নির্বাচন পরবর্তী রাজনীতি ও নাগরিক অধিকারচর্চার বিষয়ে খোঁজ নিলেন ডনাল্ড লু

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৫ মে, ২০২৪
  • ২০ দেখা হয়েছে

ডেস্কত রির্পোট:- দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারের চর্চা কতটা অবাধে হচ্ছে, তা জানতে চেয়েছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডনাল্ড লু। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতিবিনিময় সভায় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির পাশাপাশি এখানকার অর্থনীতি, শ্রম অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে জানতে চান লু। আলোচনায় ফিলিস্তিন পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তিন দিনের ঢাকা সফরের প্রথম দিনে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ডনাল্ড লু। ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বাসায় এই মতবিনিময় সভা হয়। এ সময় গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে ডনাল্ড লু বাংলাদেশের এই নাগরিক প্রতিনিধিদের মত জানতে চান। এ সময় তাঁরা ফিলিস্তিন পরিস্থিতি, বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলের নৃশংসতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার বেশ সমালোচনা করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মতবিনিময় সভায় অংশ নেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার–এর সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনাম, বাংলাদেশ সেন্টার ফর উইমেন ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার, মানবাধিকারকর্মী মো. নুর খান, চাকমা সার্কেলের রানি ও মানবাধিকারকর্মী ইয়ান ইয়ান, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্দোলনের সংগঠক সোহানুর রহমান এবং তরুণ সংগঠক মাহমুদা আক্তার (মনীষা)। মতবিনিময় সভা শেষে বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সোহানুর রহমান বলেন, নির্বাচন–পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মানবাধিকার, শ্রম অধিকার, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ডনাল্ড লু নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের কাছে নির্বাচন–পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিবেশ কেমন, নাগরিক সমাজ কোন অবস্থায় কাজ করছে ইত্যাদি।

তখন ডনাল্ড লুকে জানানো হয়, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্র সামগ্রিকভাবে সংকুচিত হয়েছে। এ পর্যায়ে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছিল। নির্বাচন হয়ে গেছে, সরকার তার মতো করে কাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে এমন চাপ কেন? তা যুক্তরাষ্ট্র বুঝে উঠতে পারছে না। এমনটা অপ্রত্যাশিত এবং উদ্বেগের বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন অতিথি। সেই আলোচনায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং পরবর্তী সময়ে প্রণয়ন করা সাইবার নিরাপত্তা আইনের প্রসঙ্গও আসে। এ বিষয়ে বিস্তারিত শোনার পর লু যুক্তরাষ্ট্রের তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গাজায় ফিলিস্তিনিদের গণহত্যা বন্ধ এবং এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভের প্রসঙ্গে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা প্রায় সবাই ফিলিস্তিন পরিস্থিতির নিন্দা জানান এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনিদের সহমর্মিতায় আয়োজিত বিক্ষোভ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আলোচনায় ডনাল্ড লু বাংলাদেশের শ্রম অধিকারের বিষয়টি তুলেন। তিনি এ বিষয়ে জানতে চান। শ্রম আইনের সংস্কার ও তৈরি পোশাকশিল্পের কর্মীদের বেতন নিয়ে আন্দোলনের সময় যেসব মামলা হয়েছিল, সেগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কেও ডনাল্ড লু জানতে চেয়েছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.net
Website Design By Kidarkar It solutions