শিরোনাম
আগামীকাল সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক,আসবে অবরোধও পাহাড় থেকে চীনে নারী পাচারকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে রাঙ্গামাটিতে মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রীর নিকট পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এপিএ হস্তান্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২৬ বছর পূর্তি উদযাপন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে ঢাবিতে প্রবেশ করবে পুলিশ : বিপ্লব ‘জবাব ছাত্রলীগই দেবে’, কোটাবিরোধীদের রাজাকার স্লোগান নিয়ে কাদের আমেরিকা পালিয়েছেন ৪০০ কোটির পিয়ন আন্দোলনকারী-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে উত্তপ্ত চট্টগ্রাম ঢাবিতে সাঁজোয়া যানসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশের অবস্থান ঢাবির হলে বহিরাগত অবস্থানে নিষেধাজ্ঞাসহ ৫ সিদ্ধান্ত

সচিব থেকে ডিসি পর্যায়ে আসছে আরও পরিবর্তন

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ১১২ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রিরোট:- সরকার গঠনের এক সপ্তাহ পরই আমলাতান্ত্রিক পদগুলোতে শুরু হয়েছে অদলবদল। পদোন্নতিও শুরু হয়েছে বেশ কয়েকটি সংস্থার বড় পদে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে শিগগির আরও রদবদল হতে পারে। পদোন্নতিও দেওয়া হবে বেশ কয়েকজনকে।

অতিরিক্ত সচিব ও উপসচিব পদেও পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। গত সপ্তাহে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এসব প্রকাশ করা হয়েছে। তিনজন অতিরিক্ত সচিব ও ১৪ জন যুগ্ম সচিবের দপ্তর রদবদল করা হয়েছে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ও পরে পদোন্নতি বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার খবরের কাগজকে বলেন, নির্বাচন বড় কথা নয়, পদ না থাকলে পদোন্নতি দেওয়া সংকট তৈরি করবে। কাঠামোগত জটিলতা তৈরি হবে। প্রশাসনিক ভারসাম্যও নষ্ট করে অতিরিক্ত পদ-পদবি।

ভিন্ন ভিন্ন প্রজ্ঞাপনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে, লিয়েন শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদান করা ফাতেমা রহিম ভীনাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমানকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। অন্য আরেক আদেশে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীর (একান্ত সচিব) যুগ্ম সচিব আহমদ কবীরকে পরিকল্পনা বিভাগে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে সংযুক্ত আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেনকে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে, সমাজ কল্যাণমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. সারোয়ার হোসেনকে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. আক্তারুজ্জামানকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের খন্দকার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে পরিচালক হিসেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনে, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের মো. রুহুল আমীন মিয়াকে মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিজ প্রকল্পে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মো. আব্দুর রবকে মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানে এবং পরিকল্পনা বিভাগের মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলামকে ধান শুকানো সংরক্ষণে আধুনিক সাইলো নির্মাণ প্রকল্পে পদায়ন করা হয়েছে।

লিয়েন শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদান করা ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়াকে জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটে, মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেনকে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পে, ঢাকার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. শাহরিয়াজকে মহাপরিচালক হিসেবে দুদকে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে পরিচালক হিসেবে বিয়াম ফাউন্ডেশনে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ড. মুহাম্মদ মুনসুর আলম খানকে পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনে এবং চাইল্ড সেনসিটিভ সোশ্যাল প্রটেকশন ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এস এম লাবলুর রহমানকে সদস্য হিসেবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষে পদায়ন করা হয়েছে। অন্য এক আদেশে অমিতকুমার বসুকে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, সরকার গঠনের এক ও দুই মাস পর সচিবসহ বড় পদগুলোতে পরিবর্তন আসে। এটি স্বাভাবিক। এবার নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এসেছেন। তাদের পছন্দের বিষয় রয়েছে। রানিংমেট হিসেবে তারা তাদের পছন্দের কর্মকাঠামো তৈরি করবেন। তিনি আরও বলেন, শুধু সচিব, অতিরিক্ত সচিব বা উপসচিব পর্যায়েই নয়, সামনে জেলা প্রশাসনেও আসবে পরিবর্তন। সেটি খুব শিগগিরই। সর্বশেষ সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অতিরিক্ত সচিব এবং উপসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে। দুটি স্তরে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

এর মধ্যে যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব এবং সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে। এবার নিয়মিত বিসিএস ১৮ ও ৩০তম ব্যাচ থেকে এ দুই পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এর আগে গত বছর এপ্রিলে অতিরিক্ত সচিব ও ১ নভেম্বর উপসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এবার ১৮তম ব্যাচের বড় একটি অংশসহ বাদ পড়া (লেফট আউট) থেকে ১৭তম ব্যাচ, অন্য ক্যাডারসহ আগে পদোন্নতিবঞ্চিত শতাধিক কর্মকর্তার সব তথ্য যাচাই করেছে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি)।

একাধিক সাবেক সচিব বলেছেন, সরকার পরিবর্তন হলে বড় পরিবর্তন আসাটা স্বাভাবিক। যারা যোগ্য, তারা পদোন্নতি পেলেও সংকট নেই। তবে পদ-সংকটের বিষয়টি অবশ্যই ভাবা উচিত।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের আপডেটেড তথ্যমতে, সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ মিলিয়ে অতিরিক্ত সচিবের অনুমোদিত পদ আছে ১৪০টি। এই পদে কর্মরত ৩২২ জন কর্মকর্তা। যুগ্ম সচিবের অনুমোদিত পদ ৩৩২টি। কর্মরত ৯১৯ জন। উপসচিব পদে অনুমোদিত পদ ১ হাজার ৪২৮টি। কর্মরত ১ হাজার ৭১১ জন। জনপ্রশাসনের বাইরেও পুলিশ প্রশাসনসহ একাধিক সংস্থায় পরিস্থিতি এ রকমই। সর্বশেষ পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১২ জন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও তারা এখনো আগের পদে বহাল আছেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে পুলিশে বড় পদোন্নতি দেওয়া হয়। তখন অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। গত বছর তিন ক্যাডারের বিভিন্ন পদে ১ হাজার ৬০৮ কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়েছে। এদের অধিকাংশই সুপার নিউমেরারি পদোন্নতি পেয়েছেন। আর দায়িত্ব পালন করছেন ‌‘ইনসিটু’ হিসেবে অর্থাৎ যে পদে ছিলেন, পদোন্নতির পর সেই দায়িত্বই পালন করছেন।

নতুন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই জনপ্রশাসনে কাঠামোগত সংকট নিয়ে জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, শিগগিরই সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর অধিদপ্তর, সংস্থা ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হবে। কোন প্রতিষ্ঠানে কোন পদের বিপরীতে কতজন কোন মর্যাদার কর্মকর্তা প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ঠিক করে দেবে। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো নিরূপণ করবে।

দেশের প্রচলিত কাঠামো ব্রিটিশ আমলে তৈরি প্রশাসনিক ব্যবস্থার মূল কাঠামো ও কার্যপ্রণালির আদলে রয়েছে, ১৯৮০ সালের পর তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। বিভিন্ন সময় প্রশাসনের সংস্কারের জন্য বিভিন্ন কমিটি বা কমিশন গঠন করা হলেও এসব কমিশন বা কমিটির সুপারিশ খুব অল্পই আমলে নেওয়া হয়েছে। ১৯৮৩ সালে সামরিক শাসনামলের বহুল আলোচিত ‘এনাম কমিটি’র সুপারিশ ও ১৯৯৬ সালে গঠিত শামসুল আলম কমিশনের সুপারিশও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।

নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অণুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. নাজমুস সাদাত সেলিম খবরের কাগজকে বলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থায় উচ্চপদে রদবদল হচ্ছে, এটি প্রশাসনিক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নতুন মন্ত্রিসভার সঙ্গে এটি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত না। ১৮ ও ৩০তম বিসিএস কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। পদোন্নতি হবে স্বাভাবিকভাবেই। খবরের কাগজ

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.net
Website Design By Kidarkar It solutions