শিরোনাম
বান্দরবানের সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের আরও ১৩ সীমান্তরক্ষী পালিয়ে বাংলাদেশে রাঙ্গামাটিতে সাংগ্রাই জল উৎসব অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়িতে আ.লীগ নেতার বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, সড়কে যান চলাচল বন্ধ ফরিদপুরে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ১৩ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে বারতে পারে মৃত্যুের সংখ্যা বৈশ্বিক স্বাধীনতা সূচকে ১৬৪ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪১ কঠোর অবস্থানে ইরান, হামলার পাল্টা হামলা হবে ভয়াবহ, জবাব দেয়া হবে কয়েক সেকেন্ডেে রাঙ্গামাটি ৪ উপজেলায় নির্বাচনে: মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ৩৭ জন টেস্ট পরীক্ষার নামে বাড়তি ফি আদায় করা যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী বিশ্বকাপ নিয়ে বেশি প্রত্যাশার দরকার নেই বলছেন শান্ত বান্দরবানের ৪ উপজেলায় নির্বাচন: মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ৩২ জন

কৃষকদের ‘শিক্ষিত’ করতে ৬৫০ কোটির প্রকল্প

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪
  • ৪৬ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- বাংলাদেশে কৃষির সম্ভাবনা অনেক। কিন্তু সঠিক শিক্ষা, দক্ষ জনবলের অভাব ও আধুনিক কৃষির আদ্যোপান্ত না জানায় ভেস্তে যায় উৎপাদন পরিকল্পনা। প্রত্যাশিত আয় না আসায় হতাশ হয়ে গত এক বছরে প্রায় ১৬ লাখ কৃষক পেশা ছেড়েছেন বলে উঠে এসেছে পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপে। বাংলাদেশের দক্ষ কৃষকের চাহিদা উন্নত দেশগুলোতেও। কিন্তু যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকায় পাঠানো যায় না প্রশিক্ষিত কৃষক। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অল্পশিক্ষিত কৃষকদের শিক্ষিত করতে দেশের তিন উপজেলায় তিনটি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এটিআই) করার প্রস্তাব করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ন্যূনতম মাধ্যমিক পাস কৃষকরা এতে ডিপ্লোমা করার সুযোগ পাবেন। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যমতে, চাঁদপুরের মতলব উত্তর, ফেনীর সদর উপজেলা, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় তিনটি এটিআই স্থাপন করার প্রস্তাব করেছে অধিদপ্তরটি। এতে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬৪৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এ ব্যয় সম্পূর্ণ সরকারি অনুদানে। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরিকল্পনা কমিশনে ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা (পিইসি) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের একটি রয়েছে কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। ১৫ দিনের এ প্রশিক্ষণে ১৫০টি ব্যাচের কৃষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ, কৃষক, এটিআই অফিসার প্রশিক্ষণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যয় বেশি, কম উৎপাদন, বাজার সুবিধার অপ্রতুলতাসহ বিভিন্ন কারণে কৃষিপণ্য তার ন্যায্যমূল্য হারাচ্ছে। ক্ষুদ্র কৃষক তাদের জীবিকা নির্বাহে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বর্তমান কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে অধিকতর টেকসই এবং বিজ্ঞানভিত্তিক করে গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি টেকসই বাণিজ্যিক কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার প্রচলন প্রয়োজন।

এ প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অল্পশিক্ষিত কৃষকদের শিক্ষিত করতে এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞান সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে ডিপ্লোমা কৃষিবিদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। ডিপ্লোমা কৃষিবিদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে, কৃষকদের জ্ঞানের পরিসীমা বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনবল ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে কৃষি বাণিজ্যিকীকরণে এটিআই অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বিবেচনায় এ প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রকল্পটি চার বছর মেয়াদি কৃষি ডিপ্লোমার মাধ্যমে কৃষিবিদ তৈরির জন্য। এখানে তারা ডিপ্লোমা শেষ করে সরকারি, আধাসরকারি বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে টেকনিক্যাল কৃষির চাকরি সুযোগ আছে। ১৮টি এটিআই আছে, আরও দুটি নিয়মিত আছে, এরপর এ তিনটিও আমাদের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অল্পশিক্ষিতদের প্রশিক্ষিত করার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ন্যূনতম জিপিএ ২ দশমিক ৫ পয়েন্ট নিয়ে এসএসসি পাস করে যারা আবেদন করবেন তারা এখানে ভর্তি হতে পারবেন। এ তিন এলাকার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের যেকোনো জেলার শিক্ষার্থীরাও ভর্তি হতে পারবেন। যদিও রংপুর, দিনাজপুরে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান আছে, কিন্তু এই এলাকায় নেই, তাই সেখানে করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাদল চন্দ্র বিশ্বাস মনে করেন, দেশে কৃষির অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু দেশেই নয়, দেশের বাইরেও বাংলাদেশের দক্ষ কৃষকের চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বলছে, আপনারা কৃষির কারিগরি লোক দিন, যাতে আমাদের এলাকাগুলো চাষের আওতায় আনতে পারি। আমাদের রাষ্ট্রদূতরাও সেখানে যোগাযোগ করছেন কীভাবে এ টেকনিক্যাল জনবল নেওয়া যায়।

এ প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের জন্য মধুপুর, মতলব উত্তর ও ফেনী উপজেলায় ১৫ একর করে মোট ৪৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা, যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি এটিআইয়ে ২১ হাজার ৫২০ বর্গফুট চারতলাবিশিষ্ট একটি প্রশাসনিক কাম অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ ও ২ হাজার ১৫২ বর্গফুটের একটি ডুপ্লেক্স প্রিন্সিপালের বাসভবন নির্মাণ; প্রতিটি এটিআইয়ে একটি করে ২১ হাজার ৫২০ বর্গফুট চারতলাবিশিষ্ট ছাত্রাবাস ও একটি করে ২১ হাজার ৫২০ বর্গফুট চারতলাবিশিষ্ট ছাত্রীনিবাস নির্মাণ হবে। আবাসিক ভবনগুলো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, অনাবাসিক ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৮ কোটি টাকা।

প্রতিটি এটিআইয়ের জন্য আসবাবপত্র, অফিস ফার্নিচার কৃষি যন্ত্রপাতি, জেনারেটর, মোটর স্থাপন; প্রতিটি এটিআইয়ে বৈদ্যুতিক সংযোগ প্রদানের জন্য ট্রান্সফরমার ক্রয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫১ কোটি টাকা।

প্রতিটি এটিআইয়ে প্রধান ফটক, কৃষি ল্যাবরেটরি অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ভূমি উন্নয়ন, সীমানা প্রাচীরসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হবে এসব এটিআইয়ে। এসব অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, দেশে ডিপ্লোমা কোর্সধারী জনবলের সংখ্যা বাড়ছে। দেশে বর্তমানে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৪৮৭ জন ডিপ্লোমা সনদধারী রয়েছেন। এক যুগে এ হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিপ্লোমাধারী বতর্মানে দশমিক ৮১ শতাংশ, যেটি ২০১১ সালেও ছিল দশমিক ৭১ শতাংশ।

অন্যদিকে দেশে কৃষকের সংখ্যা এক বছরে কমেছে ১৫ লাখ ৮০ হাজার। কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে এ হার আরও কমার শঙ্কা রয়েছে। তবে কৃষিবিদরা বলছেন, দেশে পেশাগত কৃষক কমলেও দক্ষ জনগোষ্ঠী বাণিজ্যিক কৃষিতে আসছেন বেশি হারে।দেশ রূপান্তর

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.net
Website Design By Kidarkar It solutions