রাঙ্গামাটিতে দীপংকর তালুকদার,বান্দরবানে বীর বাহাদুর, খাগড়াছড়েতে কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা আবারও দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৩
  • ২৮৭ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:-দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। আজ বিকালে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, গত তিন দিনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল সন্ধ্যায় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে মনোনয়ন বোর্ডের এক সদস্য নিশ্চিত করেছেন। আজ রোববার বিকাল সাড়ে ৪টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় অথবা ধানমন্ডিতে দলের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার আগে আজ সকালে মনোনয়নপ্রত্যাশী যারা দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছিলেন তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, ৩ পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে নৌকার কাণ্ডারী কারা হচ্ছেন সেটা নির্ধারণ হয়ে গেছে। দলের হাই কমান্ড একাধিক সংস্থার মাধ্যমে এবং নিজস্ব জরিপের ভিত্তিতে সারা দেশের মতো বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩ আসনে (চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণের ১৬ আসন, কক্সবাজারের ৪ আসন এবং তিন পার্বত্য জেলার ৩ আসন) আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে।

চট্টগ্রামের ১৬ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় টিকেট পেতে বর্তমান এমপিসহ মোট ২১৮ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী ২৩২টি দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দেন। অনেকে ৩ আসনে, অনেকে ২ আসনে ফরম জমা দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য বলেন, ৩০০ আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হলেও ঘোষণার আগ পর্যন্ত কারা বাদ যাচ্ছেন আর কারা নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন সেটি নিশ্চিত করে বলা যাবে না। অতীতে চূড়ান্ত করা তালিকা ঘোষণার আগমুহূর্তেও প্রার্থী পরিবর্তন করার নজির রয়েছে। তবে সারা দেশে ৩০০ আসনের মধ্যে এবার ৬০ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের প্রায় আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন এমন সব প্রার্থী ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাদের সাথে রয়েছেন কর্মী–সমর্থকরাও। বলতে গেলে গতকাল মনোনয়ন বোর্ডের সভার পর থেকেই বর্তমান সংসদ সদস্যদের অনেকে উদ্বেগ–উৎকণ্ঠায় আছেন।

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া জানিয়েছেন, রোববার বিকাল ৪টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে,বান্দরবান আসন থেকে সাতবারের নির্বাচিত বর্তমান সংসদ সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর, রাঙ্গামাটি আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এবং খাগড়াছড়ি আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা আবার দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন।

একাধিক সূত্রে বলা হয়েছে, বৃহত্তর চট্টগ্রামের প্রায় আসনে পুরনোদের ওপরই আস্থা রেখেছেন দলের হাই কমান্ড। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে সীতাকুণ্ড আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের কথা শোনা যাচ্ছে। মীরসরাই আসন থেকে সাতবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি এবার নিজে নির্বাচন না করে ছেলে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাহবুবুর রহমান রুহেলের জন্য মনোনয়ন চেয়েছেন। রাজনীতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন নিজে নির্বাচন না করে তার ছেলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে মনোনয়ন চাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী দলের এই প্রবীণ নেতার কথা যে রাখবেন সেটা অনেকটা নিশ্চিত। তাই ধরে নেওয়া যায়, চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে মীরসরাই আসন থেকে মনোনয়ন পেয়ে চমক সৃষ্টি করতে পারেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান রুহেল।

দলীয় একাধিক সূত্রে বলা হয়েছে, এবার চট্টগ্রাম–৪ সীতাকুণ্ড আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আবুল কাশেম মাস্টারের ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান (সদ্য পদত্যাগ করা) এস এম আল মামুন, চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসনে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সালাম এবং চট্টগ্রাম–২ ফটিকছড়ি আসন থেকে সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি মনোনয়ন পাচ্ছেন।

এছাড়া চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা, চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী–চান্দগাঁও) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য নোমান আল মাহমুদ, চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম–১০ (পাহাড়তলী–ডবলমুরিং) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু, চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর পাশাপাশি দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলামের নামও শোনা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর আবারও মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী এবং চট্টগ্রাম–২ ফটিকছড়ি আসন দুটি জাতীয় পার্টি ও তরিকত ফেডারেশনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এই দুটি আসন থেকে জাতীয় পার্টি ও তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার আসন দুটি ছেড়ে দেওয়া হবে কিনা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের শরিকদের মনোনয়নের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা এখনও ঠিক করিনি শরিকদের আসলে আমাদের প্রয়োজন আছে কিনা। তিনি বলেন, জোটের বিপরীতে জোট, আমাদের প্রতিপক্ষ যদি বড় জোট করত, তাহলে তার বিপরীতে আমাদের জোট হতো। তাছাড়া আমরা কেন অহেতুক জোট করতে যাব?

এতদিন শোনা গিয়েছিল, হাটহাজারী আসনটি এবার বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইব্রাহিমকে এবং চট্টগ্রাম–২ ফটিকছড়ি আসনটি নির্বাচন কমিশন থেকে সদ্য নিবন্ধনপ্রাপ্ত বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। হাটহাজারী আসনের জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরীকে অন্য একটি আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত শরিকদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলে জানা যাবে চট্টগ্রামের কোন আসনটি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ১৬ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করে রেখেছে।

কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম : কক্সবাজারের চারটি আসনের মধ্যে কক্সবাজার–১ আসনে সালাহউদ্দিন আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে। অবশিষ্ট ৩টি আসনে আগের সংসদ সদস্যরাই বহাল রয়েছেন বলে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

বান্দরবান আসন থেকে সাতবারের নির্বাচিত বর্তমান সংসদ সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর, রাঙ্গামাটি আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এবং খাগড়াছড়ি আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা আবার দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন।

এদিকে আজ সকালে গণভবনে ডাক পেয়েছেন আওয়ামী লীগের ৩ হাজার ৩৬২ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।আজাদী

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.net
Website Design By Kidarkar It solutions