ডেস্ক রির্পোট:- বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বগুড়ার জন্মভূমির বাড়িটি কালের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে। রাষ্ট্রক্ষমতার প্রধান ব্যক্তি হয়েও তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষ। ১২৯ বছরের পুরনো বাড়িটি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচিহ্ন হয়ে রয়েছে। এটি হতে পারে আগামী প্রজন্মের জন্য ইতিহাসসমৃদ্ধ মিউজিয়াম।
বগুড়ায় জন্ম নেওয়া বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির একজন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কমল। গ্রামের কাদামাটি, জল ও জমির আইল ধরে বেড়ে ওঠা কিশোরটিই একদিন বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। নিজের মেধা, মনন, ত্যাগ আর দেশের জন্য ভালোবাসা ছিল বলেই তিনি বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখে এক অনন্য জিয়াউর রহমান হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, খাল খনন, উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে পরনির্ভরশীলতা কমানো, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানো, স্বেচ্ছাশ্রমে দেশের উন্নয়নসহ বহুমুখী উন্নয়ন হয়। সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকারি সহায়তার সমন্বয় করে ১৪০০ খাল খনন করেছিলেন তিনি।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে। তাঁর পিতা মনসুর রহমান মন্ডল এবং মাতা জাহানারা খাতুন। জিয়াউর রহমানের পূর্বপুরুষরা ১৮৯৫ সালে এখানে দুই তলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন। ১২৯ বছরের পুরনো বাড়িটি এখানো স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ির প্রবেশমুখে লেখা, ‘জিয়াবাড়ী, বাগবাড়ী, বগুড়া।’ বাড়ির ভিতরে পশ্চিম পাশে একটি দুই তলা পাকা ঘর। ওই পাকা ঘরের সম্মুখভাগেই বাড়ি নির্মাণের তারিখ লেখা, ‘২২ শে আষাঢ় ১৩০২ সন, ১৮৯৫ সাল।’ বর্তমানে বাড়িটি দেখাশোনা করেন জিয়া পরিবারের আত্মীয় রোকেয়া তালুকদারসহ অন্যরা। প্রতি বছর বাড়িটির সংস্কার করা হয়। ঘরের ভিতরে জিয়ার আমলের একটি খাট, ড্রেসিং টেবিলসহ সামান্য কিছু আসবাব রয়েছে। এ ছাড়া জিয়াউর রহমান যে খাটে ঘুমাতেন, সে খাটের সঙ্গের বোতাম সেট করা মশারি, জমিদার আমলের কাচের গ্লাস অনেক আগেই চট্টগ্রাম মিউজিয়ামে রাখা হয়েছে। বাড়িটিতে রয়েছে একটি বিশেষ কক্ষ। সে কক্ষে রাখা হতো নিরাপত্তার জন্য দামি জিনিসপত্র। ঘরটির পেছনে ঘাটসহ একটি পুকুর, বাড়ির সামনের অংশে বড় পরিসরের খোলা জায়গা। জিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে সরোবর খালটি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে এ এলাকার কৃষিজমিতে সেচের জন্য নিজেই খনন করেছিলেন। জিয়ার স্মৃতি ধরে রাখতে বাড়িটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়নি।
জিয়া পরিবারের সদস্য প্রয়াত বাচ্চু তালুকদারের স্ত্রী রোকেয়া তালুকদার বলেন, তিনি সম্পর্কে আমার চাচা শ্বশুর হন। তাঁকে একবার আমার দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী বাড়িটি দেখতে আসেন।
গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রাজ্জাকুল আমিন রোকন তালুকদার জানান, জিয়াউর রহমানের দাদা ছিলেন পন্ডিত কামাল উদ্দিন মন্ডল। তিনি বাগবাড়ীতে এসে তৎকালীন জমিদার পরিবারের মেয়ে মিছিরুন নেছাকে বিয়ে করে এখানেই সংসার শুরু করেন। তাঁদের ঘরে সাত ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম হয়। সাত ছেলের মধ্যে মনসুর রহমান হলেন পঞ্চম সন্তান। মনসুর রহমান এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জাহানারা খাতুনকে (রানী) বিয়ে করেন। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তাঁদের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান কমল। ‘কমল’ নামটি জিয়ার পারিবারিক ডাকনাম। তিনি ছিলেন পিতা-মাতার দ্বিতীয় সন্তান। জিয়াউর রহমানের ভাই ছিলেন পাঁচজন। বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণমানুষের জন্য কাজ করেছেন। দেশের প্রতিটি পরিবারকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না, ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, সাবেক সেনাপ্রধান এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর বাড়িটি কোনোভাবেই সাধারণ থাকার কথা নয়। মূল বাড়িটি রেখে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি মিউজিয়াম করা যায় কি না সে বিষয়ে ভাবা হবে।বাংলাদেশ প্রতিদিন