শিরোনাম
সহিংসতায় আহত ২৪০ জন ঢামেকে, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এক দিনেই অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করেন বেনজীর ও পরিবার আন্দোলন প্রতিরোধে ব্যর্থ, ভেঙে দেওয়া হলো আ. লীগের ২৭ ইউনিট কমিটি বিক্ষোভ দমনে কী কী ঘটেছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করুন: জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান নরসিংদী কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া আরও ১২২ জন বন্দীর আদালতে আত্মসমর্পণ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ৮ বার্তা দিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুধু ৬ জনের হত্যার তদন্ত পুরো বিষয় ধামাচাপা দেয়ার নামান্তর,কোটা আন্দোলনে হতাহতের তদন্ত প্রসঙ্গে ফখরুল নগদ টাকার সংকট, একদিনে ২৫ হাজার কোটি টাকা ধার দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভূতপূর্ব প্রাণহানি ও ভয়াবহতা সুশাসনের প্রকট ঘাটতির নির্মমচিত্র: টিআইবি পকেটে হাত দিয়ে ঘুমিয়ে থাকলে তারা আমাদের ঘরে ঢুকে মেরে ফেলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপি জোটের বেহাল দশা

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ১৩৫ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- বেহাল অবস্থায় পড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের কার্যক্রম নেই। তারা মাঝেমধ্যে নামমাত্র দু-একটা কর্মসূচি দিলেও সেগুলোও হচ্ছে আলাদাভাবে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সমমনা দলগুলো যুগপৎ একই কর্মসূচি পালন করলেও এখন শরিকরা যার যার মতো করে একেক ধরনের কর্মসূচি দিচ্ছে। রাজপথে নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপির অবমূল্যায়ন, অবহেলা ও অবমাননা আর দলটির ‘একলা চলো নীতি’তে বছর দেড়েক আগেই বিলুপ্ত হয়েছে ২০ দলীয় জোট। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর অনেকটাই ক্ষোভ আর হতাশা ভর করেছে সমমনা দল ও জোটগুলোর ওপর। নতুন করে আন্দোলনের কর্মকৌশল নিয়ে কথা বলার মতো নেতা বিএনপিতে খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। বিএনপি হাইকমান্ড তারেক রহমান দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা কারাগারে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেওয়ার কেউ নেই। ফলে সমমনা দলগুলোর নেতারা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। তাদের প্রত্যাশা ধীরে ধীরে সবকিছুই আবারও ঠিক হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে কী হয়েছে, সারা দেশের মানুষসহ সারা বিশ্ব দেখেছে। নির্বাচনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে বৃহৎ রাজনৈতিক জোট গঠনের বিষয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।
জানা যায়, সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে মাঠে আছে কমপক্ষে ৪০টি রাজনৈতিক দল। এতে রয়েছে আ স ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, ড. রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নূরের পৃৃথক গণ অধিকার পরিষদ, জোনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলন, সাইফুল হকের বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি, রফিকুল ইসলামের ভাসানী অনুসারী পরিষদ এবং হাসনাত কাউয়ূমের রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), খন্দকার লুৎফর রহমান ও এস এম শাহাদাত হোসেনের জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), মো. আকবর হোসেনের ডেমোক্রেটিক লীগ, গরিবে নেওয়াজ ও সৈয়দ মাহবুব হোসেনের পিপলস লীগ, আবদুর রকিব ও আবদুল করিমের ইসলামী ঐক্যজোট, এম এন শাওন সাদেকী ও দিলীপ কুমার দাসের বাংলাদেশ ন্যাপ, নুরুল আমিন ব্যাপারী ও শাহ আহমেদ বাদলের বিকল্পধারা বাংলাদেশ, নূরুল ইসলামের সাম্যবাদী দল, এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী ও আবু সৈয়দের গণদল, আজহারুল ইসলাম ও গোলাম মোস্তফা আকন্দের ন্যাপ ভাসানী এবং সুকৃতি মণ্ডলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ মাইনরিটি পার্টি, মোস্তফা জামাল হায়দারের জাতীয় পার্টি (জাফর), আবদুল করিম আব্বাস ও শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএলডিপি), মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের বাংলাদেশ লেবার পার্টি, সৈয়দ এহসানুল হুদার বাংলাদেশ জাতীয় দল, কে এম আবু তাহেরের এনডিপি, জুলফিকার বুলবুল চৌধুরীর বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, মুফতি মহিউদ্দিন ইকরামের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, মাওলানা আবদুর রকীবের ইসলামী ঐক্যজোট, তাসমিয়া প্রধানের জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নুরুল ইসলামের বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল এবং আবুল কাসেমের বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টিসহ আরও অনেক দল। এ ছাড়া বিএনপির সঙ্গে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক হয়েছে আবুল কালাম আজাদের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, শামসুল আলমের সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ও হারুন আল রশিদের প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল নিয়ে গঠিত ‘গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য’ এবং মোস্তফা মোহসীন মন্টুর ‘গণফোরাম’। কিন্তু নাম এবং সাইন বোর্ডসর্বস্ব এসব দলের শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপির সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলনে শরিক হয়েছে, তাদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাড়া আর কারও নাম-ধাম-পরিচয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তেমন শোনা যায় না। কতগুলো দল আছে, যাদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককেও সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা জোট নেতারাই চেনেন না।

জানা যায়, অধিকাংশ দল মূল দলের খণ্ডিতাংশ। সভাপতির সঙ্গে দ্বন্দ্বে সাধারণ সম্পাদক দলের কয়েকজনকে নিয়ে আলাদা দল করেছেন অথবা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দলের চতুর্থ সারির কোনো নেতাকে দিয়ে ‘বিকল্প’ দল বানিয়ে রাখা হয়েছে। এদের অধিকাংশেরই নেই নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন এবং সাংগঠনিক শক্তি বা জনভিত্তিও নেই ‘ওয়ানম্যান শো’ এসব রাজনৈতিক দলের। বিএনপি কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করলে ২০ জন কর্মী নিয়েও কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে না। এসব দলের নেতাদের ‘শক্তি’ হচ্ছে চড়া গলায় সরকার পতনের আওয়াজ তোলা। নাম ও সাইন বোর্ডসর্বস্ব এসব দল নিয়ে বিএনপির পুরনো মিত্রদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে আপত্তি তুলেছেন। তারা বলছেন, যাদের কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি নেই, জনসমর্থন নেই, ভোট নেই, তাদের দিয়ে জোট গঠন করে আন্দোলন হবে না। এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ভবিষ্যতে যদি বিএনপির পক্ষ থেকে নতুন করে বৃহৎ কোনো রাজনৈতিক জোট গঠনের চিন্তাভাবনা করা হয়, তাতে এলডিপির সমর্থন থাকবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সামনে থেকে আমরা সমমনা জোট ও রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একসঙ্গেই আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করব। খুব শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। কাজেই জোট কিংবা সমমনা দলের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ নেই অথবা সম্পর্ক দুর্বল- এসব কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। নাগরিক ঐক্যের শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ৭ জানুয়ারি তার ভাষায় তথাকথিত নির্বাচনের পর বিএনপির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগটা কম হচ্ছে। তবে হতাশার কিছু নেই।

গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী বলেন, সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা নিজেদের যতই ‘স্থায়ী সরকার’ মনে করুক না কেন, তারা কখনোই স্থায়ী হবে না। এভাবে জোর-জবরদস্তি করে সরকার কখনো টিকে থাকতে পারবে না।

গত বছর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে হঠাৎ করেই ২০ দলীয় জোট বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে বিএনপি এককভাবে চলার ঘোষণা দেয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে একাধিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম। তারই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৮ আগস্ট জেএসডি, নাগরিক ঐক্যসহ কয়েকটি দলের সমন্বয়ে গঠিত হয় গণতন্ত্র মঞ্চ। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি হওয়া দলগুলোকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বিলুপ্ত করা হয় দুই দশকের রাজপথে বিএনপির পাশে থাকা ২০ দলীয় জোট। এরপর থেকেই সমমনা দল ও জোট নিয়ে তৈরি হয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন অঘোষিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, জোট রাজনীতির কারণে বাংলাদেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছে। জোট রাজনীতির সুবিধা ও অসুবিধা অনেক। প্রয়োজনেই জোট গঠন করা হয়েছিল। আবারও প্রয়োজনে আরও বড় জোট গঠন করা হতে পারে। তবে সরকার বিদায়ের আন্দোলন অব্যাহত আছে এবং থাকবে।বাংলাদেশ প্রতিদিন

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.net
Website Design By Kidarkar It solutions