শিরোনাম

নানামুখি চাপে সরকার,আন্তর্জাতিক মহলকে ভারত এখনো ম্যানেজ করতে পারেনি

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৮ মার্চ, ২০২৪
  • ১২২ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক মহলকে ম্যানেজ করতে ভারতকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাইরে সবকিছুই ‘ফিটফাট’। তারপরও স্বস্তি ফিরছে না, নানামুখি চাপ থেকে সরকারের উত্তরণ ঘটছে না। কোথায় যেন ভীতি-আতঙ্ক-অনিশ্চয়তা আর দুর্ভাবনা।
অন্যদিকে নির্বাচনের পর বিএনপি আরো যেন শক্তিশালী হয়ে গেছে। বিএনপির ডাকে সাড়া দিয়ে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ ‘নির্বাচন বর্জন’ করবে তা অনেক নেতার ধারণায় ছিল না। ফলে নির্বাচনের পর দলটি রাজপথের আন্দোলনে এখনো না নামলেও নতুন পরিকল্পনা করছে।
দুই মাস হয়ে গেছে নির্বাচনের। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভ‚মিধস বিজয়ের পর সরকার গঠন এবং সংসদের ১১ সদস্যের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি সরকারের ‘নাচের পুতুল’ হয়ে রয়েছে। রাজপথে দৃশ্যমান কোনো আন্দোলন নেই। নেই কোনো মিটিং-মিছিল। পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বত্রই প্রমোশন এবং সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দিয়ে আমলা, সরকারি চাকুরেদের খুশি রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক মহলকে ম্যানেজ করতে ভারতকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাইরে সবকিছুই ‘ফিটফাট’। তারপরও স্বস্তি ফিরছে না, নানামুখি চাপ থেকে সরকারের উত্তরণ ঘটছে না। কোথায় যেন ভীতি-আতঙ্ক-অনিশ্চয়তা আর দুর্ভাবনা। সরকারের শীর্ষ মহল থেকে দাবি করা হয়েছে দেশে ৭ জানুয়ারির মতো নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন স্বাধীনতার ৫২ বছরে আর একটিও হয়নি। ভূমিধস বিজয় এবং সংসদ নিয়ন্ত্রণে থাকার পরও সরকারের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে না কেন? টানা চারবার নির্বাচিত সরকার ছায়া দেখলে ‘ভূত’ ভেবে ভয় করছে? অন্যদিকে নির্বাচনের পর বিএনপি আরো যেন শক্তিশালী হয়ে গেছে। বিএনপির ডাকে সাড়া দিয়ে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ ‘নির্বাচন বর্জন’ করবে তা অনেক নেতার ধারণা ছিল না। ফলে নির্বাচনের পর দলটি রাজপথের আন্দোলনে এখনো না নামলেও নতুন পরিকল্পনা করছে। ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করেছে। অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলোকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে। দলের নেতারাও নতুনভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারা ‘নির্বাচন বর্জন’ জনসমর্থনকে কাজে লাগাবেন। মানুষকে নতুন করে সংগঠিত করে সরকারকে একঘরে করে ফেলবেন।

জানতে চাইলে বিএনপির অবস্থান ও সামনের পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজ হোক, কাল হোক তাদের (আওয়ামী লীগ) নতি স্বীকার করে বিদায় নিতে হবে। তারা যদি মনে করে, বুলেটের জোরে, প্রশাসনের জোরে, বিচার বিভাগের জোরে, পুলিশ বাহিনীর জোরে বা অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জোরে তারা জনগণের টুঁটি চেপে ধরে দেশের ক্ষমতায় চিরকালের জন্য আসীন হয়ে থাকবে, তাহলে তারা দুঃস্বপ্ন দেখছে। আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের বিদায় করা হবে।

সিপিবির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিনা ভোটে নির্বাচিতরা কখনোই জনগণের স্বার্থে কাজ করবে না। তাদের জবাবদিহিতা থাকে না। স্বচ্ছতা থাকে না। তাই মেহনতি মানুষকে নিজেদের দাবির সঙ্গে সঙ্গে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের লড়াইয়ে শরিক হতে হবে। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তারা সব সময় ভয়ের মধ্যে রয়েছে। কখন কি হয় এই ভীতি তাদের কুরে কুরে খাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী বলেন, সরকারের মধ্যে ভীতি-আতঙ্কের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। নির্বাচনে সিইসি ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে দাবি করলেও বাস্তবে ভোট পড়েছে ১০ থেকে ১২ শতাংশ। আওয়ামী লীগের বড় অংশ ভোট দিতে যায়নি। মুখে সরকার যতই বাগড়ম্বর করুক এই সত্যটা তো তারা জানে। বিএনপির ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের ৯০ ভাগ ভোটার ভোট বর্জন করবে সেটা কল্পনাও করেনি আওয়ামী লীগ। তাছাড়া মিয়ানমার ইস্যুতে ত্রিমুখী সংকট, অর্থনৈতিক চরম দুরবস্থা, পাইপ লাইনে থাকা বিদেশি ঋণ সবকিছু এলোমেলো হয়ে রয়েছে।

ভূমিধস বিজয়ের পর দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস না যেতেই সরকার নানামুখি চাপে পড়েছে। ব্রিজ, কালভার্ট, ফ্লাইওএকািইওভার, মেট্রোরেল, নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের মতো চোখ ধাঁধানো দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা গেলেও ভেতরে চলছে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট। চিনিকল, পাটকল, কাগজকলগুলো বন্ধ করে লাখ লাখ কর্মজীবীকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। দুই বছরেও ডলার সংকটের সুরাহা করতে পারেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিজার্ভ কমে যাওয়া, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারা, গ্যাসের সংকট, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ইত্যাদি নানামুখী সংকট সরকারকে গ্রাস করেছে। সামনে রমজান উপলক্ষে চারটি পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই বাজারের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। ‘সর্ষের ভেতরে ভূত’ প্রবাদের মতোই যারা সরকারকে বাজার নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিচ্ছেন তারাই সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। আর মিলকারখানাগুলো বন্ধ করে দেয়ায় একদিকে বেকারত্ব বাড়িয়েছে অন্যদিকে বেশ কিছু পণ্যের বিদেশ (ভারত) নির্ভর করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ১১ জানুয়ারি যে সরকার গঠিত হয়েছে সেই সরকার শুরু থেকেই কয়েক ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। এই চাপগুলো মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকটগুলোর দ্রæত সমাধান করা না গেলে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে। কারণ সরকারের নীতিনির্ধারকরা মুখে যাই বলুক তারা জানে কত মানুষ নির্বাচনে ভোট দিয়েছে।

সরকার যে অস্বস্তিতে রয়েছে তা স্বীকার করে গত ২৮ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দ্রব্যের দাম বাড়ছে, এটা বাস্তবতা, অস্বীকার করে লাভ নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা একটি চ্যালেঞ্জ আছে। তবে আমরা সব সাময়িক বিষয় নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে আছি। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন একটা চ্যালেঞ্জ। কোটি যুবককে পাঁচ বছরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এছাড়া বর্তমান যে চ্যালেঞ্জ সেটা হলো দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা। আমাদের ডলার সংকট আছে, রিজার্ভ সংকট আছে, জ্বালানি সংকট আছে, এসব সংকট নিয়ন্ত্রণে। এগুলো জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। এটা বড় চ্যালেঞ্জ, এগুলো মোকাবিলায় জোর দেওয়া।

জানতে চাইলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষকে খুব বোকা মনে করেছেন। কয়েক দিন আগে তিনি মজুতদারদের গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলতে বলেছিলেন। পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে ছয়-সাত ব্যক্তি, যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। বর্তমান সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ নেবে না, বরং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে জড়িতদের রক্ষা করতেই সরকার প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা করছে। তাই এই সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চলবে।’

ডলার ক্রাইসিসে বেহাল অর্থনীতি : রিজার্ভ তলানিতে এবং ব্যাংকগুলোর ওপর গ্রাহকদের আস্থাও তলানিতে। ব্যাংকের ওপর আস্থা হারিয়ে মানুষ টাকা-পয়সা নিজেদের বাসায় রাখছেন। কঠিন শর্তে আইএমএফের ঋণ নেয়ার পরও ডলার সংকটের সুরাহা কোনোভাবেই হচ্ছে না। চীন-রাশিয়া-ভারতের পরামর্শে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ডলারের বিকল্প মুদ্রা লেনদেনের চেষ্টা করেও সফলতা আসেনি। লাগামহীন দুর্নীতি-নির্বাচনে বেহিসেবি খরচসহ নানা কারণে অর্থনীতির ক্রমশ বিবর্ণ চেহারা ফুটে উঠেছে। রাজনৈতিক কারণে প্রত্যাশিত রেমিট্যান্স আসছে না। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি, শ্রমনীতি এবং নিষেধাজ্ঞা আতঙ্ক এখনো দূর হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য যে হারে কমছে বাংলাদেশে সে হারে কমানো যাচ্ছে না। সরকার বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ, খেলাপি ঋণের অবস্থা, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্য উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া সবকিছু মিলিয়ে সরকার সংকটে পড়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রত্যাশা অনুযায়ী কর সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারের আয় কমে যাচ্ছে, রাজস্ব আসছে না সেভাবে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি : নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করেও পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না সরকার। এখন যে পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে খাওয়ার কথা সে পেঁয়াজের দাম সেঞ্চুরি করেছে। চিনির কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় উঠেছে। চালের বাজারে অভিযান চালিয়েও চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। অন্যান্য পণ্যের দামও লাগামহীনভাবে বেড়ে গেছে। বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না ঘোষণা দিলেও রোজার আগেই সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার যতই হাঁকডাক দিচ্ছে, ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করছে, হুমকি দিচ্ছে কঠোর হওয়ার হুঙ্কার দিচ্ছে কিছুতেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এটা সরকারের জন্য একটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। অনেক পণ্যের দাম ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আগামী রোজার মধ্যে যদি সরকার অসহনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় তাহলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট : বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। গ্যাসের তীব্র সংকট। এর মধ্যেই দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর দ্রব্যমূল্যের মতোই গ্যাস সংকট রাজধানীবাসীর জন্য সমস্যা। নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও গ্যাস না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। গ্যাস সংকট নিয়ে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু একেক দিন একেক কথা বলছেন। প্রতিমন্ত্রীর এমন স্ববিরোধী কথাবার্তা শুধু সাধারণ জনগণ তো নয়, ব্যবসায়ীরা এখন আর বিশ্বাস করছেন না। তার কথায় আস্থা রাখতে পারছেন না। রমজান মাসে গ্যাস সংকটের সুরাহা না হলে রোজাদার মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে।

সামাজিক অস্থিরতা বেড়েছে : একদিকে যেমন নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, প্রাত্যহিক জীবনে নানা রকম সংকট, তেমনই সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরির বদলে শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। গার্মেন্টস সেক্টরেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্র গার্মেন্টস পণ্যের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। দেশটি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের তৈরী পোশাক ক্রয় কমিয়ে দিয়েছে। দেশটি ইতোমধ্যেই শ্রমনীতি ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশন বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের পোশাক খাত নিয়ে বিশেষ তদন্ত শুরু করছে। বাংলাদেশের শ্রম পরিবেশ, শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মজুরি, ট্রেড ইউনিয়নসহ নানা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করে তাগাদা দিয়েছে। এসব বিষয়ও তদন্তে প্রাধান্য পাবে বলে গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছে। অথচ পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন সর্বনি¤œ ১২,৫০০ টাকা গার্মেন্টস শ্রমিকরা মানেনি। সরকার বলছে নতুন এই বেতনের বেশি আর বেতন বাড়ানো যাবে না। কিন্তু গার্মেন্টস শ্রমিকরা বলছেন তারা সাড়ে ২২ হাজার টাকার কম বেতন মানবেন না। এ বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছেন এবং এ আন্দোলনে কয়েকজন শ্রমিক মারাও গেছে। শ্রমিক আন্দোলনের সময় জাতীয় নির্বাচন এসে যাওয়ায় আন্দোলন স্থগিত করা হয়। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশন তদন্ত শুরু করবে।

রাজনৈতিক ভীতি কমেনি : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা ধারণা করেছিল বাধাহীন নির্বাচনের পর বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হবে। ২০১৪ সালের মতো নির্বাচনে জ্বালাও- পোড়াও হয়নি ফলে এবার পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বিএনপির ডাকে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ সাড়া দিয়ে নির্বাচন বর্জন করবে এটা বিএনপির অনেক নেতাও ধারণা করতে পারেননি। ফলে নির্বাচন বর্জন আন্দোলনে জনগণের সাড়া দেয়াকে বিএনপি সাফল্য হিসেবে দেখছে। এতে করে দলটি এবং দলটির সঙ্গে যুগপথ আন্দোলনরত দলগুলোর নেতাদের আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে গেছে। নতুন করে তারা আন্দোলন শুরু করেছে। এই আন্দোলন সরকারকে সবসময় একটা চাপে রাখবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে বিএনপির মতো এত ত্যাগ অন্য কোনো দল শিকার করেনি। আজকে হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক মাসে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মীকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এক-এগারোর সময়েও অসংখ্য নেতা-কর্মীকে সাজা দেয়া হয়েছিল, পরবর্তীতে সেগুলো টেকেনি। আগামী দিনেও লড়াই মুখে এসব মামলা ও সাজা টিকবে না। সরকার পতনের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।ইনকিলাব

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.net
Website Design By Kidarkar It solutions