‘প্রত্য়েকেরই নিজস্ব স্টাইল থাকা উচিত’

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ৩৩৪ দেখা হয়েছে

সানজিদা সামরিন:- কিছুদিন আগে জার্মানির বার্লিন শহরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ফ্যাশন দুনিয়ার অন্যতম বড় উৎসব ‘বার্লিন ফ্যাশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’। বিশ্বের সব নামীদামি ব্র্যান্ডের ফ্যাশন ফিল্ম দিয়ে সাজানো হয়েছিল এই উৎসব। এখানে দেখানো হয়েছিল জাহিদুল আলম খানের পরিচালনায় বাংলাদেশের পরিচিত মডেল সাবরিনা জামান রিবা অভিনীত ফ্যাশন ফিল্ম ‘মুড সুইং’।

সম্প্রতি বেশ সাড়া ফেলেছে এই ফিল্ম। র‍্যাম্প মডেল হিসেবে পরিচিত রিবাকে এখানে নতুন রূপে দেখা যায়। সম্প্রতি নতুন মিউজিক ভিডিও নিয়ে হাজির হলেন আলোচিত এই ফ্যাশন মডেল। স্টুডিও মায়েস্ট্রোসের প্রযোজনায়, কণ্ঠশিল্পী তারুণ্য হীরার নতুন গান ‘এ শহরে তুমিহীন’-এর ভিডিওতে পারফর্ম করেছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, কলকাতায় প্রসেনজিৎ দাসের সঙ্গে যৌথভাবে মিউজিক ভিডিওটি পরিচালনাও করেছেন রিবা। তাঁর ফ্যাশন ভাবনা ও লাইফস্টাইল নিয়েই এবারের মূল আয়োজন।

সৌন্দর্য বলতে যা বুঝি
সৌন্দর্য বিষয়টিকে রিবা মানুষের ব্যক্তিত্বের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর সোজা জবাব, ‘সৌন্দর্য ব্যাপারটা একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে।’ একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব, আচার-ব্যবহার, অন্য়দের তিনি কীভাবে দেখছেন, সেই সব একসঙ্গে যখন সুন্দর হয়, তখনই একজন মানুষকে সুন্দর বলা যায়।

ট্রেন্ডি নাকি ট্রেন্ড সেটার
রিবার কাছে স্টাইল হচ্ছে একজন মানুষের নিজস্বতা। তিনি বলেন, ‘নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মেলে, এমন সবকিছুই তো স্টাইল। স্টাইল ব্যাপারটা নিজস্বতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। অনেকেই ট্রেন্ডে গা ভাসাতে পছন্দ করেন। ট্রেন্ডে যখন যা থাকে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চান অনেকে। আমার কাছে মনে হয়, ট্রেন্ডে যা থাকে, তা তো সব সময় সবাইকে মানায় না। প্রত্য়েকেরই নিজস্ব স্টাইল থাকা উচিত, যেটা তার সিগনেচার লুক।’ কাজের ক্ষেত্রে অবশ্য লেটেস্ট ট্রেন্ডি পোশাক ও অনুষঙ্গ ব্যবহার করতে হয় রিবাকে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তিনি একটু ‘ওল্ড স্কুল টাইপ’। বাংলায় বললে ‘পুরোনোয়’ বাঁচতে ভালোবাসেন। ট্রেন্ডে যখন যে পোশাক আসে, সেগুলো পরার চেয়ে শাড়ি পরতেই বেশি স্বচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

রেগুলার ও পার্টি ওয়্যারে
রেগুলার ওয়্যারে ওয়েস্টার্ন ক্যাজুয়াল পরলেও পার্টি বা অনুষ্ঠানে পোশাক হিসেবে শাড়িকেই বেছে নেন বেশির ভাগ সময়। সে ক্ষেত্রে ট্র্যাডিশনাল লুকটাই বেশি পছন্দের। শাড়ির প্রতি প্রেমটা তাঁর একটু বেশিই।

মেকআপ ফ্রিক নই
‘আমি একেবারেই মেকআপ ফ্রিক না!’ একনাগাড়ে বলে গেলেন সাবরিনা জামান রিবা। কাজের প্রয়োজন ছাড়া মেকআপ একদমই করেন না তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘ত্বক যতটা মেকআপ ছাড়া রাখা যায়, ততই ভালো।’ সাজ বলতে কপালে ছোট্ট একটা টিপ, চোখে কাজলের রেখা, পাপড়িতে মাসকারা আর ঠোঁটে লিপস্টিক; এই তো! মেকআপ উপকরণের মধ্য়ে লিপস্টিক আর নেইলপলিশ তাঁর প্রিয়। তবে ইদানীং নেইলপলিশের প্রতি ঝোঁকও কমে গেছে বলে জানান তিনি।

রূপচর্চায় এটুকুই
প্রাকৃতিকভাবেই তাঁর ত্বক ভালো। ফলে বাড়তি কোনো যত্ন সেভাবে না নিলেও চলে। যত্ন বলতে, ত্বক পরিষ্কার রাখেন। এর বাইরে সেরাম, ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করেন। ত্বকের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে মেকআপ। তাঁর প্রফেশন ও কাজের ধরনের কারণে মেকআপ করতেই হয়। ফলে ত্বকে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কাজ শেষ হলেই মেকআপ তুলে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফেলেন। অন্যদিকে চুলের যত্নে ভেষজ তেল ‘দীঘল’ ব্যবহার করেন।

বিউটি এক্সপেরিমেন্ট
বিউটি এক্সপেরিমেন্ট করতে কেমন লাগে—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘একেবারেই করি না। বি ন্যাচারাল বি বিউটিফুল। আমি বিশ্বাস করি, একজন মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই যতটুকু সুন্দর, সেটাই আসল সৌন্দর্য।’

ফিটনেস মন্ত্র
ফিটনেস ধরে রাখতে কী করেন—এ প্রশ্ন শুনেই হেসে ওঠেন রিবা। বলেন, ‘কম খাই এবং বেছে খাই।’ ভাত, মাছ, ভর্তা প্রিয় খাবার। তবে একবারে বেশি না খেয়ে বারবার অল্প করে খাওয়াতে বিশ্বাস করেন তিনি। দুই ঘণ্টা পরপর একটু বাদাম বা একটা ফল খান। তেল ছাড়া খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেন। শুটিং থাকলে খাবারের ক্ষেত্রে একটু ছাড় দিতে হয় কখনো কখনো। মিষ্টি খুব একটা পছন্দ নয় তাঁর। ব্যায়াম প্রসঙ্গে জানান, আগে জিম করতেন নিয়মিত। তবে করোনার সময় থেকে বাড়িতে নিজের মতো করে শরীরচর্চা করেন এবং হাঁটেন।

আলমারিতে প্রিয় ব্র্যান্ড
মাইকেল করসের ঘড়ি।

ব্যাগে রাখি
রিবার ব্যাগে চশমা, লিপস্টিক, মোবাইল ফোন, চার্জার, এয়ার পড, পকেট পারফিউম—এসব প্রয়োজনীয় উপকরণ থাকে।

বেডসাইড টেবিলে থাকে
হেডফোন, চার্জার, স্মার্টফোন।

প্রিয় অনুষঙ্গ
অনুষঙ্গ হিসেবে আংটি ও পায়ের নূপুর বা পায়েল তাঁর প্রিয়।

দাম দিয়ে কিনি
জুতা। আগে হিল পরতে পছন্দ করতেন, এখন কনভার্স, কোলাপুরি স্যান্ডেল—এগুলো পরতে ভালো লাগে।

উঠতি মডেলদের জন্য পরামর্শ
নতুনদের বিষয়ে অনেক কথাই বলেছেন রিবা। তিনি বলেন, ‘সব সময়ই নতুনদের শুভকামনা জানাই। আগের তুলনায় এখন অনেক কিছুই সহজ হয়ে উঠেছে। একটা সময় স্ট্রাগল বেশি ছিল, অনেক কষ্ট করে শিখে-পড়ে, অগ্রজদের দেখে কাজ করে তারপর একটা অবস্থানে আসতে হয়েছে আমাদের। কিন্তু এখন দেখা যায়, ক্যারিয়ারের শুরুতেই বড় বড় কাজের সুযোগ পেয়ে যান নতুনেরা। ফলে অনেকেই সেটার মূল্য বুঝতে পারেন না।’ দীর্ঘ পরিশ্রমের ব্যাপারটা বোঝা জরুরি বলে মনে করেন রিবা। নতুনদের প্রতি তাঁর পরামর্শ হলো, ‘মডেলিং করতে হলে অগ্রজ যাঁরা অনেক কষ্ট করে ক্যারিয়ার গড়েছেন, তাঁদের সম্পর্কে এবং তাঁদের কাজ সম্পর্কে জানা থাকাটা জরুরি।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.net
Website Design By Kidarkar It solutions