যয়ে দেশ ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের’ বিরুদ্ধে মামলায় যাচ্ছে মন্ত্রণালয় বান্দরবানে ব্যাংক ডাকাতিতে লুট ১৪ অস্ত্র ফেরত না দিলে শান্তি আলোচনা বন্ধ

উপজেলা হাতে চান এমপিরা

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০২৪
  • ৭৮ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- নির্বাচন যাতে অংশগ্রহণমূলক হয়, সে জন্য আওয়ামী লীগ এবার উপজেলা নির্বাচনেও নৌকা প্রতীক দিচ্ছে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতার বিষয়েও ক্ষমতাসীন দলটি কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এমন বার্তা পেয়ে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী দলীয় নেতারা জনসংযোগ শুরু করেছেন। তবে এরই মধ্যে কিছু উপজেলায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি) সভা-সমাবেশ করে পছন্দের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, এমপিদের পছন্দ-অপছন্দ থাকতেই পারে; কিন্তু ঘটা করে প্রার্থী ঘোষণা করা দলীয় নির্দেশনার পরিপন্থী।

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, টানা চতুর্থ মেয়াদে দল ক্ষমতায় থাকার সুযোগে কিছু জায়গায় এমপিরা খুঁটি গেড়ে বসেছেন। নিজের স্ত্রী-সন্তান, ভাইসহ পরিবারের সদস্য ও অনুগতদের উপজেলাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বানিয়ে এলাকায় কর্তৃত্ব পাকাপোক্ত করছেন। কিন্তু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার পাশাপাশি দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার অনুমতি দেওয়ায় গতবারের কয়েকজন প্রভাবশালী এমপি পরাজিত হয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের সেই অভিজ্ঞতা ভুলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের লোককে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছেন এমপিরা।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, ‘সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়, তাই নৌকা প্রতীক দেওয়া হচ্ছে না। পছন্দের প্রার্থী থাকতেই পারে। কিন্তু কোনো এমপি যদি কারও পক্ষে অবস্থান নেন, তাহলে তিনি ভুল করবেন। কারণ, সবাইকে নিয়ে দল, একক ভোটব্যাংক কারও না। তবে এ রকম দু-একজন এমপি থাকলেও থাকতে পারেন, অধিকাংশ নেই।’

টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনুপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক এমপি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ধনবাড়ীতে আবদুর রাজ্জাকের খালাতো ভাই ও উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনার রশীদ হিরাকে এবং মধুপুরে ইয়াকুব আলীকে প্রার্থী করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও আবদুর রাজ্জাক ধরেননি। পরে বিষয়বস্তু জানিয়ে বার্তা পাঠালেও তিনি জবাব দেননি।

সম্প্রতি ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে পরাজিত হয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ বি এম আনিসুজ্জামানের স্ত্রী শামীমা বেগম। আনিসুজ্জামান আগে পৌরসভার মেয়র ছিলেন। জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি পদত্যাগ করলেও এমপি হওয়ার পর নিজের স্ত্রীকে পৌর মেয়র বানাতে চান। একইভাবে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের মেয়ে তাহসীন বাহার সূচনা। এই পথ অনুসরণ করে নোয়াখালীর তিন এমপি তাঁদের পরিবারের চার সদস্যকে চার উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করতে পারেন বলে জানা গেছে। সেখানকার এক এমপি নিজ ছেলেকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করার ঘোষণা দিয়ে এরই মধ্যে সভা-সমাবেশও করেছেন।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, উপজেলা নির্বাচনে এমপি পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণ আরও বাড়তে পারে।
বৃহত্তর ঢাকার এক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দাবি করেন, এমপিরা ‘মাই লীগ’ ঠিক রাখার জন্যই উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী ঠিক করে দিতে চান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা বলেন, ‘মাই লীগ গঠন করার জন্য দলের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে প্রার্থী দিচ্ছেন এমপিরা। অনেকেই মনে করেন, তার লোকটা পাশ করলে ভবিষ্যতে কাজ হবে এবং তারে দিয়ে অনেক কিছু করাতে পারবেন। কিন্তু নেত্রী কখন, কোন পলিসি নেন, সেটা তো বোঝা কঠিন।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, উপজেলা নির্বাচন উন্মুক্ত থাকবে। প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে দল হস্তক্ষেপ করবে না। স্থানীয় সমীকরণে অনেক সংসদ সদস্য হয়তো কারও কারও প্রতি মৌন সমর্থন দিতে পারেন। তবে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে তারা প্রচার চালাতে পারবেন না। যদি কোনো সংসদ সদস্য অতি আবেগতাড়িত হয়ে স্ত্রী-সন্তান, ভাই, শ্যালকদের প্রার্থী করে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেন, তবে তিনি নিজ হাতেই নিজের জন্য গর্ত খুঁড়বেন।’

ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু বলেন, এমপিরা প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন। তাঁরা যেন পক্ষপাতিত্ব না করেন, সে জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে এমপিদের সতর্ক করে দিলে ভালো হয়।

নিয়ম অনুযায়ী তৃণমূলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার কথা স্থানীয় সরকার সংস্থার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে। কিন্তু বাস্তবে এসব ক্ষেত্রে এমপিদের প্রভাব বেশি। তাই স্থানীয় সরকার সংস্থায় পছন্দের লোক বসিয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব আরও পাকাপোক্ত করতে সচেষ্ট তাঁরা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো এমপি-মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চলবে না। সেই নির্দেশনা অনুযায়ীই চলবে। দল করতে হলে দলের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। তিনি বলেন, ‘সব নির্বাচনকেই আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখি। জনগণের প্রতিনিধি আসবেন। যার ভোট তিনিই দেবেন। এখানে কোনো রকম প্রভাব খাটাতে পারবেন না।’ আজকের পত্রিকা

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.net
Website Design By Kidarkar It solutions