যেভাবে সাধারণ ক্রিকেটার থেকে ট্রেন্ড হয়ে উঠলেন ইফতিখার

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ৩১৫ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তান সুপার লিগ শুরু হতে যাচ্ছে। তার আগেই এই টুর্নামেন্টের একটা বিজ্ঞাপন হয়ে দাঁড়িয়েছেন পাকিস্তানের হার্ড হিটার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ইফতিখার আহমেদ।

পাকিস্তান সুপার লিগ শুরুর আগে একটি এক্সিবিশন ম্যাচে ওয়াহাব রিয়াজের ছয় বলে ছয়টি ছক্কা মেরেছেন কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের ইফতিখার। ইফতিখার আহমেদ খুব সম্ভব তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা কাটাচ্ছেন, যেখানেই ব্যাট হাতে নামছেন পারফর্ম করছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ফরচুন বরিশালের হয়ে খেলেছেন তিনি। বাংলাদেশের এই ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের চলতি আসর মাতিয়ে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানে ফিরেছেন ইফতিখার আহমেদ।

ফরচুন বরিশালের হয়ে আরও একটি ম্যাচ খেলতে তার ফেরার কথা রয়েছে। বাংলাদেশে একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি ফিফটি করে গেছেন ইফতিখার। সেঞ্চুরি করার পর নিজের টুইটার আইডিতে ঘোষণা দিয়েছেন, ‘ইফতিম্যানিয়া’র কথা।

ইফতিম্যানিয়ার শুরু যেভাবে

ইফতিম্যানিয়া এখন রীতিমতো টুইটার ট্রেন্ড, পাকিস্তানে তো বটেই বিশ্বের ক্রিকেট অঙ্গনে এখন ইফতিম্যানিয়া একটা পরিচিত শব্দ। ফেব্রুয়ারির পাঁচ তারিখে ইফতিখার ৯৪ রানের অপরাজিত একটি ইনিংস খেলেছেন, যেখানে তিনি ছয় বলে ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন।

ক্রিকেট ইতিহাসে অনেক ব্যাটসম্যানেরই ছয় বলে ছয়টি ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড থাকলেও, পাকিস্তানের কোনও ব্যাটসম্যান আগে এই কীর্তি গড়তে পারেননি।

ইফতিখারের ইনিংস দেখা পর পাকিস্তানি ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ক্রিকেটার বাজিদ খান টুইট করেছেন, “ইফতিম্যানিয়া, ব্যাস এটাই।”

সম্প্রতি ওয়াহাব রিয়াজকে পাকিস্তানের একটি রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। ইফতিখারের ওই ছয় ছক্কার পরে পাকিস্তানের অনেক ক্রিকেট সমর্থক এখনই ওয়াহাব রিয়াজকে মন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বলছেন, যে মন্ত্রীর পদ তিনি এখনও গ্রহনই করেননি।

ম্যাচের পরে দেখা গেছে ওয়াহাব রিয়াজ ও ইফতিখার আহমেদ নিজেদের মধ্যে খুনসুটি করছেন।

ওয়াহাব রিয়াজ টুইট করে লিখেছেন, “অবিশ্বাস্য সব শট মেরেছে ইফতিখার। আমি নিজের জন্য হতাশ কিন্তু তোমার জন্য খুশি।”

ইফতিখারের ব্যাটিং দেখে এক ক্রিকেট সমর্থক টুইটারে মন্তব্য করেছেন, ”মনে হচ্ছে ইফতিখারের যুগে বাস করছি আমরা, লোকটা একটা মিশনে আছে বটে।”

বালোচিস্তানের কোয়েটা শহরে এই ছয় ছক্কার কীর্তি গড়ার পরে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী ইফতিখারকে পাঁচ লাখ পাকিস্তানি রুপীর চেক উপহার দিয়েছেন।

ইফতিখার প্রায় অর্ধযুগ আগে পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা শুরু করেছেন। ক্যারিয়ারের নানা উত্থান পতনের সময় পার করে ৩২ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে নিয়মিত হয়েছেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২২ এ ইফতিখার পাকিস্তানের সেরা পারফর্মারদের একজন ছিলেন, মূলত তার ছক্কা হাঁকানোর ক্ষমতার কারণে তাকে টি-টোয়েন্টি উপযোগী ক্রিকেটার ধরে নেয়া হয়।

ক্রিকেট বিশ্লেষক মাজহার আরশাদ মনে করেন, যদি পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলানো হয় তবে ওয়ানডেতেও দারুণ প্রভাব রাখতে পারবেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

ইফতিখারের ক্যারিয়ার

অভিষেক ম্যাচের প্রায় তিন বছর পরে ইফতিখার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্যানবেরায় ৩৪ বলে ৬২ রানের একটি অপরাজিত ইনিংস খেলে নজরে আসেন।

২০১৬ থেকে ২০১৯ এর মধ্যে মাত্র চারটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
তবে সম্প্রতি ইফতিখার নিজেকে ভিন্নভাবে চিনিয়েছেন।

প্রথমে ভারতের বিপক্ষে মেলবোর্নে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে ৩৪ বলে ৫১ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন, সে ম্যাচে চারটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন ইফতিখার। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তানকে জিততেই হবে এমন এক ম্যাচে টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পরে ইফতিখার ৩৫ বলে ৫১ রানের একটি ইনিংস খেলেন।

ইফতিখার বড় মঞ্চের পারফর্মার, তার তিনটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফিফটির দুটিই বিশ্বকাপে।

বিবিসি উর্দুর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ইফতিখার আহমেদের পারফর্ম্যান্স পাকিস্তানে নির্বাচকদের আবারও ভাবাচ্ছে, এবারে ওয়ানডে দলে সুযোগ হতে পারে তার।

এর আগে পাকিস্তানের হয়ে মাত্র ১০টি ওয়ানডে খেলেছেন ইফতিখার। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছিলেন ইফতিখার। চলতি বছর ভারতের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। পাকিস্তান দলে লোয়ার অর্ডারে হার্ড হিটিং ক্রিকেটারের একটা অভাব অনুভূত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেই জায়গাটায় ৩২ বছর বয়সী ইফতিখার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলেই।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.net
Website Design By Kidarkar It solutions